• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 23 October, 2026

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, তামিলনাড়ু থেকে গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তকে অন্তর্বর্তী জামিন হাইকোর্টের

পুলিশের আচরণই এই সিদ্ধান্তের অন্যতম ভিত্তি। এছাড়াও, হাসনাবাদ থানার তদন্তকারী আধিকারিককে ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওই থানায় কর্মরত সমস্ত ইন্সপেক্টর-ইন-চার্জের তালিকা আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী শুনানিতেও তদন্তকারী আধিকারিককে হাজির থাকতে হবে।

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, তামিলনাড়ু থেকে গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তকে অন্তর্বর্তী জামিন হাইকোর্টের

Calcutta High Court Photo-SNS

আগাম জামিনের আবেদন বিচারাধীন থাকা অবস্থায় তামিলনাড়ু থেকে এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অথচ মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথি, বিশেষ করে আঘাতের রিপোর্ট তখনও আদালতে জমা পড়েনি। পুলিশের এই পদক্ষেপের বিষয়ে আদালতকে অবহিত না করায় তদন্তকারীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাইকোর্ট। এই পরিস্থিতিতে মামলার অভিযোগের গুণাগুণ বিচার করে নয়, পুলিশের আচরণ বিবেচনা করেই অভিযুক্তকে অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়ার নির্দেশ দিলেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ।

উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদ থানায় ২০২৬ সালের ২০ মে দায়ের হওয়া একটি মামলায় আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন সাইদুল শেখ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩২৬(জি), ৩২৩, ৩৫১(৩) এবং ৩(৫) ধারায় দায়ের হওয়া ওই মামলায় আবেদনটি বিচারাধীন থাকাকালীন তাঁকে তামিলনাড়ু থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে আদালতে জানান আবেদনকারীর আইনজীবী সাবির আহমেদ।

মামলার শুনানিতে বিচারপতি লক্ষ করেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথি, বিশেষত আঘাতের রিপোর্ট জমা পড়েনি। সেই রিপোর্ট পেশ করার জন্য রাজ্যের আইনজীবী সময় চাওয়ার পর অভিযুক্তের গ্রেপ্তারের বিষয়টি সামনে আসে। পুলিশের এই পদক্ষেপ সম্পর্কে আদালতকে আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি বলে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি।

আদালতের পর্যবেক্ষণ, অভিযুক্তের গ্রেপ্তারের বিষয়ে আদালত এবং রাজ্যের আইনজীবী, উভয়কেই অন্ধকারে রাখা হয়েছিল। পুলিশের তরফে জমা দেওয়া রিপোর্টেও কিছু প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর মেলেনি বলে মন্তব্য করেন বিচারপতি। ওই রিপোর্টের বিস্তারিত বিবেচনা অবকাশের পরে করা হবে বলেও জানান তিনি।

তবে তার আগে পর্যন্ত অভিযুক্তকে হেফাজতে রাখার পক্ষপাতী নন বলে জানিয়ে সাইদুল শেখকে অন্তর্বর্তী জামিন দেন বিচারপতি। জামিনের শর্ত অনুযায়ী, ২০ হাজার টাকার বন্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা করে দু’জন জামিনদার দিতে হবে। তাঁদের মধ্যে অন্তত একজনকে স্থানীয় বাসিন্দা হতে হবে। জামিনে মুক্ত থাকার সময় প্রতি সপ্তাহে তদন্তকারী আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করতে হবে অভিযুক্তকে। এই অন্তর্বর্তী জামিন ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

নির্দেশে বিচারপতি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, মামলার অভিযোগের গুণাগুণ বিচার করে এই জামিন মঞ্জুর করা হচ্ছে না। পুলিশের আচরণই এই সিদ্ধান্তের অন্যতম ভিত্তি। এছাড়াও, হাসনাবাদ থানার তদন্তকারী আধিকারিককে ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওই থানায় কর্মরত সমস্ত ইন্সপেক্টর-ইন-চার্জের তালিকা আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী শুনানিতেও তদন্তকারী আধিকারিককে হাজির থাকতে হবে।

আরও পড়ুন: আসানসোল-ধানবাদ ছুঁয়ে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন পৌঁছবে দিল্লিতে, কবে থেকে চলবে?

মামলাটি আগামী ২০ নভেম্বর ফের শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে। পরবর্তী শুনানিতে পুলিশের জমা দেওয়া রিপোর্ট এবং তদন্তের পদ্ধতি নিয়ে আদালতে আরও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।