উপনির্বাচনে জয়ের পরে বিধানসভায় শপথ নিলেন রেজিনগরের শাখারভ সরকার ও নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক হাসিরানি রথ। রাজ্যপালের অনুমতিক্রমে অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসু তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করান। অনুষ্ঠানে দুই নবনির্বাচিত বিধায়ককে শুভেচ্ছা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে শপথগ্রহণের মঞ্চের সৌজন্য দ্রুতই বদলে গেল রাজনৈতিক বার্তায়। উপনির্বাচনের ফল, সংখ্যালঘু ভোট, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয় থেকে চোরবাগান কাণ্ড, একাধিক প্রসঙ্গে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী।
বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময়ের আবহে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় হাওড়ার তৃণমূল বিধায়ক অরূপ রায় ও আখরুজ্জামানকেও। দুই নবনির্বাচিত বিধায়ককে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি উপনির্বাচনের পরে বিধানসভার সব সদস্যকে একত্রিত করার উদ্যোগের জন্য অধ্যক্ষকে ধন্যবাদ জানান শুভেন্দু। সংশ্লিষ্ট দুই কেন্দ্রের ভোটারদেরও তিনি শুভেচ্ছা জানান।
এরপরেই রাজনৈতিক বক্তব্যে উঠে আসে উপনির্বাচনের ফলাফল। রেজিনগরে সংখ্যালঘু ভোটারদের একাংশ বিজেপিকে সমর্থন করেছেন বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এতদিন সংখ্যালঘুদের ভুল বুঝিয়ে রাখা হয়েছিল। ভোটের ফলেই সেই ছবি স্পষ্ট হয়েছে। রেজিনগরে প্রায় ৩৫ হাজার সংখ্যালঘু পরিবারের বিজেপিকে ভোট দেওয়ার দাবি করেন তিনি।
সেই সঙ্গে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে উপকৃত সংখ্যালঘু পরিবারের প্রসঙ্গও তিনি তোলেন। শুভেন্দুর দাবি, রেজিনগরের প্রায় ৩০০টি বুথের মধ্যে ২০০টি বুথে প্রায় ৭৩ হাজার সংখ্যালঘু ভোটার রয়েছেন। যাঁদের ভোট বিজেপি পেয়েছে। রাজনৈতিক আক্রমণের নিশানায় ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বয়স হয়েছে। তিনি দু’বার পরাজিত হয়েছেন। তাঁর পরামর্শ, এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশ্রাম নেওয়া উচিত। নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থী হওয়ার প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে।
উপনির্বাচনে হিংসার ঘটনা না ঘটার বিষয়টি উল্লেখ করে দুই কেন্দ্রের ভোটকে ঘিরে রাজনৈতিক বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী। চোরবাগান কাণ্ড প্রসঙ্গে শুভেন্দুর বক্তব্য, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বাধীন তদন্তের রিপোর্ট তিন মাসের মধ্যে জমা পড়ার কথা। অভিযুক্তদের কেউ ছাড় পাবেন না বলেও তিনি কড়া বার্তা দেন।
অন্যদিকে, চন্দ্রনাথ রথের খুনের ঘটনা এবং এনকাউন্টার-সংক্রান্ত প্রসঙ্গেও বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, সিবিআই তদন্তে ইতিমধ্যেই একাধিক তথ্য সামনে এসেছে। গ্রেপ্তারও হয়েছে। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা নথি চুরির অভিযোগ প্রসঙ্গে শুভেন্দু জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের হলে তদন্ত সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হবে।
বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও দুই নবনির্বাচিত বিধায়ককে শুভেচ্ছা জানান। ফলে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের শুরুতে সৌজন্যের ছবি থাকলেও, দিনের শেষে বিধানসভায় উপনির্বাচনের ফল এবং রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘিরে শাসক-বিরোধী তরজাই হয়ে উঠল আলোচনার কেন্দ্র।




