• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 27 October, 2026

এমবাপে-ইয়ামালের ‘বঞ্চনা’ নিয়ে সরব ভক্তরা! ব্যালন ডি’অরে কেনের সাফল্য নিয়ে বিতর্ক, রয়েছে পাল্টা যুক্তিও

ব্যালন ডি’অর ঘোষণার পর বিতর্ক শুরু হওয়া নতুন কিছু নয়। যাঁর হাতে পুরস্কার ওঠে না, তাঁর ভক্তদের একাংশের দাবি থাকে

এমবাপে-ইয়ামালের ‘বঞ্চনা’ নিয়ে সরব ভক্তরা! ব্যালন ডি’অরে কেনের সাফল্য নিয়ে বিতর্ক, রয়েছে পাল্টা যুক্তিও

ব্যালন ডি’অর ঘোষণার পর বিতর্ক শুরু হওয়া নতুন কিছু নয়। যাঁর হাতে পুরস্কার ওঠে না, তাঁর ভক্তদের একাংশের দাবি থাকে—প্রিয় তারকাকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

২০২৬-এর ব্যালন ডি’অরেও তার ব্যতিক্রম হল না। হ্যারি কেনের হাতে সোনার বল ওঠার পরেই কিলিয়ান এমবাপে ও লামিনে ইয়ামালের ফ্যানদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, যোগ্যতম ফুটবলার কি আদৌ পুরস্কার পেলেন?

তবে মরসুমের পরিসংখ্যান বিচার করলে কেনের জয়ের পক্ষে রয়েছে জোরালো যুক্তি।

গোল-অ্যাসিস্টে এগিয়ে কেন

ব্যালন ডি’অর দেওয়ার ক্ষেত্রে মূলত দু’টি বিষয় বিবেচনা করা হয়—ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স এবং দলের সাফল্যে ফুটবলারের অবদান। সেই মাপকাঠিতে গত মরসুমে কেনের পরিসংখ্যান নজরকাড়া। ক্লাব ও দেশের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে গোল করা এবং গোলে সহায়তা—দু’টি বিভাগেই তাঁর অবদান ৮১। বুন্দেশলিগা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতাও হন তিনি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে করেন ১৪টি গোল। পাশাপাশি ইংল্যান্ডের হয়েও বিশ্বকাপে নজর কাড়েন।

কেনকে শুধু গোলদাতা হিসেবে দেখলে অবশ্য তাঁর সম্পূর্ণ অবদান বোঝা যাবে না। সতীর্থদের সঙ্গে বোঝাপড়া, আক্রমণ তৈরির ক্ষমতা এবং মাঠে কৌশলগত ভূমিকার জন্যও তিনি গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ ৬৫ ম্যাচের মরসুমে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দলকে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সাহায্য করেছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক।

 

 

ইয়ামালের সাফল্যও কম নয়

বার্সেলোনার তরুণ তারকা ইয়ামালের মরসুমও ছিল দুর্দান্ত। ২৫টি গোলের পাশাপাশি ২১টি গোলে সহায়তা করেছেন তিনি। স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ও তাঁর পক্ষে বড় যুক্তি। কিন্তু একটি দলের সাফল্যের কৃতিত্ব শুধু একজন ফুটবলারকে দেওয়া যায় না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

স্পেনের মাঝমাঠে রদ্রির ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাউ কুবার্সিও নজর কেড়েছেন রক্ষণে। মিকেল ওইয়ারসাবাল ছিলেন দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা, দানি ওলমো সর্বাধিক গোলে সহায়তা করেছেন এবং ফাইনালে জয়সূচক গোল করেন ফেরান তোরেস। ফলে স্পেনের সাফল্য ছিল সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।

ইয়ামাল নিজেও মরসুমে দুর্দান্ত খেলেছেন। তবে দলের বিশ্বকাপ জয়ের একমাত্র কারিগর তিনি ছিলেন, পরিসংখ্যান এমন দাবি সমর্থন করে না।

এমবাপে দ্বিতীয়, তবু কেন পিছিয়ে?

রিয়াল মাদ্রিদের এমবাপে ব্যালন ডি’অরে দ্বিতীয় হয়েছেন। তাঁর গোল করার ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন নেই। কিন্তু মরসুমে গোল ও গোলে সহায়তার সম্মিলিত সংখ্যায় কেনের ৮১-এর পিছনে ছিলেন ফরাসি তারকা। দলগত সাফল্যের ক্ষেত্রেও পিছিয়ে পড়েছেন তিনি। রিয়াল মাদ্রিদ কিংবা ফ্রান্স—কোনও দলের হয়েই বড় কোনও খেতাব জিততে পারেননি এমবাপে।

তবে তাঁর মরসুমও এমন ছিল, যা অন্য কোনও বছরে ব্যালন ডি’অর জয়ের জন্য যথেষ্ট হতে পারত। কিন্তু এ বার কেনের ধারাবাহিকতা ও পরিসংখ্যান প্রতিদ্বন্দ্বীদের ছাপিয়ে গিয়েছে।

পরিসংখ্যান কেনের পক্ষেই

ইয়ামাল ও এমবাপে—দু’জনেই প্রজন্মের সেরা প্রতিভাদের মধ্যে পড়েন। তাঁদের সমর্থকদের হতাশা তাই অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স এবং দলগত সাফল্য—দু’টি মাপকাঠিতেই বিচার করলে কেনের জয়কে অযৌক্তিক বলা কঠিন। অন্তত পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫-২৬ মরসুমে ফুটবলের সর্বোচ্চ স্তরে ধারাবাহিকতার যে নজির তিনি গড়েছেন তিনি, তা উপেক্ষা করা সম্ভব ছিল না।