বামফ্রন্ট সরকারের জমানায় শক্ত ঘাঁটি ছিল পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা। আর এই গড়বেতায় শনিবার দাঁড়িয়ে সরাসরি সিপিএম নেতৃত্বকে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের নাম করে মুখ্যমন্ত্রী কড়া বার্তা দিয়েছেন, বামফ্রন্ট জমানার সমস্ত পুরনো ফাইল এবং অন্ধকার অধ্যায়ের মামলাগুলি আবার খোলা হবে। এমনকী তৃণমূল এবং সিপিএম একে অপরের পরিপূরক হয়ে বাংলায় পুরনো জমানার নৈরাজ্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে বলেও তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল আমলের নানা দুর্নীতি, হিংসার ঘটনার ফাইল খোলার বার্তাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এদিকে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময়ে গোলমাল থেকে শুরু করে ১৭ বছর আগের রাজনৈতিক হিংসা, তৃণমূল জমানা থেকে বাম জমানার সব মামলার হিসেব এবার হবে বলে ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল এবং সিপিএমকে এক সারিতে বসিয়ে জঙ্গলমহল থেকে তাঁর ঘোষণা, নন্দীগ্রামের ‘অপারেশন সূর্যোদয়’ ফাইল এবার খোলা হবে। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, ‘মহম্মদ সেলিম আপনার এত সাহস যে আপনি বলছেন, বিজেপি নাকি সিপিএমকে আক্রমণ করতে গিয়েছিল আর জনগণ তার প্রতিরোধ করেছে! আমি প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করে বলে গেলাম, ছোট আঙারিয়া থেকে শুরু করে ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম এবং গড়বেতার যে সমস্ত সিপিএম পার্টি অফিস থেকে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নন্দীগ্রামে রক্তাক্ত সূর্যোদয় ঘটানো হয়েছিল, সেই সমস্ত পুরনো মামলার ফাইল আমি রিওপেন করব। একজনকেও ছাড়া হবে না।’
অন্যদিকে এখন রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা তৃণমূল আমলে গঠিত ঝাড়গ্রাম জেলার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই গড়বেতায় শনিবার সভা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী চরম বার্তা দেন, ‘২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের দিন প্রণত টুডুর মাথা ফাটিয়েছিল মনে আছে। ওই দিনের এফআইআর কপিটা দেবেন আমাকে। ওই ঘটনায় কতগুলি গ্রেপ্তার হয়েছে দেখব। যারা গ্রেপ্তার হয়নি, তাদের প্রত্যেককে চুলের মুঠি ধরে জেলে ঢোকাব। কেশপুরেও একইভাবে অত্যাচার করেছে। পুরুলিয়া থেকে ফেরার পথে চন্দ্রকোনায় আমি আক্রান্ত হয়েছিলাম। সারারাত থানায় বসেছিলাম। সেদিন অনেকেই আক্রান্ত হয়েছিলেন। আমি সব মনে রেখেছি। আমি আগেও ওদের জবাব দিয়েছি। তপন-সুকুর একসময় বলেছিল, শুভেন্দু অধিকারী ঢুকলে পা ভাঙব। আমি তিনদিনের মধ্যে চন্দ্রকোনা রোডে এসে সুশান্ত ঘোষের বুকের উপরে দাঁড়িয়ে সভা করে গিয়েছিলাম।’
তাছাড়া মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পর বামেদের উপর চাপ বাড়ে কিনা সেটাই এখন দেখার। গড়বেতার গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও কর্মসূচি থেকে সুর চড়ান মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, ‘এখন এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে এটাই স্পষ্ট যে, যাহাই তৃণমূল, তাহাই সিপিএম। দুই দল মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছে এবং বাংলায় আবার সেই পুরনো দিনের জঙ্গলরাজ ও নৈরাজ্য ফিরিয়ে আনতে চাইছে। ছোট আঙারিয়া কিংবা নন্দীগ্রাম, ‘হামলায় জড়িতদের’ রেয়াত করা হবে না। পুলিশ সুপার ম্যাডামকে নির্দেশ দিয়ে যাব, ওদের খুঁজে আনতে হবে। আমি জেলে দেখতে চাই। আগামী বাজেটে গড়বেতাকে মহকুমার ‘স্বীকৃতি’ দেওয়া হবে।’




