• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 29 October, 2026

ফেসবুক পোস্টেই ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত? হাওড়ার মামলা খারিজ চেয়ে আদালতে কুণাল

বাক্‌স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার নিয়েও আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন কুণাল। সংবিধানের ১৯(১)(ক) অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে তাঁর বক্তব্য, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিরঙ্কুশ না হলেও কোনও বক্তব্যকে আপত্তিকর মনে হলেই ফৌজদারি আইন প্রয়োগ করা যায় না। অভিযোগের তথ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ধারাগুলির অপরিহার্য শর্তের সামঞ্জস্য থাকা দরকার।

ফেসবুক পোস্টেই ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত? হাওড়ার মামলা খারিজ চেয়ে আদালতে কুণাল

Photo-SNS

দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনে ক্রেনের ব্যবহার নিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট। সেই পোস্টের ক্যাপশনেই ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত এবং সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ। আর তা ঘিরেই ফৌজদারি মামলার মুখে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। এবার হাওড়া থানায় দায়ের হওয়া সেই মামলা খারিজের আর্জি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তিনি। কুণালের দাবি, অভিযোগের ভিত্তিতে যে ধারাগুলি প্রয়োগ করা হয়েছে, তার প্রয়োজনীয় আইনি শর্তই পূরণ হচ্ছে না।

মামলাটিকে ‘মিথ্যা, বিদ্বেষপ্রসূত ও হয়রানিমূলক’ বলেও দাবি করেছেন তিনি। কুণালের আবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৩ অক্টোবর হাওড়া থানায় তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৯৯, ৩০২ এবং ৩৫৩(৩) ধারায় মামলা দায়ের হয়। অভিযোগ, দশমীর দিন রামকৃষ্ণপুর ঘাটে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের সময় ক্রেনের সাহায্যে প্রতিমা নামানোর ছবি-সহ একটি পোস্ট নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

অভিযোগকারীর দাবি, পোস্টের ক্যাপশনে সনাতনী ধর্মীয় রীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিদ্রূপ করা হয়েছে। তাতে ভক্তদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লাগতে পারে এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। তবে কুণালের বক্তব্য, কোনও পোস্টের বিষয়বস্তু নিয়ে কারও আপত্তি থাকলেই তা ফৌজদারি অপরাধ হয়ে যায় না।

তাঁর দাবি, ধর্মীয় অনুষ্ঠান নিয়ে ছবি বা মন্তব্য প্রকাশ করাকে ইচ্ছাকৃত ও বিদ্বেষমূলক ধর্মীয় অপমান হিসেবে গণ্য করতে হলে আইনের নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হওয়া প্রয়োজন। এই মামলায় সেই অপরিহার্য উপাদানগুলির স্পষ্ট উল্লেখ নেই বলেই আদালতে দাবি করেছেন তিনি। নিজের আবেদনে সুপ্রিম কোর্টের মহেন্দ্র সিং ধোনি বনাম ইয়েরাগুন্তলা শ্যামসুন্দর মামলার রায়েরও উল্লেখ করেছেন তৃণমূল বিধায়ক।

কুণালের যুক্তি, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত কিংবা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা ছড়ানোর অভিযোগে মামলা চালানোর আগে সংশ্লিষ্ট অপরাধের আইনি উপাদানগুলি খতিয়ে দেখা জরুরি। বক্তব্যের প্রকৃত অর্থ, তার প্রেক্ষাপট এবং অপরাধমূলক অভিপ্রায়ের প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ বলে আবেদনে উল্লেখ করেছেন তিনি।

বাক্‌স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার নিয়েও আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন কুণাল। সংবিধানের ১৯(১)(ক) অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে তাঁর বক্তব্য, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিরঙ্কুশ না হলেও কোনও বক্তব্যকে আপত্তিকর মনে হলেই ফৌজদারি আইন প্রয়োগ করা যায় না। অভিযোগের তথ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ধারাগুলির অপরিহার্য শর্তের সামঞ্জস্য থাকা দরকার।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগের তদন্তকারী আধিকারিক ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ৩৫(৩) ধারায় কুণালকে নোটিশ পাঠান। চার দিনের মধ্যে তদন্তকারী আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই নোটিশ পাওয়ার পরেই মামলার কথা জানতে পেরেছেন বলে আবেদনে জানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন: বিয়ের আশ্বাসে জেলমুক্তির পথ! ২১ বছরের ছাত্রকে ৬ সপ্তাহের জামিন হাইকোর্টের

এবার হাইকোর্টের কাছে কুণালের আবেদন, হাওড়া থানায় দায়ের হওয়া মামলার যাবতীয় কার্যক্রম খারিজ করা হোক। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশেরও আর্জি জানিয়েছেন তিনি। চলতি সপ্তাহেই মামলাটির শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।