নিষিদ্ধ যন্তর মন্তরের গেট টপকে ঢুকে পড়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই নেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা। পাঁচদিনের জেল হেফাজত হয়েছিল তাঁদের। এবার জেল হেফাজতের মেয়াদ বাড়ল আরও দু’দিন। স্পেশ্যাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই নির্দেশ দিয়েছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সমাজমাধ্যমে কড়া ও দীর্ঘ পোস্ট করে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন তিনি। দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিকে ‘রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট সন্ত্রাস’ এবং ‘পুলিশি অত্যাচার’ হিসেবে তকমা দিয়ে অবিলম্বে ওই তরুণ নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিকে কেন দুই নেতার হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানো হল? সেটার ব্যাখ্যা দিয়ে লিখিত নির্দেশ জারি করেছেন স্পেশ্যাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ঋতু রাজ। ওই নির্দেশে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ যন্তন মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়ে জমায়েত করেছিলেন সৌরভ এবং আশুতোষ। সেখানে বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকেও প্ররোচনা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। কিন্তু সমাজমাধ্যমে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, ‘আশুতোষ ও সৌরভের পুলিশ হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর এই মরিয়া ও সংকীর্ণ মানসিকতা আমি পরিষ্কার বুঝতে পারছি। গণতন্ত্রকে প্রত্যেকদিন আক্রমণ করার জন্য এটি একটি বিপজ্জনক ভাইরাস হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। জেন জি-র ছেলে-মেয়েদের ওপর অত্যাচার বন্ধ করুন। আজ যাঁরা ক্ষমতার মসনদে বসে আছেন, তাঁরা চিরকাল ক্ষমতায় থাকবেন না।’
I can understand the desperate motive to extend the custody of Ashutosh and Saurav. This is a dangerous virus being used on a daily basis to attack democracy. Stop torturing the boys and girls of Gen Z. Those in power today, will not be in power tomorrow. From Kolkata to Delhi to Mumbai – throughout the country, atrocities have reached unprecedented levels. When our forefathers stood up to colonial rulers, they too had to face atrocities and yet they fought with conviction and valor. Let me say it clearly: this is state-sponsored terrorism. These are police-sponsored atrocities. These cannot sustain for long. When people with conviction keep standing up strongly for the cause, to Save India, to Save Democracy- only then will these arrogant and blindfolded politicians in government open their eyes. By that time the people would have won, and the murderers of democracy will be finished.
If you believe in democracy, release Ashutosh and Saurav immediately.— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) October 19, 2026
অন্যদিকে দিল্লি পুলিশের দাবি, শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সিজেপি নেতারা বন্ডে স্বাক্ষর করেছিলেন। তারপরও সমাজমাধ্যমে যন্তর মন্তরে জমায়েতের ডাক দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, সমস্ত শর্ত মেনে চলার প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই সিজেপি নেতাদের বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা সেই শর্ত পালন করেননি। সৌরভ এবং আশুতোষের আইনের প্রতি কোনও শ্রদ্ধা নেই এবং তাঁরা ভবিষ্যতেও আইন ভাঙতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আদালত। আদালত সম্পর্কে কিছু না বললেও এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘এটি সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট সন্ত্রাস। এগুলি পুলিশ-স্পন্সরড অত্যাচার। এই ধরনের জবরদস্তি বেশি দিন টেকে না। যখন আদর্শবাদী মানুষরা ‘ভারতকে বাঁচাও, গণতন্ত্রকে বাঁচাও’ এই স্লোগান তুলে দৃঢ়ভাবে রুখে দাঁড়াবেন, শুধুমাত্র তখনই সরকারের এই অহংকারী এবং অন্ধ রাজনীতিবিদদের চোখ খুলবে। তবে ততক্ষণে দেশের সাধারণ মানুষ জয়ী হয়ে যাবেন এবং গণতন্ত্রের এই খুনিদের পতন সম্পূর্ণ হবে।’
তাছাড়া সিজেপির অভিযোগ, তাঁদের নেতাদের বিরুদ্ধে যেভাবে সতর্কতামূলক পদক্ষেপের নামে আটকে রাখা হচ্ছে সেটা আসলে ‘আইনি’ প্রক্রিয়ার নামে প্রহসন এবং প্রশাসনের অতি সক্রিয়তা। সৌরভ এবং আশুতোষের জামিন না মঞ্জুর হওয়াকে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধের চেষ্টা বলেও দাবি করা হয়েছে দলের পক্ষ থেকে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া বার্তা দিয়ে লিখেছেন, ‘আপনারা যদি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন, তবে অবিলম্বে আশুতোষ এবং সৌরভকে মুক্তি দিন।’




