• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 2 November, 2026

বিজেপি দপ্তরে জমা পড়েছে পাঁচ হাজার বায়োডাটা, পুরসভা নির্বাচন নিয়ে টানটান নাটক

সেই বায়োডাটাগুলি নিয়ে এখন স্ক্রিনিং চলছে। সেখানে সমাজের বিশিষ্ট নাগরিকরাও আছেন। তৃণমূলের কাউন্সিলরদের একটা

বিজেপি দপ্তরে জমা পড়েছে পাঁচ হাজার বায়োডাটা, পুরসভা নির্বাচন নিয়ে টানটান নাটক

KMC Election Photo-SNS

কলকাতা এবং হাওড়া পুরসভা নিয়ে এখন চলছে জোর প্রস্তুতি। ডিলিমিটেশনের পর ওয়ার্ড সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে কলকাতা পুরসভার ২০৯। এই ২০৯টি আসনে প্রার্থী নিয়ে এখন শাসক-বিরোধী সবপক্ষই গুঁটি সাজাচ্ছে। সেখানে বিজেপিতে দেদার জমা পড়ছে তৃণমূলের জয়ী কাউন্সিলরদের বায়োডাটা বলে সূত্রের খবর। তাঁরা বিজেপির টিকিটে এবার পুরসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান। সুতরাং এক্ষেত্রেও মমতা শিবিরকে ভাবতে হচ্ছে কাদের টিকিট দেবেন তাঁরা। কারণ বেশিরভাগ কাউন্সিলর এখন বিজেপি অফিসমুখী। অনেকে আবার গোপনভাবে বিজেপির টিকিট পেতে কাজ শুরু করে দিয়েছেন। তবে বিজেপি তাঁদের টিকিট দেয় কিনা সেটাই দেখার বিষয়।

এদিকে ২০২১ সালে পুরসভা নির্বাচনে জয়ী তৃণমূলের ১৩৭ জন প্রাক্তন কাউন্সিলরের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ৩৭ জনও মমতা শিবিরের হয়ে ভোটে লড়ার আগ্রহ দেখাননি। সেখানে একদিকে বিজেপির উপর চাপ বাড়ছে, অপরদিকে মমতা শিবিরের দুশ্চিন্তা বাড়ছে বলেই খবর। এখন তো আর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য মমতা শিবির থেকে টাকা পাওয়া যাবে না। নিজের গ্যাঁটের কড়ি খরচ করেই লড়তে হবে। কারণ দল এখন বিরোধী আসনে। এই কারণেই অনেকে বিজেপির দিকে ভিড়েছেন। নানা ওয়ার্ডে কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠরা বিজেপির নানা সরকারি কর্মসূচিতে ভিড়তে শুরু করেছেন। তার উপর বিজেপি রাজ্য অফিসের ড্রপবক্সেই কলকাতার ২০৯ ওয়ার্ডের জন্য পাঁচ হাজারের বেশি বায়োডাটা জমা পড়েছে বলে সূত্রের খবর।

অন্যদিকে সেই বায়োডাটাগুলি নিয়ে এখন স্ক্রিনিং চলছে। সেখানে সমাজের বিশিষ্ট নাগরিকরাও আছেন। তৃণমূলের কাউন্সিলরদের একটা বড় অংশ সেখানে বায়োডাটা জমা দিয়েছেন বলে খবর মিলেছে। এখন তাঁরা প্রাক্তন কাউন্সিলর। বিজেপির টিকিটে জিতে পুরপিতা ও পুরমাতা হতে চাইছেন। তার উপর অনেকেই শমীক ভট্টাচার্য, সুকান্ত মজুমদার, তাপস রায়, সজল ঘোষ, রীতেশ তিওয়ারির বাড়িতে গিয়ে নিজেদের বায়োডাটা দিয়ে আসছেন। আর ভোটে লড়বেন প্রাক্তন কাউন্সিলর রত্না শূর, রূপক গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো মমতার দলের সৈনিকরা। বেহালার প্রাক্তন বরো চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পাঁচবারের মুখ্য নির্বাচনী এজেন্ট অঞ্জন দাসের বক্তব্য, ‘ভোটে দাঁড়ালে হামলা হবে জেনেও মমতাদির প্রার্থী হব।’ বৈশ্বানর এবং তাঁর স্ত্রী চৈতালী দু’জনে বিদায়ী বোর্ডের মেয়র পারিষদ ও বরো চেয়ারম্যান ছিলেন। ভোটে প্রার্থী হওয়া নিয়ে বৈশ্বানরের বক্তব্য, ‘মমতাদি নির্দেশ দিলে আমায় দাঁড়াতে হবে।’

তাছাড়া বিজেপি এখন বায়োডাটা ঝাড়াই বাছাই করছে। তাঁদের নিজেদেরও বহু নেতা আছেন যাঁরা প্রার্থী হতে চান। তাঁদেরকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে সূত্রের খবর। ঋতব্রত শিবিরের পক্ষ থেকেও প্রার্থী দেওয়া হবে বলে জানা যাচ্ছে। যা নিয়ে ঋতব্রত শিবিরের পরিষদীয় দলের ডেপুটি লিডার সন্দীপন সাহা বলেছেন, ‘পুরসভার ভোটে কলকাতার ২০৯টি ওয়ার্ডেই প্রার্থী দেবে ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস।’ এই আবহে  মমতা তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘ক্ষমতার সঙ্গে থাকার প্রবণতায় অনেক প্রাক্তন কাউন্সিলর বিজেপির টিকিট পেতে চাইছেন।’