• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 19 October, 2026

পালামের ঘূর্ণি পিচে বাংলার জয়ের হাতছানি, রঞ্জিতে ফের ছ’পয়েন্টের আশা

ম্যাচ যত তৃতীয় এবং চতুর্থ দিনে গড়াবে, পিচ আরও ফাটবে এবং বল অভাবনীয়ভাবে টার্ন করবে। এই উইকেটে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করা যে কোনও দলের জন্যই দুঃস্বপ্ন হতে চলেছে

পালামের ঘূর্ণি পিচে বাংলার জয়ের হাতছানি, রঞ্জিতে ফের  ছ’পয়েন্টের আশা

Image: X

রঞ্জি ট্রফির এলিট গ্রুপ ‘সি’-র রোমাঞ্চকর ম্যাচে দিল্লির পালাম এ স্টেডিয়ামের উইকেটে প্রথম দুই দিনেই যে ধরনের নাটক দেখা গিয়েছে, তাতে ম্যাচ বাঁচানো নয়, বরং জয়ের স্বপ্ন দেখতেই পারে বাংলা। যদিও দ্বিতীয় দিনের শেষে সার্ভিসেস বিনা উইকেটে ১২ রান তুলেছে, তবে জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন আরও ১৯৭ রান। চতুর্থ ইনিংসে এই ঘূর্ণি পিচে ২০৯ রান তাড়া করা যে কোনও দলের জন্যই বেশ কঠিন।

পালামের এয়ার ফোর্স কমপ্লেক্স মাঠের ২২ গজে প্রথম দিন থেকেই স্পিনারদের স্বর্গরাজ্য। এই উইকেটে প্রথম ইনিংসে সার্ভিসেসের পুলকিত নারাং ৫ উইকেট নেন, আর দ্বিতীয় ইনিংসে রাহুল সিং ধস নামান বাংলার ব্যাটিংয়ে (৫/৪৩)। ম্যাচ যত তৃতীয় এবং চতুর্থ দিনে গড়াবে, পিচ আরও ফাটবে এবং বল অভাবনীয়ভাবে টার্ন করবে। এই উইকেটে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করা যে কোনও দলের জন্যই দুঃস্বপ্ন হতে চলেছে।

আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: পর্দার ‘সৌরভ’ রাজকুমারের সঙ্গে ম্যাডক্স স্কোয়ারে আসল সৌরভ, ঢাক বাজালেন কোনজন?

প্রথম ইনিংসে সার্ভিসেসকে মাত্র ১২২ রানে অল-আউট করার পেছনে মূল কারিগর ছিলেন বাংলার দুই স্পিনার—শাহবাজ আহমেদ (৪/৩৫) এবং আমির গনি (৪/৩১)। এই দুই স্পিনারের কাছে দিল্লির এই উইকেট থেকে বিষাক্ত টার্ন আদায় করার সব রকম অস্ত্র রয়েছে। সার্ভিসেসের ব্যাটিং লাইন-আপকে শুরুতেই ধাক্কা দিতে পারলে ম্যাচ পুরোপুরি বাংলার নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

সার্ভিসেসের প্রথম ইনিংসের দিকে তাকালে দেখা যায়, অধিনায়ক রজত পালিওয়াল (৪৮*) ছাড়া তাদের আর কোনও ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরেও পৌঁছাতে পারেননি। অর্থাৎ, এই উইকেটে একবার উইকেট পড়া শুরু হলে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে সার্ভিসেসের মিডল ও লোয়ার অর্ডার। বাংলা যদি তৃতীয় দিন সকালে দ্রুত ২-৩টি উইকেট তুলে চাপ তৈরি করতে পারে, তবে লক্ষ্য ২০৯ রান হলেও সার্ভিসেসকে ১০০-১২৫ রানের মধ্যে গুটিয়ে দেওয়া অসম্ভব কিছু নয়।

আরও পড়ুন: আগরকরের জায়গায় রমেশ পওয়ার, ভারতীয় বোর্ডের নতুন প্রধান নির্বাচক প্রজ্ঞান ওঝা

আকাশ দীপ ও মুকেশ কুমার ভারত ‘এ’ দলের সঙ্গে নিউজিল্যান্ড যাওয়ার কারণে স্কোয়াডে নেই। বড় ভাই মহম্মদ শামিকে এই ম্যাচে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। ফলে তরুণ পেসার প্রদীপ্ত প্রামাণিক (প্রথম ইনিংসে ২ উইকেট) এবং শামির ভাই মহম্মদ কাইফের সামনে এটি নিজেদের জাত চেনানোর এক সুবর্ণ সুযোগ। কন্ডিশন ব্যবহার করে তারা যদি স্পিনারদের যোগ্য পার্টনার হিসেবে দু-একটি শিকার এনে দিতে পারেন, তবে বাংলার জয় নিশ্চিত।

কাগজে-কলমে সার্ভিসেসের লক্ষ্য ১৯৭ রান মনে হলেও, এই উইকেটের চরিত্র অনুযায়ী পাল্লা বাংলার দিকেই ভারী। অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণ দুই ইনিংসেই লড়াই করে (৫৬ ও ৩০ রান) দলকে যে ২০০ পার করা পুঁজি এনে দিয়েছেন, তা ডিফেন্ড করার জন্য বাংলার বোলারদের কেবল সঠিক লাইনে বল করে যেতে হবে। তৃতীয় দিন সকালের প্রথম সেশনই ঠিক করে দেবে রঞ্জি ট্রফির এই ম্যাচে বাংলা পুরো পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়বে কি না।

দেখুন: বাঙালি সাজে প্যান্ডেল হপিংয়ে রাজকুমার রাও, মহাষ্টমীতে সৌরভের সঙ্গে পুজো পরিক্রমা