• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 17 October, 2026

শরৎ এল রে: ৩০৯ বছরের বনেদিয়ানা, পুজোর রাশ ‘নারীশক্তি’র হাতে

দত্ত পরিবারের সদস্যদের কথায়, দক্ষিণ দামোদর অঞ্চলের এক সময়ের প্রভাবশালী জমিদার বংশের এই পুজোর সূচনা প্রায় ৩০৯ বছর আগে। বংশপরম্পরায় প্রচলিত তথ্য ও প্রাচীন নথি অনুযায়ী, তাঁদের পূর্বপুরুষ প্রয়াত ব্যোমকালী দত্ত এই পুজো শুরু করেন। সেই থেকে নিষ্ঠার সঙ্গে চলে আসছে দেবী আরাধনা

শরৎ এল রে: ৩০৯ বছরের বনেদিয়ানা, পুজোর রাশ ‘নারীশক্তি’র হাতে

Image: SNS

তিন শতাব্দীর ঐতিহ্য অটুট। সাবেকি আচারেও নেই ছেদ। তবু সময়ের সঙ্গে বদলাচ্ছে পূর্ব বর্ধমানের রায়নার বন্তির গ্রামের দত্তবাড়ির দুর্গাপুজো। ৩০৯ বছরের প্রাচীন এই পুজোয় এবারও বিশেষ আকর্ষণ পরিবারের মেয়ে ও পুত্রবধূদের উদ্যোগে গড়ে ওঠা মহিলা পুজো কমিটি ‘নারীশক্তি’। বনেদি বাড়ির পুজোর দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়ে ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের যোগসূত্র আরও দৃঢ় করছেন তাঁরা।

দত্ত পরিবারের সদস্যদের কথায়, দক্ষিণ দামোদর অঞ্চলের এক সময়ের প্রভাবশালী জমিদার বংশের এই পুজোর সূচনা প্রায় ৩০৯ বছর আগে। বংশপরম্পরায় প্রচলিত তথ্য ও প্রাচীন নথি অনুযায়ী, তাঁদের পূর্বপুরুষ প্রয়াত ব্যোমকালী দত্ত এই পুজো শুরু করেন। সেই থেকে নিষ্ঠার সঙ্গে চলে আসছে দেবী আরাধনা।

আরও পড়ুন: উমা এল ঘরে: ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় দেবী দুর্গার বোধন, দেবীকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলার আয়োজন

প্রাচীনত্বের পাশাপাশি দত্তবাড়ির প্রতিমাতেও রয়েছে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য। ডাকের সাজে একচালার কাঠামোয় অধিষ্ঠিত দেবী দুর্গা। সঙ্গে থাকেন লক্ষ্মী ও সরস্বতী। কার্তিক ও গণেশের অবস্থান মায়ের দুই পাশে আলাদা করে। প্রতিমার অস্ত্রশস্ত্রও সম্পূর্ণ পিতলের তৈরি। পারিবারিক রীতি মেনেই সম্পন্ন হয় পুজোর যাবতীয় আচার।

এতদিন পুজোর আয়োজনের মূল দায়িত্বে ছিলেন পরিবারের পুরুষ সদস্যরা। গত দু’বছরে মহিলাদের সক্রিয় অংশগ্রহণে প্রস্তুতিতে এসেছে নতুন গতি। গত বছর থেকে বাড়ির মেয়েরা ও পুত্রবধূরা সরাসরি পরিচালনার দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নেন। তাঁদের সম্মিলিত উদ্যোগেই ‘নারীশক্তি’র পথচলা। পুরুষ সদস্যদের সহযোগিতায় পুজোর আয়োজন সামলানোর পাশাপাশি চার দিনের উৎসবে থাকছে কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা, মজার প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ধুনুচি নাচ।

আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: বেলগাছ ছাড়া দুর্গাপুজো অসম্পূর্ণ, জেনে নিন এর পিছনের পৌরাণিক কাহিনি?

কর্মসূত্রে পরিবারের বহু সদস্য এখন বিভিন্ন শহরে, কেউ কেউ বিদেশেও থাকেন। কিন্তু পুজোর টানে প্রতি বছরই পৈতৃক ভিটেয় ফেরেন তাঁরা। দত্তবাড়ির শারদোৎসব তাই শুধু ধর্মীয় আয়োজন নয়, প্রজন্মের মিলনমেলা এবং শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখার উপলক্ষও। দুর্গাপুজোর পাশাপাশি এখানে পালিত হয় দোল, চড়ক, গাজন, সরস্বতী পুজো ও রথযাত্রাও।

দেখুন: