দুর্গাপুজোর আনন্দে তাল কেটেছিল চোরবাগানের মৃত্যুমিছিল। কিন্তু এখন বিজয়া দশমী এসে গিয়েছে। আর যাতে এমন কোনও ঘটনা না ঘটে, শোক নেমে না আসে তাই বিসর্জনের আগেই সতর্ক প্রশাসন। দশমী থেকেই শহরের একাধিক ঘাটে বিসর্জন শুরু হয়ে যাবে। সেখানে বাড়তি সতর্কতার জন্য ১২ জন আইপিএস অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এবার তো বাপেরবাড়ি থেকে উমার কৈলাসে ফেরার পালা। তাই শুরু হয়ে যাবে দেবী দুর্গার বিসর্জন। কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সেদিকে কড়া নজরদারির নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য সরকার। বিসর্জনের জন্য নেওয়া ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে বুধবার সকালেই বাবুঘাটে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতা পুলিশের অফিসারদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি।
এদিকে দশমীর সকাল থেকেই নানা জায়গায় পুজো মণ্ডপগুলিতে শুরু হয়ে গিয়েছে সিঁদুরখেলা। দুপুরের পর থেকে কলকাতার গঙ্গার ঘাটগুলিতে বিসর্জন শুরু হবে। এই ঘাটগুলিতে বিসর্জনের চূড়ান্ত প্রস্তুতিও চলছে। কলকাতা পুলিশ এবং কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে নজরদারিও চলছে। বুধবার সকালে সব কিছু সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে বাবুঘাটে আসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় কুমার নন্দা, কলকাতা পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে-সহ অন্যান্য অফিসাররা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। গঙ্গার ঘাটে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী সব খতিয়ে দেখেন।
অন্যদিকে খতিয়ে দেখার পর মুখ্যমন্ত্রী প্রয়োজনীয় নির্দেশও দেন। কারও যেন কোনও অসুবিধা না হয় এবং কোনও অঘটন যেন না ঘটে সেদিকে খেয়াল রাখতে নির্দেশ দেন তিনি। কড়া নজরদারির পাশাপাশি গঙ্গাদূষণ এবং পরিবেশ দূষণ ঠেকাতেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিসর্জনের আগে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বাবুঘাট, বাজে কদমতলা ঘাট, জাজেস ঘাট পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের পর মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘একদিকে নিরাপত্তা, পরম্পরা, ঐতিহ্য মেনেই বিসর্জন হবে। সজাগ রয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা টিম। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিশেষ নজরদারি চলছে। দূষণ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজর রয়েছে কলকাতা পুরসভার।’
তাছাড়া সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগানে পদপিষ্ট এবং দমবন্ধ হয়ে তরতাজা ১৯টি প্রাণ চলে গিয়েছে। বিসর্জনের সময় তেমন কিছু যাতে না ঘটে তার জন্য বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা, ‘বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তার কাজে যুক্ত আছে এনডিআরএফ। বিসর্জন শেষের পরে ঘাট সাফাইয়ের কাজও হবে। সনাতনীরা ছাড়া আর কেউ মূর্তির কাঠামোয় হাত দেবেন না। আকাশপথেও গঙ্গার ঘাট সংলগ্ন এলাকাগুলিতে ড্রোন ওড়ানো হবে। কলকাতার চারটি গঙ্গার ঘাটে কড়া নিরাপত্তা ও নজরদারি রয়েছে।বিসর্জনের সময় ঘাটে ডিজে বাজানো নিষিদ্ধ।’




