২০১৮-র সেই বিতর্কিত ঘটনা এখনও ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে টাটকা। স্টিভ স্মিথকে আউট করে কাঁধে ধাক্কা দিয়েছিলেন কাগিসো রাবাডা। আট বছর পরে সেই সংঘাত নিয়ে মুখ খুলে দক্ষিণ আফ্রিকার পেসারের দাবি, ব্যক্তিগত কোনও বিদ্বেষ ছিল না। সবটাই ছিল মাঠের উত্তেজনা।
ক্রিকেট মাঠে আগুনে মেজাজের জন্য পরিচিত কাগিসো রাবাডা। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বল হাতে তাঁর আগ্রাসন বারবার আলোচনায় এসেছে। স্টিভ স্মিথের সঙ্গে তাঁর সেই পুরনো সংঘাতও ক্রিকেটের অন্যতম বিতর্কিত মুহূর্ত। তবে সেই ঘটনাকে ব্যক্তিগত শত্রুতার রং দিতে নারাজ দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার। তাঁর বক্তব্য, মাঠের লড়াইয়ে আবেগ থাকবেই। কিন্তু সেই আবেগের সঙ্গে ব্যক্তিগত ঘৃণাকে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়।
রাবাডার কথায়, ‘মাঠের বাইরে কোনও ঘৃণা নেই। আমরা এমন কয়েক জন খেলোয়াড়, যারা নিজেদের সেরাটা দেওয়ার জন্য লড়াই করি। শরীরে তখন টেস্টোস্টেরনের উত্তাপ থাকে। সবটাই মুহূর্তের উত্তেজনা’।
২০১৮-য় অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে স্মিথকে আউট করার পরে তাঁকে কাঁধ দিয়ে ধাক্কা মেরেছিলেন রাবাডা। সেই ঘটনায় প্রথমে দুই টেস্টের নির্বাসনের শাস্তি পেয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার। পরে আবেদনের ভিত্তিতে সেই শাস্তি কমিয়ে জরিমানা করা হয়। ঘটনাটি এমন এক সিরিজে ঘটেছিল, যা শেষ পর্যন্ত বল বিকৃতি বিতর্কে আরও কলঙ্কিত হয়ে ওঠে। স্মিথকে অধিনায়কের পদ ছাড়তে হয়েছিল এবং এক বছরের নির্বাসনেও যেতে হয়েছিল।
সেই ঘটনার পরে আট বছর কেটে গিয়েছে। কিন্তু স্মিথের সঙ্গে পুরনো সংঘাতের প্রসঙ্গ উঠলে এখনও ক্রিকেটমহলে আলোচনা হয়। রাবাডা অবশ্য জানিয়ে দিয়েছেন, মাঠের লড়াইকে মাঠের বাইরের সম্পর্কের সঙ্গে মেলাতে চান না তিনি।
কেপটাউনের নিউল্যান্ডস মাঠে সেই বিতর্কের পরে আবার খেলেছেন স্টিভ স্মিথ। ঘটনার দু’বছর পরে সেখানে একটি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচেও খেলেছিলেন তিনি। তবে ২০১৮ সালের সেই ঘটনার পর এই প্রথম নিউল্যান্ডসে টেস্ট খেলতে নামবেন স্মিথ।
গত মাসে স্মিথ জানিয়েছিলেন, অপমানের মুখে দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হওয়ার সেই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি শিক্ষা নিয়েছেন। সিডনির ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকাকে স্মিথ বলেন, ‘সেই সময়টা নিঃসন্দেহে খুব কঠিন ছিল। বিশেষ করে ঘটনার পরের কয়েকটা দিন ছিল অত্যন্ত কঠিন’।
তিনি আরও বলেন, ‘সেই সময়ে আমার মানসিক অবস্থা একেবারেই ভাল ছিল না। আমি আর কখনও সেই অবস্থায় পৌঁছতে চাই না। তবে সেই অভিজ্ঞতা থেকে আমি শিক্ষা নিয়েছি এবং জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পেরেছি। ২০১৮ সালে কী ঘটেছিল, সেই সময়টার অনেক কিছুই মন থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করেছি’।
স্মিথের সংযোজন, ‘সেই সিরিজের অনেক কিছুই আমার মনে নেই। স্মৃতির ভাণ্ডার থেকে সেই সময়ের বেশির ভাগ ঘটনাই মুছে ফেলার চেষ্টা করেছি’।




