ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের দাপটে তোলপাড় অন্ধ্রপ্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে দ্রুত বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করা, ত্রাণের কাজ জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু। সেই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রক্রিয়াও দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক ও বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ত্রাণ ও পুনরুদ্ধারের কাজ চালিয়ে যেতে হবে।
সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক রিপোর্ট বৃহস্পতিবারই জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন আধিকারিকেরা। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত চিহ্নিত করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কাজেও গতি আনার নির্দেশ দিয়েছেন নাইডু। ফসলের ক্ষতি বাদে অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশ ইতিমধ্যেই জারি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রশাসনের তৎপরতার প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এর পাশাপাশি, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দ্রুত পদক্ষেপ এবং সঠিক পরিকল্পনার উপর জোর দেন তিনি। নাইডু জানান, এল নিনোর প্রভাবে রায়লসীমা অঞ্চলে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের কারণে রাজ্যের একাধিক অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রায়লসীমায় চাষের জন্য পরিস্থিতি অনুকূল নয়। উত্তর অন্ধ্র, উপকূলবর্তী জেলা এবং গোদাবরী নদী সংলগ্ন এলাকায় জমির ফসল ও নারকেল গাছের ক্ষতি হয়েছে। রাস্তার উপরে উপড়ে পড়া গাছ দ্রুত সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এর পাশাপাশি, জলাধার ও খালে যাতে ভাঙন না ধরে, সে জন্য আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছেন।

জল জমে থাকা জমিতে ফসল বাঁচানো সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখতে কৃষি আধিকারিক, বিজ্ঞানী ও পড়ুয়াদের কাজে লাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। উপড়ে পড়া নারকেল গাছ ও অন্যান্য উদ্যানজাত ফসলের গাছ পুনরায় রোপণ করা যায় কি না, তা পরীক্ষা করে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও সহায়তা প্রকল্প চালুর কথাও বলেছেন তিনি।
আরও পড়ুন: অন্ধ্রতে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের তাণ্ডব, মৃত ৫, ক্ষতিগ্রস্ত ৩১টি বাড়ি
ক্ষয়ক্ষতির হিসাব দ্রুত তৈরি করতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উপর জোর দিয়েছেন নাইডু। তাঁর নির্দেশ, ত্রাণ ও পুনরুদ্ধারের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে নিয়মিত জানাতে হবে। যাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্তরা প্রয়োজনীয় সাহায্য পান।




