• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 1 November, 2026

চোরবাগানের ঘটনা নিয়ে লাগাতার প্রতিবাদ, কুণালের বিরুদ্ধে মামলা করল কলকাতা পুলিশ

এতে তিনি বিন্দুমাত্র চিন্তিত নন বলেই জানিয়েছেন। বরং চোরবাগান পুজো কমিটির মাথায় থাকা বিজেপি বিধায়ক, বিজেপি জেলা সভাপতি

চোরবাগানের ঘটনা নিয়ে লাগাতার প্রতিবাদ, কুণালের বিরুদ্ধে মামলা করল কলকাতা পুলিশ

MLA Kunal Ghosh Photo-SNS

দুর্গাপুজোর সপ্তমীর সন্ধ্যা অভিশপ্ত হয়ে উঠেছিল। চোরবাগান সার্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল। উৎসবের মরশুমে মৃত্যুমিছিল দেখেছিল মহানগরী। যে ঘটনা দেখে নাগরিকরা শিউরে উঠেছিলেন। যে ঘটনার তদন্ত এখন চলছে। এই আবহে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। লাগাতার প্রতিবাদ করে চলেছেন তিনি। সরকারের এবং পুলিশের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন তিনি। আর চোরবাগান পুজোমণ্ডপের ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করল কলকাতা পুলিশ। গিরিশ পার্ক থানায় এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।

একাধিকবার নানা অভিযোগে কুণাল ঘোষকে একাধিক থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছিল। সেসব জায়গায় গিয়ে তদন্তের মুখোমুখি হয়েছেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক। তারপর বেরিয়েও এসেছেন। কিন্তু চোরবাগান কাণ্ড নিয়ে রাজনীতির ময়দানে সবচেয়ে বেশি সরব কুণাল ঘোষ। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের তুলনায় পথেঘাটে, সংবাদমাধ্যমে এবং সমাজমাধ্যমে যিনি সবচেয়ে বেশি সরব তার নাম কুণাল ঘোষ। চোরবাগানের পুজোমণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের এবং নেপথ্যে যেসব প্রভাবশালীরা রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর তদন্তের দাবিতে গিরিশ পার্ক থানায় তুমুল বিক্ষোভ দেখিয়েছিল তৃণমূল, বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেস। কুণাল ঘোষের দাবি, ওই প্রতিবাদের জেরেই তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা শুরু করেছে পুলিশ এবং তাঁকে আইনি নোটিসও পাঠানো হয়েছে।

এতে তিনি বিন্দুমাত্র চিন্তিত নন বলেই জানিয়েছেন। বরং চোরবাগান পুজো কমিটির মাথায় থাকা বিজেপি বিধায়ক, বিজেপি জেলা সভাপতি এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভাইপোকে গ্রেপ্তার করা উচিত বলে মনে করেন বেলেঘাটার বিধায়ক। কেন তাঁদের তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে না? পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দাকে কেন পদ থেকে সরানো হচ্ছে না? তদন্ত নিরপেক্ষভাবে হবে কিনা? বলে প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন কুণাল। এমনকী এই ঘটনার সত্যতা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। এসব কারণে পুলিশ বেজায় চাপে পড়ে গিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তাই এই তলব বলে দাবি কুণালের।

দুর্গাপুজোর সময় এমন মৃত্যুমিছিল আগে কখনও ঘটেনি। এটা দুর্গাপুজোর ইতিহাসে কালো দিন বলে সমাজমাধ্যমে বারবার পোস্ট করেছেন তিনি। পুলিশের এই মামলা নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, ‘এত মানুষের মৃত্যুর পরেও যেখানে মূল প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে ন্যূনতম কোনও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলো না, অথচ অপরাধীদের আড়াল করে উল্টে প্রতিবাদীদের বিরুদ্ধেই মামলা ঠুকে দেওয়া হচ্ছে! এভাবেই আসলে ভয় দেখিয়ে সবার কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা চলছে।’