সিজেপি (CJP)-র দুই নেতার জেল হেফাজত নিয়ে সরব হল বিরোধী শিবির। সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার জেল নিয়ে কেন্দ্রকে একযোগে নিশানা করল কংগ্রেস, তৃণমূল, আপ, ডিএমকে এবং শিবসেনা। তাঁদের বক্তব্য জাতীয় পতাকা ওড়ানো কখনও অপরাধ হতে পারে না।
মঙ্গলবার সকালে যন্তর মন্তরে ঢুকে জাতীয় পতাকা ওড়ান সিজেপির দুই নেতা সৌরভ ও আশুতোষ। তালাবন্ধ গেট টপকে এবং ব্যারিকেড পেরিয়ে তাঁরা ওই এলাকায় ঢুকে পড়েন। একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, ফাঁকা জায়গায় ঢুকে জাতীয় পতাকা ওড়াচ্ছেন তাঁরা। এর পরেই পুলিশ তাঁদের ধাওয়া করে।
আরও পড়ুন: যন্তর মন্তরে ঢুকে গ্রেপ্তার, সিজেপির দুই নেতার পাঁচ দিনের জেল হেফাজত, ছাড়া পেলেন অজিঙ্ক
এর আগের দিনই দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত স্থানগুলির তালিকা থেকে যন্তর মন্তরের নাম বাদ দেয়। তার পর থেকে ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে রাখা হয় এলাকাটি। বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তাও।
আরও পড়ুন: যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা ওড়ানো অপরাধ নয়, সিজেপির পাশে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রকে নিশানা রাহুলের
বুধবার আদালত সৌরভ ও আশুতোষকে পাঁচ দিনের জন্য তিহাড় জেলে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। সিজেপি (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, জাতীয় পতাকা ওড়ানোর জন্যই তাঁদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রও দুই নেতার পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘গুন্ডা ও লুটেরাদের হাত থেকে দেশ পুনরুদ্ধার করব।‘
With you boys. We will reclaim this country from these thugs & looteras. https://t.co/4EtvCdRFZv
— Mahua Moitra (@MahuaMoitra) October 14, 2026
তৃণমূলের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই গ্রেপ্তারির সমালোচনা করেছেন। তাঁর কটাক্ষ, নিজেদের জাতীয়তাবাদী বলে দাবি করা ব্যক্তিরাই এখন দেশের নাগরিকদের জাতীয় পতাকা ওড়ানোর জন্য গ্রেপ্তার করছেন। জাতীয় পতাকা ওড়ানোকে শান্তিভঙ্গের কারণ হিসেবে দেখছে কেন্দ্রীয় সরকার।
The so called biggest nationalists are now arresting Indians for unfurling and waving the Tricolour in their own country, an act which, according to the Union Government constitutes a breach of peace. Welcome to the @BJP4India’s new Pakistanified Bharat.
— Abhishek Banerjee (@abhishekaitc) October 14, 2026
শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা আদিত্য ঠাকরেও এই ঘটনার নিন্দা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, জাতীয় পতাকা হাতে তুলে নেওয়ার জন্যই দুই নেতাকে জেলে পাঠানো হয়েছে। দেশের তরুণেরা নিজেদের জাতীয় পতাকা ধরলে তা কখন থেকে অপরাধ বলে গণ্য হতে শুরু করল, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানিয়েছেন আদিত্য।
The regime has jailed @SauravDassss and @AshutoshRanka for holding the tricolour at Jantar Mantar! Since when did holding our own national flag, in our own country by young Indians, become a crime? The regime vs the patriotic young Indians fight shall go on till we reclaim democracy from this dictatorship!
— Aaditya Thackeray (@AUThackeray) October 14, 2026
আপের প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ার প্রশ্ন তুলেছেন, নিজের দেশে জাতীয় পতাকা ওড়ানো কি অপরাধ? এই পদক্ষেপকে ‘সম্পূর্ণ হাস্যকর’ বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি।
Is waving our own flag in our own country a crime? This is absolutely ridiculous
— Arvind Kejriwal (@ArvindKejriwal) October 14, 2026
ডিএমকে সভাপতি এম কে স্ট্যালিনের প্রশ্ন, বিজেপি আর কত তরুণের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করার চেষ্টা করবে? তাঁর বক্তব্য, এ ভাবে গ্রেপ্তারির সংখ্যা বাড়লে সাধারণ মানুষ আরও বেশি করে পথে নামবেন। সিজেপির দুই নেতাকে আইনি লড়াইয়ে সম্পূর্ণ সহায়তা করার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
How many protestors can this government detain? How many young voices can the BJP silence? The more young people they jail, the more ordinary citizens, with no political affiliation, will take to the streets and show them the true power of the people! Solidarity with @AshutoshRanka and @SauravDassss! The DMK stands ready to provide them with all necessary legal representation and support. ✊🏾 #CJP #GyaneshKumarMustGo
— M.K.Stalin (@mkstalin) October 14, 2026
অন্য দিকে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী জানিয়েছেন, জাতীয় পতাকা হাতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করা কোনও অপরাধ নয়। তরুণদের জেলে পাঠানোকে কাপুরুষোচিত কাজ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
Waving the Tricolour at Jantar Mantar in a peaceful protest is not a crime. Jailing youth for it is an act of cowardice. Students. Youth. Journalists. The INDIA bloc. Different banners, one cause. All protests are one: citizens demanding their constitutional rights. Jantar Mantar belongs to the people of India. We will reclaim it.
— Rahul Gandhi (@RahulGandhi) October 14, 2026
রাহুলের বক্তব্য, পড়ুয়া, তরুণ প্রজন্ম, সাংবাদিক এবং ‘ইন্ডিয়া’ জোট— আলাদা আলাদা ব্যানারে আন্দোলন করলেও তাঁদের লড়াইয়ের লক্ষ্য এক। সকলেই নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার দাবিতে সরব হয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘যন্তর মন্তর ভারতের জনগণের।‘
দেখুন:




