ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের তাণ্ডবে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা একেবারে বিপর্যস্ত। এর মধ্যে বঙ্গোপসাগরে ফের নতুন করে জন্ম নিচ্ছে ঘূর্ণিঝড়। আবহবিদরা এই ঘূর্ণিঝড়ের নাম দিয়েছে ‘মুরাসু’। দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত হওয়া গভীর নিম্নচাপটি পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি সোমবার অন্ধ্র উপকূলের মছলিপত্তনমের কাছে আছড়ে পড়তে পারে। তবে পশ্চিমবঙ্গে ‘মুরাসু’ তেমন দাপট দেখাতে পারবে না বলেই মনে করছেন আবহবিদরা।
দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করা ‘মুরাসু’ ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক বরাবর নিজের অভিমুখ বজায় রেখে এগোচ্ছে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর সূত্রের খবর, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগরের নিম্নচাপটি পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমে এগিয়ে বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।
আবহাওয়া দপ্তর সূত্রের খবর, রবিবার, ১ নভেম্বর দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের উপর ‘মুরাসু’ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। সোমবার, ২ নভেম্বর ‘মুরাসু’ সমুদ্র থেকে আরও প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করে অত্যন্ত শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে। এরপর তা ধীরে ধীরে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোবে।
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে ‘মুরাসু’ আছড়ে পড়তে পারে। নেলোর থেকে আরসাকুড়ির মধ্যবর্তী উপকূলবর্তী অঞ্চলে এটি আছড়ে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সময়ে ‘মুরাসু’-র মূল গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১০০-১১০ কিলোমিটার।
বাংলাদেশ এর আগে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের নাম রেখেছিল। তবে মুরাসু-র নাম রেখেছে ভারত। ‘মুরাসু’ একটি তামিল শব্দ। তামিলনাড়ুর ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের নাম ‘মুরাসু’। একসময় তা বাজিয়ে যুদ্ধ বা বড় কোনও সংবাদ দেওয়া হত জনগণকে। এর বাজনা শুনলেই বোঝা যেত, বড় কোনও খবর আসছে।
আরও পড়ুন: কালীপুজো কি ভেস্তে যেতে পারে ঘূর্ণিঝড়ে? নতুন নিম্নচাপও তৈরি হতে চলেছে
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, মলদ্বীপ, মায়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ইয়েমেন, এই ১৩টি দেশ প্রত্যেকে ১৩টি করে নাম প্রস্তাব করে। এই ১৬৯টি নাম নিয়ে বর্ণানুক্রমিক তালিকা তৈরি করা হয়। সেই তালিকা থেকেই বাছা হয় ঘূর্ণিঝড়ের নাম।




