বৃষ্টির মধ্যে ছোটাছুটি, চিৎকার, কান্না আর আতঙ্ক। কেউ মাটিতে বসে পড়েছেন তো কেউ আবার অচেতন অবস্থান পড়ে রয়েছেন। আহতদের কাউকে পাঁজাকোলা করে আবার কাউকে চ্যাংদোলা করে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয়রা। সপ্তমীর সন্ধ্য়ায় চোরবাগানে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনার (Chorbagan Incident) পর এমনই একাধিক ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে সেই ভিডিওগুলি। যদিও ভিডিওগুলির (Chorbagan Incident)সত্যতা যাচাই করেনি দৈনিক স্টেটসম্যান।
সপ্তমীর সন্ধ্যায় উত্তর ও মধ্য কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়। তার জেরে বিভিন্ন রাস্তায় তীব্র যানজট তৈরি হয়েছিল। সেই সময় চোরবাগানের পুজো মণ্ডপে দর্শনার্থীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয় বলে খবর। এক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বহু মানুষ একসঙ্গে মণ্ডপের ভিতরে ঢোকার (Chorbagan Incident) চেষ্টা করেন। সেই সময় শুরু হয় ঠেলাঠেলি। এর জেরে কয়েকজন মণ্ডপের ভিতরের বৃত্তাকার পথে পড়ে যান এবং পদপিষ্ট হোয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২৫ জন। তাঁদের মধ্যে কয়েক জনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে খবর।
ভিডিওতে কী দেখা যাচ্ছে?
এক্স হ্যান্ডলে শেয়ার করা একাধিক ভিডিওতে দেখা গিয়েছে চোরবাগানের পুজো মণ্ডপের (Chorbagan Incident) বাইরে ভিড়ে ঠাসা ছবি। চারদিকে বৃষ্টি, তার মধ্যেই শোনা যাচ্ছে চিৎকার ও কান্নার আওয়াজ। কয়েক জনকে মাটিতে বসে থাকতে দেখা গিয়েছে। কেউ কেউ অচেতন অবস্থায় পড়ে রয়েছেন বলেও মনে হয়েছে। তাঁদের ঘিরে জড়ো হয়েছেন বহু মানুষ। অন্যদিকে আতঙ্কিত অবস্থায় বৃষ্টির মধ্যে ছোটাছুটি করছেন অনেকে। ভিডিওতে কয়েক জনকে আহতদের মণ্ডপের ভিতর থেকে পাঁজাকোলা করে এবং চ্যাংদোলা করে বাইরে নিয়ে যেতে দেখা গিয়েছে। দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল, সেই ছবিই ফুটে উঠেছে ভাইরাল ভিডিওতে।
৩৬০ ডিগ্রির ভাবনায় তৈরি হয়েছিল মণ্ডপ
চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির ২০২৬ সালের পুজো থিম ‘অরব’। ইংরেজিতে যার ব্যাখ্যা ‘বিয়ন্ড সাউন্ড’। শব্দের পরিচিত সীমা অতিক্রম করে নীরবতার গভীরে পৌঁছনোর ভাবনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছিল এই মণ্ডপ। সেরার সেরা পুজোর তালিকায় তৃতীয় স্থানেও ছিল এই পুজো। তবে মণ্ডপের পরিকল্পনা শুধু শব্দ ও নীরবতার ভাবনায় সীমাবদ্ধ ছিল না। ৩৬০ ডিগ্রির ধারণাকে সামনে রেখেও তৈরি করা হয়েছিল মণ্ডপটি।
হাসপাতালে মুখ্যমন্ত্রী, আহতদের চিকিৎসা চলছে
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শনিবার রাতেই হাসপাতালে পৌঁছোন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) । পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি পুজো কমিটির সদস্যদের থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন তিনি। কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দও (Ajay Nanda) হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতির খোঁজ নেন।
কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে খবর, আহতদের ইমার্জেন্সি অবজারভেশন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা চলছে। তাঁদের মধ্যে ১১ জনকে এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিতকরা হয়েছে। হাসপাতালের একটি সূত্রের দাবি, মৃত ১৯ জনের মধ্যে তিন জন পুরুষ, এক জন শিশু এবং ১৩ জন মহিলা রয়েছেন।
তদন্তের নির্দেশ, চালু হেল্পলাইন
দুর্ঘটনার (Chorbagan Incident) কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্তের আশ্বায় দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, পুজো মণ্ডপে কারা দায়িত্বে ছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হবে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় তদন্তও করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। পুজো কমিটির ১২ জন সদস্যকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ বলে খবর।
এদিকে, দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সহায়তার জন্য চালু করা হয়েছে একটি টোল-ফ্রি হেল্পলাইন। নম্বর 18003455678। চোরবাগানের এই মর্মান্তিক ঘটনার পর দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।
দেখুন:




