১৮১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারত যখন ৭০ রানে পাঁচ উইকেট খুইয়ে বসে, তখন মনে হচ্ছিল নিউজিল্যান্ড চলতি টি-টোয়েন্টি সিরিজে সমতা আনার দিকে চলেছে। দলের ১১২ রানের মাথায় যখন প্রথম ম্যাচের নায়ক নমন ধীরও সাজঘরে ফিরে যান, তখন বোধহয় ছিটেফোঁটা আশাই বেঁচে ছিল ভারতীয় সমর্থকদের মনে। সেই একটুখানি আশাই যে শেষপর্যন্ত ভারতের জয়ের আনন্দ-উল্লাসে পরিণত হবে, তা তারাও ভাবতে পারেননি। তিলক ভার্মা ও নীতিশ কুমার রেড্ডির ৩০ বলে ৬৯ রানের অভাবনীয় পার্টনারশিপই ভারতকে শেষ পর্যন্ত সিরিজের দ্বিতীয় জয় এনে দেয়।
প্রথম ম্যাচে ভারতকে জিতিয়েছিলেন নমন ধীর। শনিবার সেই ক্রাইস্টচার্চেই ভারতকে জেতালেন তিলক ভার্মা। এমন দায়িত্বশীল ও সাহসী ব্যাটিং দেখে খুশি হওয়ারই কথা ভারতীয় দলের কোচ গৌতম গম্ভীরের। এবং জয়ের পর তাঁর মধ্যে যে উচ্ছ্বাস দেখা গেল, তেমন প্রতিক্রিয়া সচরাচর তাঁৎ মধ্যে দেখা যায় না।
এ দিন টস জিতে নিউজিল্যান্ডকে ব্যাট করতে পাঠালে ভারত জয়ের জন্য ১৮১ রানের লক্ষ্যের সামনে দাঁড়ায়। ১৮১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালই করেছিল ভারত। কিন্তু মাঝের ওভারগুলিতে ছবিটা দ্রুত বদলে যায়। একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় শ্রেয়স আইয়ারের দল।
সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মার ৪০ রানের পার্টনারশিপ ভেঙে যায় পঞ্চম ওভারে, যখন সঞ্জু (১৪) জ্যাকব ডাফির বলে গ্লেন ফিলিপসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। ইশান কিষাণের জায়গায় দলে আসা বিস্ময় কিশোর বৈভব সূর্যবংশীও আট বলে মাত্র চার রান করে ড্যারিল মিচেলের হাতে ধরে পড়ে ফিরে যান। অভিষেক শর্মা (২৭), শ্রেয়স আইয়ার (৭), অক্ষর প্যাটেলও (১১) ভারতের সমর্থকদের হতাশ করে দ্রুত ক্রিজ ছেড়ে চলে যান। নমন ধীর (১৭ বলে ৩১) শুরুটা ভাল করলেও তিনিও মিচেল স্যান্টনারের ঘূর্ণির ফাঁদে পা দিয়ে ফিলিপসের হাতে ক্যাচ দিয়ে দলকে বিপদসীমার মধ্যে রেখেই চলে যান।
নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারের স্পিনে দিশাহারা হয়ে পড়েন ভারতীয় ব্যাটারেরা। চার উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের রং বদলে দেন কিউয়ি অধিনায়ক। ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ১১৩ রানে ৬ উইকেট। সেখান থেকে জয় কার্যত অসম্ভব মনে হচ্ছিল। কিন্তু টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে শেষ বল না হওয়া পর্যন্ত শেষ কথা বলাটা অন্যায়। এটাই আরো আকবার প্রমাণ করে দেন তিলক ও নীতিশ।
ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তাঁরাই। চাপের মুখে ঠান্ডা মাথায় ব্যাট করে সপ্তম উইকেটে ৬৯ রানের পার্টনরাশিপ গড়েন তাঁরা। মূলত তিলকের ২৬ বলে অপরাজিত ৫১ রানের ইনিংসই ভারতের জয়ের রাস্তা পরিস্কার করে দেয়। তিলকের ইনিংসে ছিল ছ’টি চার ও একটি ছয়। তাঁকে দুর্দান্ত সঙ্গত করেন নীতিশ। মাত্র ১৩ বলে অপরাজিত ২৬ রান করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন তিনি।
শেষ পাঁচ ওভারে ৬৮ রান তোলেন তিলক ও নীতিশ। ১৬ ও ১৭ নম্বর ওভারে যথাক্রমে ১৩ ও ৯ রান করার পর জ্যাকব ডাফি ১৮ নম্বর করতে এলে তাঁকে রীতিমতো তুলোধোনা করেন দুই ব্যাটার। প্রথম বলেই নীতিশ লং অফের উপর দিয়ে ছক্কা হাঁকান। পরের বলে এক রান নিয়ে তিলক স্ট্রাইকিং এন্ডে এলে তিনি বিস্ফোরক ব্যাটিং শুরু করেন। দুটি চার হাঁকান। সেই ওভারে ১৭ রান ওঠে।
শেষ দুই ওভারে ভারতের প্রয়োজন ছিল ২৯ রান। ১৯ নম্বর ওভারে নাথান স্মিথকে তিনটি বাউন্ডারি ও একটি ওভার বাউন্ডারি হাঁকিয়ে তিলক একাই ১৮ রান তোলেন। শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১১। ডাফির প্রথম বলে এক রান নিয়ে তিলককেই ব্যাটিং দেন নীতিশ। এবং ক্রিজে এসেই ডাফিকে বাউন্ডারি পার করিয়ে দেন তিলক। শেষ দুই বলে প্রয়োজন ছিল তিন রান। তখন আর ভারতের জয় নিয়ে খুব একটা সংশয় ছিল না। একটি রান আসে ওয়াইড বল থেকে ও ডিপ মিড উইকেটের দিকে বল ঠেলে শেষ দুটি রান নেন নীতিশ এবং উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে ভারতীয় ক্রিকেটার ও সমর্থকেরা। এক বল বাকি থাকতেই চার উইকেটে জয় তুলে নেয় ভারত।
এর আগে গ্লেন ফিলিপ্সের ৪৩ বলে ৭০ এবং বেভন জ্যাকবসের ৪৬ বলে ৫৮ রানের ইনিংসে ভর করে ২০ ওভারে পাঁচ উইকেটে ১৮০ তুলেছিল নিউজিল্যান্ড। শুরুতে ৪১ রানে তিন উইকেট হারিয়েও চতুর্থ উইকেটে ১১৬ রানের পার্টনারশিপ গড়ে দলকে লড়াইয়ে ফেরান ফিলিপ্স ও জ্যাকবস। ভারতের হয়ে অর্শদীপ সিং দু’টি উইকেট নেন।
কিন্তু কিউয়িদের সেই লড়াই শেষ পর্যন্ত জলে গেল তিলক ও নীতিশের সাহসী ব্যাটিংয়ের জন্য। প্রথম টি-টোয়েন্টিতেও চার উইকেটে জিতেছিল ভারত। দ্বিতীয় ম্যাচে আরও কঠিন পরিস্থিতি থেকে জয় তুলে নিয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল শ্রেয়স-বাহিনী।




