লেহেরা দো তিরঙ্গা-এই কর্মসূচিতে সামিল হয়ে দিল্লি পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন আইসা নেত্রী নেহা বোরা। সারারাত আটক থাকার পর শনিবার ভোরে থেকে ছাড়া পেলেন আইসা নেত্রী নেহা বোরা। দিল্লির আর কে পুরম থানা থেকে এদিন সকালে মুক্তি দেওয়া হয় আইসা নেত্রীকে। তবে নেহা মুক্তি পেলেও এখনও ছাড়া পাননি ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। দিল্লি পুলিশ সূত্রে খবর, দিপকে-কে প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট করা হয়েছে। ‘তেরঙা ওড়াও’ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার পথে মান্ডি হাউস থেকে আটক হন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) নেত্রী নেহা বোরা।
এদিকে ১২ ঘণ্টার বেশি আটক রাখার পর, দিল্লি জুড়ে পাঁচটা থানায় আলাদা আলাদা কেস এবং ডিটেনশন দেখানোর পর সকালে ছাড়া পেলেন নেহা বোরা। সিপিএম সাংসদ জন ব্রিটাস জানান, পুলিশ নেহাকে কোথায় তুলে নিয়ে গিয়েছিল সে সম্পর্কে কিছুই জানায়নি। তাঁদের ডাকে দিল্লির কনট প্লেসের কাছে জড়ো হয়েছিলেন যে প্রায় দু’হাজার কর্মী-সমর্থক তাঁদের হটিয়ে দেয় পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। সরকারি নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই দিল্লিতে ‘তেরঙা ওড়াও’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন অভিজিৎ দিপকে। সেখানে যোগ দিতে যাওয়ার আগেই বাড়ির সামনে থেকে আটক করা হয় অভিজিৎ দিপকে-কে। চলতি সপ্তাহে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট করা হল সিজেপি প্রধানকে। তার পর মান্ডি হাউসের কাছে থেকে আটক করা হয় আইসার সর্বভারতীয় সভানেত্রী নেহা বোরাকেও।
অন্যদিকে সোমবার যন্তর মন্তরে গেট টপকে ঢোকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন আশুতোষ এবং সৌরভ। এখনও তিহাড় জেলে রয়েছেন। রাতে আইসার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, নেহা বোরাকে কোনও অজ্ঞাত জায়গায় নিয়ে গিয়েছে পুলিশ। তাঁর এক্স অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা হয়েছে, ‘নেহা বোরাকে একা আটক করে অজ্ঞাত জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নেহা কোথায়? দিল্লি পুলিশকে অবশ্যই জবাব দিতে হবে। আবারও একটি অপহরণ।’
তাছাড়া সিপিএম সাংসদ ব্রিটাসের অভিযোগ, নেহা বোরাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সেটা জানা যায়নি। ফোন ছাড়া নেহাকে পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়েছিল। আর শনিবারই অভিজিৎ দিপকে-কে নয়াদিল্লির বিশেষ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসে হাজির করানো হয়। আর ছাড়া পাওয়ার পর নেহা বোরা সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘বিনা কারণে আটক করে বিক্ষোভকারীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা হেপাজতে রাখা হচ্ছে। সাধারণ নাগরিকদের ভয় দেখানোর জন্যই এই ধরনের পদক্ষেপ করা হচ্ছে। আমরা দেখছি বিক্ষোভকারীদের আটক বা গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। পরদিন সকালে বা সন্ধ্যায় তাঁদের আবার ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে সেই পরিস্থিতির সম্মুখীন হলাম। কেন এমন অবৈধ ভাবে আটক করা হচ্ছে?’




