• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 3 November, 2026

দীর্ঘ ৬ বছর পর ফিরছে রাসনবমী, মদ্যপান ও বিশৃঙ্খলার ঠাঁই নেই নবদ্বীপের রাসে

২০২০ সালে করোনা অতিমারির জন্য নবদ্বীপে রাসনবমী উৎসব বন্ধ হয়ে যায়। পরের বছর আরং ও রাস কার্নিভাল ফিরলেও রাসনবমী পালনের অনুমতি আর দেওয়া হয়নি

দীর্ঘ ৬ বছর পর ফিরছে রাসনবমী, মদ্যপান ও বিশৃঙ্খলার ঠাঁই নেই নবদ্বীপের রাসে

Image: SNS

দীর্ঘ ৬ বছর পর ফের রাসনবমী (Raas Navami) উৎসব হতে চলেছে নবদ্বীপ। তবে এ বার উৎসবে থাকছে একাধিক কঠোর বিধিনিষেধ। মদ্যপান করে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ, বেপরোয়া নাচ কিংবা রাস্তায় যাতে কোনও রকম দুর্ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগী হয়েছে নবগঠিত কেন্দ্রীয় রাস কমিটি। তাদের স্পষ্ট বার্তা, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মর্যাদা বজায় রেখেই পালিত হবে রাসনবমী।

রাস উৎসবের বিশেষ আকর্ষণ রাসনবমীতে (Raas Navami) অংশ নিতে হলে পুজো কমিটিগুলিকে সম্পূর্ণ মদমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। পাশাপাশি মেনে চলতে হবে নির্দিষ্ট আচরণবিধি। কোনও কমিটি নিয়ম ভাঙলে পরবর্তী তিন বছর তাদের পুজো আয়োজনের অনুমতি বাতিল হতে পারে। সংশ্লিষ্ট পদাধিকারীদের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ করা হতে পারে।

সম্প্রতি সাংবাদিক বৈঠক করে এ বছরের উৎসবের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে নবগঠিত কেন্দ্রীয় রাস কমিটি। উৎসবের জনপ্রিয়তা বজায় রাখার পাশাপাশি শৃঙ্খলা ও শহরের ধর্মীয় পরিচিতিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাই জানিয়েছে তারা।

আরও পড়ুন: কালীপুজোয় রাত জেগে ঠাকুরদর্শন? দর্শনার্থীদের জন্য তিন রাত বিশেষ লোকাল চালাবে শিয়ালদহ ডিভিশন

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে করোনা অতিমারির জন্য নবদ্বীপে রাসনবমী উৎসব বন্ধ হয়ে যায়। পরের বছর আরং ও রাস কার্নিভাল ফিরলেও রাসনবমী পালনের অনুমতি আর দেওয়া হয়নি। উৎসবের সঙ্গে যুক্ত যুবকদের একাংশ বারবার রাসনবমী ফেরানোর দাবি জানালেও স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই পুরনো আয়োজন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, মদ্যপ অবস্থায় শোভাযাত্রা, নিয়ন্ত্রণহীন নাচ এবং বারবার সংঘর্ষের ঘটনায় ধর্মীয় উৎসবের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল। সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হচ্ছিল।

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর কেন্দ্রীয় রাস কমিটির নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে। নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর রাস উৎসবের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়কে অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেছে। নবদ্বীপের এই বিশেষ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি দেওয়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে তারা।

কমিটির নবনিযুক্ত সভাপতি শ্রুতিশেখর গোস্বামী বলেন, ‘নবদ্বীপের নিজস্ব রাস-ঐতিহ্যকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিতে আমরা বদ্ধপরিকর। কঠোর শৃঙ্খলার মধ্যে উৎসব আয়োজন করাই আমাদের লক্ষ্য, যাতে ভবিষ্যতে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি করা যায়।‘ তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার এই উৎসবকে বৃহত্তর স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য যথেষ্ট উদ্যোগ নেয়নি।

কমিটির প্রধান উপদেষ্টা তথা বিজেপির নদিয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অপর্ণা নন্দীও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, রাসনবমী ফিরলেও পুরনো উচ্ছৃঙ্খলতার পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া হবে না। তাঁর কথায়, ‘রাসনবমী ফিরবে, তবে তা সম্পূর্ণ মদমুক্ত পরিবেশে। ঢাক-তাসার তালে বেপরোয়া নাচ কিংবা নিয়ন্ত্রণহীন আচরণ কোনওভাবেই উৎসবের পরিচয় হতে পারে না। চৈতন্যধাম নবদ্বীপের আধ্যাত্মিকতা ও মর্যাদার প্রতিফলন ঘটতে হবে এই আয়োজনে।‘

আরও পড়ুন: Shyamakatha: বাংলার হংসেশ্বরী মন্দিরের পরতে পরতে রয়েছে তন্ত্রদর্শন এবং মানবচেতনার রহস্য

রাসনবমীতে (Raas Navami) অংশ নিতে ইচ্ছুক সব বারোয়ারি পুজো কমিটিকে লিখিত আবেদন জানাতে হবে। সেই আবেদনের সঙ্গে নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলার অঙ্গীকারও জমা দিতে হবে। শর্ত পূরণ না করলে কোনও কমিটিকে অনুমতি দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন কমিটির সম্পাদক সমীর রায়।

অন্যদিকে, ঐতিহ্যবাহী আরং এ বার একদিনের পরিবর্তে দু’দিন ধরে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিটির কার্যকরী সভাপতি জীবনকৃষ্ণ সেন জানান, প্রথম দিন অংশ নেবে ঐতিহ্যবাহী প্রতিমা এবং পুরনো বারোয়ারি কমিটিগুলি। দ্বিতীয় দিন জায়গা পাবে তুলনায় নতুন প্রতিমা এবং কার্নিভালে অংশগ্রহণকারী কমিটিগুলি।

উৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের কথাও জানিয়েছে কমিটি।রাসনবমীর শোভাযাত্রা ঘিরে অস্বস্তিতে থাকা নবদ্বীপের বাসিন্দাদের প্রত্যাশা একটাই—উৎসব ফিরুক, তবে বিশৃঙ্খলা নয়।

দেখুন: