চোরবাগানের ঘটনায় (Chorbagan Incident) ১৯ জনের মৃ্ত্যুতে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মণ্ডপে ঘোষণা এবং বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীদের বারবার বাঁশি বাজানো থেকে দর্শনার্থীদের মধ্যে হঠাৎ হুড়োহুড়ি শুরু হয় কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে এই সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক পুলিশ আধিকারিকের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘোষণা এবং নিরাপত্তারক্ষীদের বারবার বাঁশি বাজানো বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
শনিবার সন্ধ্যায় চোরবাগান পুজো মণ্ডপের দুর্ঘটনায় (Chorbagan Incident) ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর মণ্ডপের ভিড় নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তারক্ষীদের ভূমিকা, ঘোষণা এবং দর্শনার্থীদের যাতায়াতের ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এক্সে একটি পোস্টে শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, এক অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অফ পুলিশ (এসিপি)-এর কাছ থেকে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মণ্ডপে ঘোষণা করার পর বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার কর্মীদের বারবার বাঁশি বাজানোয় পরিস্থিতি জটিল হয়ে থাকতে পারে। যদিও এই ঘটনার সঙ্গে ওই ঘোষণা বা বাঁশি বাজানোর সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘটনার স্বচ্ছ তদন্তের আশ্বাস দেওয়ায় তাঁকে স্বাগত জানিয়েছেন শমীক। তাঁর বক্তব্য, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনও রাজনৈতিক দলেরই অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে জড়ানো উচিত নয়।
অত্যন্ত মর্মান্তিক ও দুঃখজনক ঘটনা। এই কঠিন সময়ে সর্বাগ্রে প্রয়োজন সংবেদনশীলতা, ধৈর্য এবং সত্য উদ্ঘাটনের জন্য নিরপেক্ষ তদন্ত। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ACP-র প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, একটি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার ঘোষণা এবং কয়েকবার হুইসেল বাজানোর পর পরিস্থিতির সূত্রপাত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার আগে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সমীচীন নয়। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শ্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে সেই দায়িত্বশীল মনোভাবই প্রতিফলিত হয়েছে—তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও আগাম মন্তব্য নয়, বরং পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে সঠিক তদন্তের আশ্বাস। পুজো কমিটির সদস্য ও নিরাপত্তা সংস্থার কর্মীদের আটক করে ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে থাকার এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় সবরকম সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই শোকের মুহূর্তে কোনওরকম রাজনৈতিক চাপানউতোর নয়, বরং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানো, প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং দোষীদের আইন অনুযায়ী বিচারের আওতায় আনা—এটাই হওয়া উচিত আমাদের সকলের অগ্রাধিকার। স্বচ্ছ তদন্ত, মানবিক সহায়তা এবং ন্যায়বিচার—এই তিনটি বিষয়ই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
— Samik Bhattacharya (@SamikBJP) October 17, 2026
পুজো উদ্যোক্তা ও নিরাপত্তাকর্মীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ
শমীকের দাবি অনুযায়ী, ঘটনার তদন্তে পুজো কমিটির সদস্য এবং বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার কর্মীদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দর্শনার্থীদের নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কোনও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কি না, ঘোষণা বা নিরাপত্তাকর্মীদের পদক্ষেপে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।
পাশাপাশি, প্রবল বৃষ্টি এবং মণ্ডপের আশপাশে যানজট ও অতিরিক্ত ভিড়ও দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। শনিবার সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার মুক্তারামবাবু স্ট্রিটের ওই জনপ্রিয় পুজো মণ্ডপে প্রচুর দর্শনার্থীরা ভিড় করেছিল। বিভিন্ন প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্যে মণ্ডপে ভিড়ের চাপ, মানুষের চলাচল এবং প্রবেশ ও বেরোনোর পথ নিয়ে বিভ্রান্তির বিষয়টিও উঠে এসেছে।
বৃষ্টির মধ্যে দর্শনার্থীদের হঠাৎ একসঙ্গে জড়ো হওয়া, ভিড় নিয়ন্ত্রণে সম্ভাব্য ত্রুটি এবং প্রবেশ ও নির্গমন ব্যবস্থার সমস্যার জেরেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল কি না।
শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল স্বচ্ছ তদন্ত, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে মানবিক সহায়তা এবং ন্যায়বিচার। তাঁর মতে, তদন্তে কারও গাফিলতি প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: চোরবাগানের পদপিষ্টের ঘটনার ভিডিও ভাইরাল, বৃষ্টির মধ্যেই আহতদের উদ্ধার এবং চালু হেল্পলাইন
মৃতদের পরিবারের প্রতি শোকপ্রকাশ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের
চোরবাগানে প্রাণহানির ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎ প্রকাশ নাড্ডা। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, স্থানীয় প্রশাসন উদ্ধার ও ত্রাণের কাজে নিয়োজিত রয়েছে।
প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানও এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন তিনি। কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক ও সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুও প্রাণহানির ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করে মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
মৃতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা ও সরকারি চাকরির ঘোষণা
এই দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারপিছু ২৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য এবং পরিবারের এক জনকে সরকারি চাকরি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন।
বর্তমানে পুলিশের তদন্তের মূল নজর দুর্ঘটনার আগে মণ্ডপে ঠিক কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, কী ধরনের ঘোষণা করা হয়েছিল, নিরাপত্তাকর্মীরা কী পদক্ষেপ করেছিলেন এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, সেই বিষয়গুলির উপর। তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে, কী কারণে মুহূর্তের মধ্যে ভিড়ের পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয় এবং এই ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না।
দেখুন:




