• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 1 November, 2026

গলায় ছুরি ঠেকিয়ে গৃহবধূকে গণধর্ষণ সোনারপুরে, গ্রেপ্তার এক, মূল অভিযুক্ত পলাতক

লাগাতার ধর্ষণ করার পর ওই বধূকে সেখানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। অসুস্থ অবস্থায় কোনওরকমে ওই ঘর থেকে বেরিয়ে

গলায় ছুরি ঠেকিয়ে গৃহবধূকে গণধর্ষণ সোনারপুরে, গ্রেপ্তার এক, মূল অভিযুক্ত পলাতক

Housewife Gangrape Photo-Representative

কালীপুজোর আগেই গণধর্ষণের অভিযোগ উঠল দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে। এক গৃহবধূর গলায় ছুরি ধরে খুনের হুমকি দিয়ে গণধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনা সামনে আসতেই তুমুল আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। গৃহবধূর স্বামীকে মারধর করে খুনের হুমকি দেওয়া হয়। তারপর স্ত্রীকে গণধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ উঠল সুভাষগ্রামে! আত্মীয়ের বাড়িতে সপরিবারে বেড়াতে এসেছিলেন বধূ। সেখানেই তাঁর গলায় ছুরি ধরে খুনের হুমকি দেওয়া হয়। তারপর গণধর্ষণ করে কয়েকজন বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডে। তদন্তে নেমে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত-সহ বাকিরা পলাতক।

এই ঘটনা সরাসরি নারী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। রবিবাসরীয় দিনে এটাই এখন ওই এলাকায় চর্চিত হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, গত শুক্রবার স্বামীর সঙ্গে সুভাষগ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আসেন স্ত্রী। ওই দিনই রাত দেড়টা নাগাদ স্বামীর সঙ্গে ওই এলাকাতেই অন্য একজনের বাড়িতে ঘুমোতে যান তিনি। তখন পাঁচজন যুবক তাঁদের পিছু নেয়। তারপর ওই দম্পতির পথ আটকানো হয়। আর স্বামীকে বেধড়ক মারধর করা হয়। ওই পরিস্থিতিতে তাঁর স্ত্রী চিৎকার করলে ছুরি বের করে তাঁর গলায় ঠেকানো হয়। আর ওই বধূকে একটি ফাঁকা ঘরে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। তারপর ওই বধূ এবং তাঁর স্বামীকে খুনের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

লাগাতার ধর্ষণ করার পর ওই বধূকে সেখানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। অসুস্থ অবস্থায় কোনওরকমে ওই ঘর থেকে বেরিয়ে স্বামীর কাছে পৌঁছয় নির্যাতিতা স্ত্রী। তারপর গোটা ঘটনা পুলিশকে জানিয়েছেন ওই বধূ। স্বামীকে নিয়ে রাতে অন্য একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। শনিবার সোনারপুর থানায় গোটা ঘটনা জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই দম্পতি। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে গণধর্ষণের মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এই ঘটনার পর থেকেই পলাতক মূল অভিযুক্ত-সহ সাঙ্গপাঙ্গরা। তবে তদন্তে নেমে একজন অভিযুক্তকে পাকড়াও করেছে পুলিশ। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

তাছাড়া এই ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও মূল অভিযুক্ত-সহ বাকিদের ধরা যায়নি। যা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সুভাষগ্রাম স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় কিছুদিন ধরেই অসামাজিক কার্যকলাপ শুরু হয়েছে। প্রত্যেকদিন রাতে ওই এলাকায় বাইরে থেকে যুবকরা এসে মদ-গাঁজার আসর বসায়। এইসব ঘটনা স্থানীয় কাউন্সিলর এবং পুলিশকে জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনও লাভ এই ঘটনার পর থেকে নিজেদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কিত এলাকার বাসিন্দারা।