বামেদের বুকস্টল ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে রাজ্য-রাজনীতি সরগরম। দুর্গাপুজোর মধ্যেই বারবার আক্রমণ নেমে এসেছে বামেদের বুকস্টলে বলে অভিযোগ। বিজেপির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ ওঠায় মামলা গড়িয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত। এই ঘটনা নিয়ে কখনও রাজ্য সরকার, কখনও পুলিশের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন বাম নেতারা। এই আবহেই বামেদের বুক স্টলে হাজির হলেন বিজেপি বিধায়ক অমিত সামন্ত। রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যে শাসকদলের বিধায়ক উপস্থিত হয়ে সেখান থেকে কিছু বই কিনলেন। বিজেপির বিধায়কের এই সৌজন্যকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সিপিএমের কর্মীরা। বামপন্থীদের এই বুকস্টল ঘুরে দেখেন তিনি। আমতা এলাকায় এমন উলটপুরাণ দেখে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
এদিকে প্রত্যেক বছরই দুর্গাপুজোর মণ্ডপের সামনে বামপন্থীদের মার্কসীয় সাহিত্যের স্টল বসে। এই বছর স্টল দেওয়া নিয়ে নানারকম ঘটনা ঘটে। বুলডোজার আসে স্টল ভাঙতে। একাধিক জেলায় স্টল ভাঙাও হয়েছে। যাদবপুর, নাগেরবাজার থেকে শুরু করে হাওড়ার গ্রামীণ এলাকার পাঁচলা বিধানসভা কেন্দ্রেও বামেদের বুকস্টল ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। যদিও তারা বিজেপির কেউ নেই বলেও দাবি করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তবে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত তীব্র নিন্দা করেছেন। সেখানে এবার দেখা গেল, বিজেপি বিধায়ক অমিত সামন্ত বুকস্টলে গিয়ে নিজে হাতে বই পছন্দ করছেন। সাহিত্য রচনাবলী থেকে শুরু করে সিপিএমের দলীয় দলিল নিজেই পছন্দ করে কিনছেন।
এই সৌজন্যই তো এতদিন দেখে এসেছে পশ্চিমবঙ্গ। তৃণমূল সরকারের জমানাতেও এসব বুকস্টল ভাঙচুর দেখা যায়নি। সে কথা বামপন্থী নেতা-নেত্রীরা নিজেরাই স্বীকার করছেন। এবার ব্যাপক হারে বামেদের বুকস্টল ভাঙচুর করা হয়েছে। আর তার মধ্যেই সৌজন্য দেখালেন বিজেপি বিধায়ক। নিজে এসে বামেদের স্টল ঘুরে দেখে বই কিনলেন। আর সেই বইগুলির রসিদ লিখে দেন স্টলে বসে থাকা এক প্রবীণ বাম নেতা। সৌজন্যের পাল্টা সৌজন্য দেখা গেল। আমতার বিজেপি বিধায়ক অমিত সামন্ত সোমবার রাতে নারিট বাজারে থাকা সিপিএমের বুকস্টলে যান। সেখান থেকে তিনি দুটি বই কেনেন। একটি মার্কসীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেকানন্দ, দ্বিতীয়টি কার্ল মার্কসের চোখে ব্রিটিশ ভারত। তারপর বিধায়ক অমিত সামন্ত সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘হতে পারে তাদের চিন্তাধারার সঙ্গে আমার চিন্তাধারাj মিল নেই। কিন্তু যেহেতু বইয়ের দোকান তাই আমি সেখানে গিয়েছি এবং বই কিনেছি। ওই বইয়ের মাধ্যমে নানা বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানতে পারব।’
তাছাড়া বিজেপির বিধায়কের সেখানে উপস্থিতি নজর কেড়েছে। তাঁর এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরোধের বাইরে বইয়ের স্টল এবং মতপ্রকাশের অধিকারকে আলাদা করে দেখার বার্তা বলেই মনে করা হচ্ছে। এই বিষয়ে সিপিএমের কৃষক নেতা পরেশ পাল বলেন, ‘অমিতবাবু যেটা করেছেন নিঃসন্দেহে ভাল। তবে দিকে দিকে যেভাবে সিপিএমের বুকস্টল ভাঙচুর হচ্ছে সেটা নিন্দনীয়। বিজেপি নেতৃত্বরা ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছেন। আমি চাই, চারিদিকে যাতে শান্তি বজায় থাকে সেই উদ্যোগ আরও নেবেন বিজেপি নেতারা।’




