• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 15 October, 2026

‘১৫ বছরের খেলোয়াড়রাও পদক জিতছে’— প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যে চওড়া হাসি বৈভব সূর্যবংশীর মুখে!

ভারতে খেলাধুলোর পরিকাঠামো গড়ে তোলার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংকল্প ও স্বপ্ন এক দিনে পূরণ হয় না। এর জন্য বছরের পর বছর

‘১৫ বছরের খেলোয়াড়রাও পদক জিতছে’— প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যে চওড়া হাসি বৈভব সূর্যবংশীর মুখে!

Felicitation To Asian Games Medal Winners By PM Modi Photo-SNS

এশিয়ান গেমসে পদকজয়ী ভারতীয় খেলোয়াড়দের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে তরুণদের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এবং ১৫ ও ১৭ বছর বয়সি খেলোয়াড়দের কৃতিত্বের কথা উল্লেখ করতেই বেশ চওড়া হাসি দেখা যায় ভারতীয় ক্রিকেটের বিস্ময়প্রতিভা বৈভব সূর্যবংশীর মুখে।

বয়স যে সাফল্যের পথে বাধা হতে পারে না, আরও এক বার সেই বার্তাই দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আজ, বৃহস্পতিবার এশিয়ান গেমসে পদকজয়ী ভারতীয় খেলোয়াড়দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। সেখানে মাত্র ১৫ ও ১৭ বছর বয়সে পদক জেতা খেলোয়াড়দের কথা বিশেষ ভাবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর সেই মন্তব্যের সময় ক্যামেরায় ধরা পড়ে তরুণ ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশীর হাসিমুখ। এই মুহূর্তটিই নজর কেড়ে নেয় সবার। ভাইরালও হয়ে যায় সেই দৃশ্য।

তরুণদের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত মোদী

এশিয়ান গেমসে ভারতীয় খেলোয়াড়দের সাফল্যের প্রশংসা করতে গিয়ে মোদী বলেন, আবেগ যখন জয়ে পরিণত হয়, তখন পদকের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের মুখের উজ্জ্বলতাও গোটা দেশকে গর্বিত করে। তাঁর কথায়, এত পদকজয়ীর সঙ্গে দেখা করাই তাঁর পক্ষে এক আনন্দের অভিজ্ঞতা।

১৫ ও ১৭ বছর বয়সি খেলোয়াড়দের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বোঝাতে চেয়েছেন, প্রতিভা এবং সাফল্যের কোনও নির্দিষ্ট বয়স নেই। কম বয়সেই যে খেলোয়াড়েরা দেশের হয়ে বড় মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করছেন, তাঁদের কৃতিত্ব ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও অনুপ্রাণিত করবে।

বৈভবের হাসি ঘিরে চর্চা

মোদীর বক্তব্যের সময় বৈভবের মুখে হাসি দেখা যায়। ১৫ বছর বয়সেই ভারতীয় ক্রিকেটে নজর কেড়েছেন তিনি। তাঁর এই সাফল্য এবং এশিয়ান গেমসে ভারতের হয়ে সোনা জয়ের অভিজ্ঞতা তাঁকে দেশের ক্রীড়ামহলে বিশেষ পরিচিতি দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী অবশ্য তাঁর বক্তব্যে বৈভবের নাম সরাসরি করেননি। তবে কমবয়সি পদকজয়ীদের উল্লেখ এবং বৈভবের প্রতিক্রিয়া দেখে অনেকেই মনে করছেন, তাঁর কথার সঙ্গে তরুণ ক্রিকেটারের সাফল্যের যোগ রয়েছে। তিরন্দাজির ১৭ বছর বয়সি পদকজয়ী কুমকুম মহোড়ের মতো তরুণ প্রতিভারাও এই প্রসঙ্গে উঠে এসেছেন।

