দুর্গাপুজোর সময় উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে ১২৭ জন রোগীর। মহাষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত এই পরিমাণ রোগী মারা গিয়েছে বলে জানান হাসপাতালের সুপার। তাঁর দাবি, নার্সিংহোমে চিকিৎসক না থাকায় সেখান থেকে বহু রোগীকে এখানে মরণাপন্ন অবস্থায় পাঠানো হয়। তাঁদেরই এখানে মৃত্যু হয়েছে। গত ১৬ অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত এই মৃত্যুগুলি হয়েছে। ২০২৫ সালে দুর্গাপুজোর পাঁচদিনে এই হাসপাতালে ৭৭ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছিল। আর এই বছর মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় চিকিৎসক, সিনিয়র চিকিৎসকদের দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে হাসপাতালে উপস্থিতি নিয়ে চর্চা চলছে। দুর্গাপুজোর ছুটিতে হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা সচল রাখতে আগাম ডিউটির সূচি তৈরি করা হয়েছিল। তারপরও সিনিয়র চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন কিনা সেটা নিয়ে খোঁজ চলছে।
জুনিয়র চিকিৎসকদের অভিযোগ, দুর্গাপুজোর ছুটির আগেই তাঁদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী কাজ করতে হবে। কোনওভাবেই ডিউটি বদল করা যাবে না। সিনিয়র চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। দুর্গাপুজোর ৬ দিনে উত্তরবঙ্গের নানা হাসপাতাল এবং নার্সিংহোম থেকে রেফার হয়ে আসা রোগীর সংখ্যা যথেষ্ট বেশি ছিল। এই বিপুল সংখ্যক রোগীর মৃত্যু নিয়ে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ মানতে নারাজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এই বিষয়ে হাসপাতালের সুপার কৌশিক ঈশোর বলেন, ‘চিকিৎসায় গাফিলতি হয়েছে বা রোগী মৃত্যুর ঘটনা অস্বাভাবিক এমন অভিযোগ সঠিক নয়। বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে দেখেছি, মৃতদের বেশিরভাগই আশপাশের নানা হাসপাতাল এবং নার্সিংহোম থেকে রেফার হয়ে এসেছিলেন।’
একাধিক বেসরকারি নার্সিংহোম থেকে রেফার হয়ে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে এসেছিলেন রোগীরা। অন্যান্য হাসপাতাল থেকেও রেফার করা হয়েছিল। কারণ তাঁদের ওখানে চিকিৎসকের অভাব ঘটেছিল। আর যখন রোগীদের নিয়ে আসা হয়েছিল তখন থেকেই রোগীদের অবস্থা অত্যন্ত ক্রিটিক্যাল ছিল বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর। ফলে উপযুক্ত চিকিৎসা দিয়েও তাঁদের জীবন বাঁচানো যায়নি। এই ঘটনার পর কোন কোন হাসপাতাল নার্সিংহোম থেকে রেফার করা হয়েছিল তার খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব সরকারি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক না থাকার অজুহাতে রেফার করা হয়েছিল তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
তাছাড়া কিডনি এবং লিভারের গুরুতর অসুখ এবং স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীরাও রেফার হয়ে এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে চিকিৎসক উপস্থিতি এবং পরিষেবা নিয়ে ওঠা অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে সুপার বলেন, ‘আমরা সকলে মিলেই দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে হাসপাতালে কাজ করেছি। চিকিৎসকের অভাব বা ব্যবস্থায় কোনও ত্রুটি ছিল না।’




