বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা এবং কিংবদন্তী ফুটবলার হলে স্যর ববি চার্লটন। ১৯৩৭ সালের ১১ অক্টোবর ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন এই মহাতারকা। ২০২৩ সালের ২১ অক্টোবর ৮৬ বছর বয়সে প্রয়াত হন তিনি।
ববি চার্লটনের জীবনের অন্যতম বড় দুর্ঘটনা হল ১৯৫৮ সালের মিউনিখ বিমান দুর্ঘটনা। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেজের তৎকালীন তরুণ ও প্রতিভাবান দল ‘বাসবি বেবস’-এর ৮ জন মূল ফুটবলারসহ মোট ২৩ জন এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। চার্লটন এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরেন। এরপর শোক কাটিয়ে উঠে তিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড দলটিকে নতুন করে গড়ে তোলার মূল কাণ্ডারি হয়ে ওঠেন।
১৯৬৬ সালে তাঁর নেতৃত্বে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ জয় করে। বিশ্বকাপে অসাধারণ পারফরম্যান্সের কারণে একই বছর তিনি ইউরোপের সেরা ফুটবলার হিসেবে ব্যালন ডি’অর পান। ইংল্যান্ডের জাতীয় দলের হয়ে তিনি ১০৬টি ম্যাচ খেলে ৪৯টি গোল করেছিলেন। দীর্ঘদিন তাঁর এই গোলের রেকর্ড অক্ষুণ্ন ছিল, যা পরবর্তীতে ওয়েন রুনি এবং হ্যারি কেন ভাঙেন।
ক্লাব ফুটবলে ববি চার্লটনের ক্যারিয়ারের সোনালী সময় ১৯৫৬-১৯৭৩ পর্যন্ত। ক্লাবের হয়ে তিনি ৭৫৮টি ম্যাচ খেলে ২৪৯টি গোল করেন। ১৯৬৮ সালে তাঁর অধিনায়কত্বেই ম্যানস্টার ইউনাইটেড প্রথম ইংলিশ ক্লাব হিসেবে ইউরোপিয়ান কাপ (বর্তমান চ্যাম্পিয়ন্স লিগ) জয় করে। ফাইনালে তিনি দু’টি গোল করেছিলেন। এছাড়া ক্লাবের হয়ে তিনি ৩টি ফার্সট ডিভিশন লিগ চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ১টি এফএ কাপ জেতেন। ফুটবল মাঠে তাঁর অবদানের প্রতি সম্মান জানিয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ওল্ড ট্রাফোর্ড স্টেডিয়ামের সাউথ স্ট্যান্ডটির নামকরণ করা হয় স্যর ববি চার্লটন স্ট্যান্ড।
মাঠে তিনি আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার এবং ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলতেন। নিখুঁত পাসিং এবং দূরপাল্লার বুলেট গতির শটের জন্য তিনি প্রতিপক্ষের কাছে অত্যন্ত বিপজ্জনক ছিলেন। পুরো ক্যারিয়ার জুড়ে অনন্য শৃঙ্খলা ও নম্রতার প্রতীক ছিলেন তিনি। দীর্ঘ ক্যারিয়ার জীবনে তিনি কখনই লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়নি। ১৯৯৪ সালে ব্রিটিশ রাজপরিবার থেকে তাঁকে সম্মানসূচক ‘নাইটহুড’ উপাধি দেওয়া হয়।




