• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 24 October, 2026

চিকিৎসাধীন রোগীকে গলা টিপে খুনের অভিযোগ, কোচবিহারে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি

একটা বেসরকারি হাসপাতালের কাছে সম্মান বড় বিষয়। সেখানে খোদ হাসপাতালেই গলা টিপে রোগী খুনের অভিযোগ মারাত্মক

চিকিৎসাধীন রোগীকে গলা টিপে খুনের অভিযোগ, কোচবিহারে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি

Patient Party Violence Photo-SNS

রোগী হাসপাতালে যান চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার জন্য। কিন্তু রোগীকে গলা টিপে হাসপাতালে খুন করার অভিযোগ উঠল। সুস্থ হতে গিয়ে যদি খুন হতে হয় তাহলে রোগীর নিরাপত্তা কোথায়? উঠছে প্রশ্ন। আর এমন অভিযোগ উঠেছে কোচবিহার জেলার বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় শনিবার সকালে ব্যাপক আলোড়ন ছড়িয়ে পড়ল। হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে রীতিমতো ধাক্কাধাক্কি এবং তা থেকে রক্ত ঝরল মৃতের আত্মীয়ের বলে অভিযোগ। যদিও মৃতের পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগও মানেননি তাঁরা। তাহলে কেন ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ‘প্রস্তাব’ দিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ? প্রশ্ন তুললেন রোগীর পরিবারের সদস্যরা।

রোগীকে সুস্থ করে বাড়ি নিয়ে যাবেন বলেই এখানে ভর্তি করেছিলেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু সেই পরিবারের সদস্যদেরই অভিযোগ, গলা টিপে রোগীকে খুন করা হয়েছে। কিন্তু হাসপাতাল তা কেন করবে? এই প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে। মৃত ব্যক্তির নাম দীপঙ্কর সরকার। তাঁর বাড়ি তুফানগঞ্জে। তিনি পেশায় একজন চিকিৎসক। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, বিজয়া দশমীর দিন পেটে ব্যথার সমস্যা নিয়ে কোচবিহারের এই বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। নিজে গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন দীপঙ্কর সরকার। শুক্রবার রাতেও তিনি কথা বলেছেন। কিন্তু হাসপাতাল থেকে মাঝরাতে ফোন করে জানানো হয়, রোগীর অবস্থা খারাপ। তারপর হাসপাতালে আসতেই রোগীর মৃত্যুর খবর মিলল। তাই ক্ষোভে ফেটে পড়ে রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে খুনের অভিযোগ তোলা হয়।

একটা বেসরকারি হাসপাতালের কাছে সম্মান বড় বিষয়। সেখানে খোদ হাসপাতালেই গলা টিপে রোগী খুনের অভিযোগ মারাত্মক। এমন কোনও প্রমাণ রোগীর পরিবার দিতে না পারলেও এই অভিযোগে তোলপাড় হয়ে গিয়েছে হাসপাতাল চত্বর। এমনকী পরিবারের সদস্যদের দাবি, রোগী ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসক কোনও ওষুধ দেননি। নার্সরাই ওষুধ দিচ্ছিলেন। রোগী নিজে একজন চিকিৎসক। চিকিৎসা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তাঁকে গলা টিপে খুন করা হয়ে থাকতে পারে। দীপঙ্করের গলায় কালো দাগ আছে। গলায় ফাঁস দিয়েই তাঁকে খুন করা হয়েছে।

গলায় কালো দাগই যে খুনের উপযুক্ত প্রমাণ এমন মনে করছেন না বহু চিকিৎসকই। কিন্তু এটাই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে সেখানে। যা নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শনিবার এই ঘটনা নিয়ে হাসপাতালে নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। রোগীর পরিবারের সদস্যরা মারমুখী হয়ে ওঠে। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, খুনের অভিযোগ তোলার পরই ক্ষতিপূরণ দিতে চেয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। যদিও এই দাবি অস্বীকার করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।