মেয়েদের সাফল্যেও বিশেষ জোর

ভারতের পদকজয়ের ক্ষেত্রে মহিলা খেলোয়াড়দের অবদানের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতের মোট ৮৫টি পদকের মধ্যে ৩৮টি জিতেছেন মেয়েরা, যার মধ্যে রয়েছে ১১টি সোনার পদক। দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে মহিলাদের ক্রমবর্ধমান সাফল্যকে তিনি নতুন ভারতের শক্তির প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরেন।

ভারতের মহিলা হকি দল ৪৪ বছরের অপেক্ষা শেষ করে এশিয়ান গেমসে সোনা জিতেছে। সেই সাফল্যের প্রশংসা করে মোদী বলেন, ‘মহিলা হকি দলের সোনা জয় ৪৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে। এই সাফল্য অত্যন্ত প্রশংসনীয়’। পুরুষ ও মহিলা ক্রিকেট দল এবং তিরন্দাজদের পাঁচটি সোনার পদক জয়ের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

 

‘আপনারা ১৪০ কোটি ভারতীয়কে গর্বিত করেছেন’

বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লির মেজর ধ্যানচাঁদ স্টেডিয়ামে ভারতের পুরুষ ও মহিলা ক্রিকেট দলের পাশাপাশি হকি দল এবং তিরন্দাজদের সাফল্যেরও বিশেষ প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। জানান, ২০৩৬ সালের অলিম্পিক আয়োজন করাই এখন ভারতের লক্ষ্য। এশিয়ান গেমসে ভারতের হয়ে পদক জিতে দেশকে গর্বিত করেছেন খেলোয়াড়েরা। তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাতে মোদী বলেন, ‘আপনারা ১৪০ কোটি ভারতীয়কে গর্বিত করেছেন। তেরঙ্গাকে উঁচুতে তুলে ধরাই সবচেয়ে বড় সাফল্য। তাই আপনাদের এই সাফল্য শুধু আপনাদের নয়, দেশের কোটি কোটি মানুষেরও। গোটা দেশের পক্ষ থেকে আপনাদের অভিনন্দন জানাই’।

এ বারের এশিয়ান গেমসে জাপানের আইচি-নাগোয়া থেকে মোট ৮৫টি পদক নিয়ে ফিরেছে ভারত। তার মধ্যে ২১টি সোনা, ২৭টি রুপো এবং ৩৭টি ব্রোঞ্জ। পদক তালিকায় চতুর্থ স্থানে শেষ করেছে ভারত। ২০২৩ সালের হাংঝৌ এশিয়ান গেমসে ১০৬টি পদক জিতেছিল দেশ। এ বার মোট পদকের সংখ্যা কমলেও একাধিক নতুন খেলায় ভারতীয়দের সাফল্য নজর কেড়েছে।

২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের লক্ষ্য

শুধু পদক জয় নয়, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের ক্ষেত্রেও ভারতকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন মোদী। তাঁর কথায়, ‘আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য ভারত ক্রমশ একটি নির্ভরযোগ্য ও অতিথিপরায়ণ দেশ হয়ে উঠছে। আমরা ২০৩৬ সালের অলিম্পিক আয়োজনের জন্য আবেদন করছি। সেই প্রতিযোগিতা আয়োজন করাই আমাদের সংকল্প’।

ভারতে খেলাধুলোর পরিকাঠামো গড়ে তোলার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংকল্প ও স্বপ্ন এক দিনে পূরণ হয় না। এর জন্য বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠা প্রয়োজন’। গত ১২ বছরে দেশে একটি ক্রীড়া-পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য ধারাবাহিক চেষ্টা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, এক সময়ে বড় প্রতিযোগিতায় ভারতের পদক জয় ছিল সীমিত। সেই হতাশা কাটিয়ে এখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও বেশি খেলায় ভারতীয়দের উপস্থিতি বাড়ছে।

ক্রিকেট ও হকির জার্সি উপহার

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী ভারতীয় পুরুষ ও মহিলা ক্রিকেট দলের সদস্যেরা। পুরুষ দলের নেতৃত্বে ছিলেন শ্রেয়স আইয়ার। মহিলা দলের প্রাক্তন অধিনায়ক