সাব ইন্সপেক্টর রাজেশচন্দ্র রায় ব্যারাকপুর স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ডিউটি করছিলেন। কর্তব্যরত অবস্থায় থাকার সময় এক মত্ত যুবক তার চারচাকা গাড়ি নিয়ে নানা জায়গায় ধাক্কা মারতে মারতে সেখানে এসে পৌঁছয়। তখন ওই কর্তব্যরত সাব-ইন্সপেক্টর রাজেশ রায় ওই যুবককে ধরে ফেলে। ওই যুবকের নাম পল্লব। তাকে ধরতেই ওই মদ্যপ যুবক এসআই-কে মারধর করে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বলে অভিযোগ। প্রকাশ্য রাস্তায় কর্তব্যরত পুলিশ অফিসারকে মারধর ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। এই ঘটনাকে ঘিরে ব্যারাকপুরে ব্যাপক আলোড়ন পড়ে গিয়েছে।
মদ্যপ অবস্থায় চারচাকা গাড়ি নিয়ে নানা জায়গায় ধাক্কা মারতে মারতে এগিয়ে আসছিল ওই যুবক। পরিস্থিতি সামাল দিতে ওই যুবককে আটক করেন কর্তব্যরত সাব-ইন্সপেক্টর রাজেশচন্দ্র রায়। কারণ এমন কোনও দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে যে প্রাণ চলে যায়। কিন্তু সে কথা ওই যুবককে বোঝানো কঠিন হয়ে পড়ে। বরং যুবক পল্লব নেশার ঘোরে মারধর করতে শুরু করে এসআই রাজেশচন্দ্র রায়কে বলে অভিযোগ। এরপর অন্যান্য পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ওই মদ্যপ যুবককে আটক করে টিটাগর থানায় নিয়ে যায়। এসআই রাজেশ রায়কে ব্যারাকপুর বিএন বসু হাসপাতালে চিকিৎসা করতে পাঠানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ব্যারাকপুর স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় নিজের কর্তব্যে থাকার সময় সাব-ইন্সপেক্টর রাজেশচন্দ্র রায়ের উপর হামলা হয়। একটি চারচাকা গাড়ি নিয়ে ওই এলাকায় আসে যুবক পল্লব। ওই যুবক মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিল এবং রাস্তায় নানা জায়গায় ধাক্কা মারতে মারতে এগিয়ে আসছিল। ওই পরিস্থিতিতে যে কোনও বড় দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। পথচলতি সাধারণ মানুষ এবং সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন কর্তব্যরত পুলিশ অফিসার। ওই যুবক নিজেকে আবার আইনজীবী বলে পরিচয় দেয়। গাড়িতে লেখা ছিল অ্যাডভোকেট।
পুলিশ সূত্রে খবর, আঙুল উঁচিয়ে চিৎকার করে কথা বলছিল ওই যুবক। নিজে মদ্যপ অবস্থায় ছিল। গাড়ি আটকাতেই নেমে এসে চিৎকার করে গালিগালাজ দিতে থাকে। তার প্রতিবাদ করলে মারধর করতে শুরু করে। সাব ইন্সপেক্টর রাজেশচন্দ্র রায়কে মারধর করার পাশাপাশি তাঁকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজও করে ওই যুবক পল্লব। ব্যারাকপুর স্টেশন সংলগ্ন এলাকা অত্যন্ত ব্যস্ত। প্রত্যেকদিন বহু মানুষ এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন। বিভিন্ন কাজে সাধারণ মানুষের ভিড়ও থাকে ওই এলাকায়। সেখানে একটি চারচাকা গাড়ি নিয়ে একাধিক জায়গায় ধাক্কা মারার অভিযোগ এবং পরে কর্তব্যরত পুলিশ অফিসারকে মারধরের ঘটনায় উত্তেজনা তৈরি হয়।




