• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 22 October, 2026

‘ভারতীয় দলে বিভাজন তৈরি করে অস্ট্রেলিয়ার সূবিধা করে দিয়েছিলেন চ্যাপেল’, বিস্ফোরক হরভজন

হরভজনের এই মন্তব্যে ফের সামনে এল ভারতীয় ক্রিকেটের সেই বিতর্কিত অধ্যায়। চ্যাপেলের কোচিংয়ের সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে এর

‘ভারতীয় দলে বিভাজন তৈরি করে অস্ট্রেলিয়ার সূবিধা করে দিয়েছিলেন চ্যাপেল’, বিস্ফোরক হরভজন

Harbhajan Singh Photo-SNS

ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে গ্রেগ চ্যাপেলের জমানা নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সংঘাত, সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গে দূরত্ব এবং ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে ভারতের অপ্রত্যাশিত বিদায়—বার বার আলোচনায় ফিরেছে সেই অধ্যায়। এ বার সেই বিতর্কের আগুনে নতুন করে ঘি ঢাললেন হরভজন সিং। তাঁর দাবি, ভারতীয় দলের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে ক্রিকেটারদের একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলেন তৎকালীন কোচ চ্যাপেল।

প্রখর গুপ্তের পডকাস্টে সেই সময়ের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন হরভজন। তাঁর মতে, ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম খারাপ সময় ছিল সেটি। দলের মধ্যে যে ঐক্য ও পারস্পরিক বোঝাপড়া ছিল, চ্যাপেলের আমলে তা কার্যত ভেঙে পড়েছিল।

হরভজনের কথায়, ‘দাদার (সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়) সঙ্গে চ্যাপেল যে আচরণ করেছিলেন এবং সেই সময়ে ভারতীয় দলের সঙ্গে যা করেছিলেন, তা ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার ও খারাপ অধ্যায়। তাঁকে প্রধান কোচ নিয়োগ করা ভারতীয় ক্রিকেট কর্তাদের অন্যতম বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।’

এর পরেই অস্ট্রেলীয় কোচের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ করেন হরভজন। তিনি বলেন, ‘চ্যাপেল বিভাজন তৈরি করে শাসন করার (devide and rule) নীতি নিয়েছিলেন। দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে লড়িয়ে দিতেন, আর নিজে শাসকের মতো আচরণ করতেন।’

২০০৩ সালের এক দিনের বিশ্বকাপে সৌরভের নেতৃত্বে ফাইনালে উঠেছিল ভারত। অস্ট্রেলিয়ার কাছে ফাইনালে হারলেও সেই দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে বোঝাপড়া এবং পারস্পরিক বিশ্বাস ছিল যথেষ্ট মজবুত। হরভজনের দাবি, চ্যাপেলের জমানায় সেই সম্পর্কই নষ্ট হয়ে যায়।

প্রাক্তন ভারতীয় স্পিনার বলেন, ‘উনি গোটা দলটাকে নষ্ট করে দিয়েছিলেন। ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে যাঁরা একসঙ্গে খেলেছিলেন, যাঁদের মধ্যে এত ভাল সম্পর্ক ছিল, তাঁরাই পরে একে অপরের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। আমাদের দলটা ছিল অন্যতম শক্তিশালী এবং সবচেয়ে ঐক্যবদ্ধ দলগুলির একটি। উনি আক্ষরিক অর্থে দলটাকে ভেঙে দিয়েছিলেন।’

হরভজনের অভিযোগ, দলের মধ্যে এই অবিশ্বাসের পরিবেশ ক্রিকেটারদের মাঠের পারফরম্যান্সেও প্রভাব ফেলেছিল। যে দল একসঙ্গে কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে অভ্যস্ত ছিল, তারাই ক্রমশ নিজেদের মধ্যে দূরত্ব বাড়িয়ে ফেলেছিল।

২০০৫ এর জুনে ভারতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব নিয়েছিলেন চ্যাপেল। ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ফাইনালে হারের পরে ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন করে সাফল্যের স্বপ্ন তৈরি হয়েছিল। শচীন তেন্ডুলকর, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এবং রাহুল দ্রাবিড়ের মতো তারকাদের নিয়ে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন প্রাক্তন অস্ট্রেলীয় ব্যাটার।

কিন্তু তাঁর কোচিংয়ের সময়েই বিতর্ক বাড়তে থাকে। সৌরভের সঙ্গে সংঘাত, দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গে মতবিরোধ এবং বিভিন্ন নির্বাচনী সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। শেষ পর্যন্ত ২০০৭-এর বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় ভারত। বাংলাদেশের কাছে হার সেই বিপর্যয়ের অন্যতম বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

হরভজনের মতে, সেই ব্যর্থতার পিছনে শুধু মাঠের পারফরম্যান্স নয়, দলের ভিতরের সমস্যাও বড় ভূমিকা নিয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, চ্যাপেলের আসল কৌশল ছিল অন্য কিছু। সেই সময়ে ভারতই ছিল এমন একটি দল, যারা নিয়মিত অস্ট্রেলিয়াকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারত। সম্ভবত উনি আমাদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করতে চেয়েছিলেন, যাতে আমরা মাঠে একসঙ্গে খেলতে না পারি এবং শেষ পর্যন্ত হেরে যাই। ২০০৭ বিশ্বকাপে সেটাই হয়েছিল।’

হরভজনের এই মন্তব্যে ফের সামনে এল ভারতীয় ক্রিকেটের সেই বিতর্কিত অধ্যায়। চ্যাপেলের কোচিংয়ের সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে এর আগেও একাধিক প্রাক্তন ক্রিকেটার মুখ খুলেছেন।
হরভজনের অভিযোগ, দলের মধ্যে ঐক্য নষ্ট হওয়ার প্রভাব এতটাই গভীর ছিল যে তার ধাক্কা সামলাতে ভারতীয় ক্রিকেটের বেশ কয়েক বছর লেগে গিয়েছিল সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গে মতবিরোধ এবং বিভিন্ন নির্বাচনী সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। শেষ পর্যন্ত ২০০৭-এর বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় ভারত। বাংলাদেশের কাছে হার সেই বিপর্যয়ের অন্যতম বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

হরভজনের মতে, সেই ব্যর্থতার পিছনে শুধু মাঠের পারফরম্যান্স নয়, দলের ভিতরের সমস্যাও বড় ভূমিকা নিয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, চ্যাপেলের আসল কৌশল ছিল অন্য কিছু। সেই সময়ে ভারতই ছিল এমন একটি দল, যারা নিয়মিত অস্ট্রেলিয়াকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারত। সম্ভবত উনি আমাদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করতে চেয়েছিলেন, যাতে আমরা মাঠে একসঙ্গে খেলতে না পারি এবং শেষ পর্যন্ত হেরে যাই। ২০০৭ বিশ্বকাপে সেটাই হয়েছিল।’

হরভজনের এই মন্তব্যে ফের সামনে এল ভারতীয় ক্রিকেটের সেই বিতর্কিত অধ্যায়। চ্যাপেলের কোচিংয়ের সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে এর আগেও একাধিক প্রাক্তন ক্রিকেটার মুখ খুলেছেন।
হরভজনের অভিযোগ, দলের মধ্যে ঐক্য নষ্ট হওয়ার প্রভাব এতটাই গভীর ছিল যে তার ধাক্কা সামলাতে ভারতীয় ক্রিকেটের বেশ কয়েক বছর লেগে গিয়েছিল।