• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 26 October, 2026

৪ নম্বর অভিযুক্ত জ্ঞানেশ কুমারকে সরিয়ে দিন মোদী, ৩০ সেকেন্ডে থামবে বিক্ষোভ: দিল্লির ব্যবসায়ীদের বার্তা রাহুলের

১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানের সমাবেশ পিছনোর আর্জি দিল্লির ব্যবসায়ীদের। পাল্টা রাহুল গান্ধীর দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে বরখাস্ত করলেই ৩০ সেকেন্ডে থামবে ‘এসআইআর’ বিক্ষোভ। রাজনীতির ময়দানে তুমুল উত্তাপ

৪ নম্বর অভিযুক্ত জ্ঞানেশ কুমারকে সরিয়ে দিন মোদী, ৩০ সেকেন্ডে থামবে বিক্ষোভ: দিল্লির ব্যবসায়ীদের বার্তা রাহুলের

LOP Rahul Gandhi With Students (ANI)

ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ (Special Intensive Revision-SIR) ঘিরে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র (INDIA Bloc) ধারাবাহিক আন্দোলনে দিল্লির ব্যবসাবাণিজ্য মার খাচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাজধানীর বণিকসভা। তার জবাবে এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (PM Narendra Modi) কোর্টে বল ঠেললেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। সোমবার সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ দিল্লির ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে এক নাটকীয় বার্তায় রাহুল স্পষ্ট জানান, প্রধানমন্ত্রী মোদীকে বলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (CEC Gyanesh Kumar) পদ থেকে বরখাস্ত করানো হোক, তা হলেই মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে সমস্ত বিক্ষোভ থেমে যাবে।

আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ডাকা মহাসমাবেশ (Ramlila Maidan Rally) পিছিয়ে দেওয়ার জন্য বণিকসভার আবেদনের প্রেক্ষিতেই রাহুলের এই আক্রমণাত্মক মন্তব্য। একই দিনে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও (Mallikarjun Kharge) নির্বাচন কমিশনের ব্যবহৃত সফটওয়্যারের গোপনীয়তা এবং উত্তরপ্রদেশের পিলভিটে ভোটার তালিকায় বিপুল গরমিলের অভিযোগ তুলে মোদী সরকারকে তীব্র নিশানা করেছেন।

রাহুলের ‘৩০ সেকেন্ডের’ ফর্মুলা

উৎসবের মরসুমে ধারাবাহিক মিছিল, অবরোধ এবং তার জেরে পুলিশি বিধিনিষেধে মধ্য দিল্লির কনট প্লেস-সহ (Connaught Place) বিস্তীর্ণ এলাকার ব্যবসা বাণিজ্যে বিপুল ক্ষতি হচ্ছে– এই মর্মে সম্প্রতি ‘ইন্ডিয়া’ জোটের কাছে একটি আবেদন জানায় দিল্লির বণিকসভা ‘চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’ (Chamber of Trade and Industry)। তাদের অনুরোধ ছিল, দীপাবলি ও উৎসবের কেনাকাটার কথা মাথায় রেখে ১ নভেম্বরের রামলীলা ময়দানের সমাবেশটি যেন ১০ নভেম্বরের পর করা হয়।

সোমবার সেই আবেদনের জবাব দিতে গিয়েই কেন্দ্র সরকারের ঘাড়ে দোষ চাপান রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, ‘এসআইআর’-বিরোধী আন্দোলন রুখতে কেন্দ্রীয় সরকারই মেট্রো পরিষেবা বন্ধ করে, রাস্তা সিল করে এবং কড়া বিধিনিষেধ চাপিয়ে রাজধানীর ব্যবসাবাণিজ্য পণ্ড করছে। এক্স হ্যান্ডলে রাহুল লেখেন, দিল্লির প্রতিটি ব্যবসায়ীকে বলছি– আমরা আপনাদের ভালোবাসি এবং আপনাদের কথা শুনতে পাচ্ছি। কিন্তু এর পরেই ‘ভোট চুরি’র বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করে তাঁর সংযোজন, চুরি হওয়া একটি ভোট (Stolen Vote) আপনাদের ব্যবসা, সঞ্চয় এবং আপনাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎকেও বিপন্ন করে তুলতে পারে। মোদীকে বলুন ৪ নম্বর অভিযুক্ত জ্ঞানেশ কুমারকে (Accused No. 4 Gyanesh Kumar) বরখাস্ত করতে, তা হলেই ৩০ সেকেন্ডে বিক্ষোভ থেমে যাবে।

সফটওয়্যার ঘিরে তোপ খাড়গের

রাহুলের পাশাপাশি সোমবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ইস্তফার দাবিতে সরব হন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও। তাঁর অভিযোগ, ‘ভোট চুরি’র অজস্র প্রমাণ সামনে আসা সত্ত্বেও মোদী সরকার যে কোনও উপায়ে জ্ঞানেশ কুমারকে আড়াল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

কমিশনের বিরুদ্ধে এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে খাড়গে জানান, ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ায় ঠিক কোন সফটওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছে, তথ্যের অধিকার আইনে (Right to Information-RTI) তা জানতে চাওয়া হলে নির্বাচন কমিশন ‘ট্রেড সিক্রেট’ বা ‘ব্যবসায়িক গোপনীয়তা’র (Trade Secrets) অজুহাত দেখিয়ে তথ্য দিতে অস্বীকার করেছে। উল্লেখ্য, রবিবারই কংগ্রেসের তরফে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, নির্বাচন কমিশন তাদের ‘ইসিআইনেট’ (ECINET Software) সফটওয়্যার সংক্রান্ত তথ্য গোপন করছে, যাতে ‘এসআইআর’ চলাকালীন ‘বিশাল ও কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত কারচুপি’ (Centralised Manipulation) ধামাচাপা দেওয়া যায়।

উত্তরপ্রদেশে ১৬ লক্ষ ফর্ম: তদন্তের নির্দেশ খোদ সিইও-র

শুধুমাত্র সফটওয়্যার নয়, উত্তরপ্রদেশের ভোটার তালিকা সংশোধনের পরিসংখ্যান তুলে ধরেও কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলেছেন খাড়গে। তাঁর দাবি, উত্তরপ্রদেশে ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য জমা পড়া ১৬.১৮ লক্ষ ‘ফর্ম ৬’-এর (Form 6 Applications) কোনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আনা হয়নি। পিলভিটে ১০,৪৭০ জন ভোটারের তথ্যে মারাত্মক গরমিল (Pilibhit Voter Discrepancy) ধরা পড়েছে।

বস্তুত, গত ২১ অক্টোবর উত্তরপ্রদেশ প্রদেশ কংগ্রেসের তরফে অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে, পিলভিট সদর বিধানসভা কেন্দ্রে হাজার হাজার ভোটারের এপিক নম্বর (EPIC Number) এবং ক্রমিক সংখ্যা (Serial Number) অপরিবর্তিত রেখে শুধু নামগুলি বদলে দেওয়া হয়েছে। সেই অভিযোগের জেরেই উত্তরপ্রদেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (UP Chief Electoral Officer) নবদীপ রিনওয়া (Navdeep Rinwa) নির্দেশ দিয়েছেন, গত ১০ এপ্রিল রাজ্যে ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর থেকে কম্পিউটার অ্যাসিস্ট্যান্টরা যত ফর্ম ৬ (নতুন নাম তোলা), ফর্ম ৭ (নাম বাদ দেওয়া বা আপত্তি) এবং ফর্ম ৮ (সংশোধন ও পরিবর্তন) এন্ট্রি করেছেন, তার সমস্তটাই পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই (Scrutiny of Voter Forms) করতে হবে। যদিও প্রশাসনের তরফে এই যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হলেও, তাতে এখনও সরকারিভাবে নির্বাচনী জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি এবং কংগ্রেসের সর্বশেষ অভিযোগ নিয়ে কমিশনের তরফেও নতুন কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

১ নভেম্বরের ‘দিল্লি চলো’

‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ (Vote Bachao Desh Bachao) স্লোগানকে সামনে রেখে আগামী ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে ‘দিল্লি চলো’ (Dilli Chalo March) মহামিছিল ও সমাবেশের ডাক দিয়েছে ‘ইন্ডিয়া’ জোট। খাড়গে এদিন সাধারণ মানুষকে সেই মিছিলে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা কেবল ভোট বাঁচানোর লড়াই নয়; সংবিধান ও গণতন্ত্র বাঁচানোর গণসংগ্রাম।

এই আন্দোলন থেকে বিরোধী জোটের মূল দাবিগুলিও এদিন ফের স্পষ্ট করে দিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগ বা অপসারণ। নির্বাচন কমিশনারদের আইনি রক্ষাকবচ দেওয়ার জন্য তৈরি ২০২৩ সালের আইন অবিলম্বে বাতিল করা। বিতর্কিত ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়া অবিলম্বে স্থগিত করা এবং বেআইনিভাবে বাদ দেওয়া বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় ফিরিয়ে আনা এবং ইভিএমের বদলে পুনরায় ব্যালট পেপারে (Paper Ballots) নির্বাচন পরিচালনা করা।

একদিকে উৎসবের মরসুমে দিল্লির ব্যবসায়ীদের রুটিরুজির চিন্তা, আর অন্যদিকে ভোটার তালিকা ঘিরে বিরোধী শিবিরের আগ্রাসী আন্দোলন। বহুমাত্রিক টানাপড়েনে ১ নভেম্বরের রামলীলা ময়দানের সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীর রাজনৈতিক পারদ যে আরও চড়তে চলেছে, এদিনের ঘটনাপ্রবাহেই তা স্পষ্ট।