• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 20 October, 2026

স্ত্রীর মুন্ডু কেটে মন্দিরে রেখে বাবাকেও খুন, জোড়া খুন করে গ্রেপ্তার বাঁকুড়ার যুবক

স্থানীয় সূত্রে খবর, বাঁকুড়ার সোনামুখী থানার একেবারে সীমান্তবর্তী দামোদর নদের চরে রয়েছে লালবাবা মানাচর গ্রাম। ওই গ্রামেরই বাসিন্দা

স্ত্রীর মুন্ডু কেটে মন্দিরে রেখে বাবাকেও খুন, জোড়া খুন করে গ্রেপ্তার বাঁকুড়ার যুবক

Bankura Double Murder Photo-Representative

অন্ধবিশ্বাস আর কুসংস্কারের শিকার হয়ে স্ত্রী এবং বাবাকে গলা কেটে খুন করল যুবক বলে অভিযোগ। এখানেই শেষ নয়, স্ত্রীর মুন্ডু ধড় থেকে আলাদা করে তা রেখে আসল স্বামী মন্দিরে। হাড়হিম করা এই ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়ার সোনামুখী থানা এলাকার লালবাবা মানাচর এলাকায়। পুলিশ দুটি মৃতদেহই উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে অভিযুক্ত যুবককে। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, তান্ত্রিকের প্ররোচনাতেই এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়ার পরও ওই যুবক নির্বিকার। যা দেখে স্তম্ভিত পুলিশ অফিসাররা। এমন ঘটনা সত্যিই বিরল।

স্থানীয় সূত্রে খবর, বাঁকুড়ার সোনামুখী থানার একেবারে সীমান্তবর্তী দামোদর নদের চরে রয়েছে লালবাবা মানাচর গ্রাম। ওই গ্রামেরই বাসিন্দা মঙ্গল চৌধুরী এবং তাঁর স্ত্রী রূম্পা চৌধুরী প্রায়ই স্থানীয় একটি মন্দিরে বসে পুজো করতেন। মাঝেমধ্যে বাড়িতে আসা যাওয়া করত এক তান্ত্রিক। সোমবার রাতে আচমকাই সেই মন্দিরে রূম্পা চৌধুরীর কাটা মুন্ডু দেখে শিউরে ওঠেন এলাকাবাসী। তারপরই মঙ্গল চৌধুরীর বাবা রাজেন্দ্র চৌধুরীর গলা কাটা দেহও দেখতে পান এলাকাবাসী। এই ঘটনাকে ঘিরে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। ‘তন্ত্র সাধনা’য় মগ্ন থাকতেন ওই যুবক। এক তান্ত্রিকই আসা-যাওয়া করতেন ওই বাড়িতে। হতে পারে ‘তন্ত্র সাধনা’র কারণেই খুন।

পুলিশ সূত্রে খবর, এমন নৃশংস ঘটনা দেখেই তড়িঘড়ি সোনামুখী থানায় খবর দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দেহ দুটি উদ্ধার করে। আর অভিযুক্ত মঙ্গল চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, তান্ত্রিক ক্রিয়াকলাপের জেরেই ঠান্ডা মাথায় প্রথমে স্ত্রী রূম্পা চৌধুরী এবং পরে বাবা রাজেন্দ্র চৌধুরীর গলা কেটে খুন করে মঙ্গল চৌধুরী। ধৃতের কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে এলাকার বাসিন্দারা। এখন মঙ্গলকে দফায় দফায় জেরা করা হচ্ছে। কিন্তু তিনি স্থির দৃষ্টিতে একদিকে তাকিয়ে রয়েছেন। কোনও উত্তর দিচ্ছেন না।

তাহলে কি এখন আসল সত্য বুঝতে পেরে স্তম্ভিত মঙ্গল? উঠছে প্রশ্ন। স্থানীয় বাসিন্দা দয়াল পাত্র সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘গ্রামের মানুষের সঙ্গে কোনও বিবাদ ছিল না মঙ্গলের। ব্যবহারও কখনও অস্বাভাবিক ছিল না। তবে বাড়িতে পুজো-অর্চনা, তন্ত্র সাধনার পাট ছিল।’ অভিযুক্তের ভাই রামলক্ষণ চৌধুরীর কথায়, ‘তান্ত্রিক ভিক্ষে চাইতে আসত। ঘরে কী হতো জানি না। চার-পাঁচ বছর ধরে পুজো করে। আমাকেও দাদা অস্ত্র নিয়ে মারতে এসেছিল।’ গোটা ঘটনা নিয়ে বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার পিভিজি সতীশ বলেন, ‘দেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে অভিযুক্তকে। তদন্ত চলছে।’