পশ্চিমবঙ্গের শিল্প মানচিত্রে চতুর্থীতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বুধবার হলদিয়ায় অ্যাডপার্মা প্রাইভেট লিমিটেডের ছয় হাজার কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগে গড়ে ওঠা সমন্বিত ফেনল ও অ্যাসিটোন প্ল্যান্টের উদ্বোধন করলেন। রাজ্যে পালাবদলের পর শিল্পে জোয়ার আসতে শুরু করেছে। শিল্পপতিরা বাংলায় বিনিয়োগ করতে চাইছেন। আর চতুর্থীতে বাংলায় শিল্পে নয়া লগ্নির সূচনা হল। হলদি নদীর পাড়ে বিনিয়োগ হচ্ছে ৬ হাজার কোটি টাকা। মুখ্যমন্ত্রী হলদিয়ায় নতুন ফেনল প্ল্যান্টের উদ্বোধন করলেন। ফেনল ও অ্যাসিটোন উৎপাদন কেন্দ্র গড়ল হলদিয়া পেট্রো কেমিক্যালস লিমিটেডের সম্পূর্ণ সহযোগী সংস্থা অ্যাডপার্মা প্রাইভেট লিমিটেড।
এদিকে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেডের সহযোগী সংস্থা অ্যাডপার্মার এই প্রকল্পটি দেশের বৃহত্তম সমন্বিত ফেনল-অ্যাসিটোন উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে এবং পূর্ব ভারতের উপকূলে এটিই প্রথম ফেনল প্ল্যান্ট। এদিন হলদিয়া পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং, মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল-সহ অন্যান্যরা। মুখ্যমন্ত্রী প্লান্ট ঘুরে দেখেন। হলদিয়ায় পৌঁছে প্লান্টের ভিতরের মন্দিরে আরতি করেন শুভেন্দু অধিকারী। তারপর ফিতে কেটে, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে ওই প্লান্টের উদ্বোধন করলেন। এই বিনিয়োগে হলদিয়ায় প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান হবে। হলদিয়ায় আবার এক কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগের মুখ হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ৩২.৫ একর জমির উপর গড়ে ওঠা এই আধুনিক সুবিধায় বছরে ৩ লাখ ৪৫ হাজার টন ফেনল এবং ২ লাখ ১৫ হাজার টন অ্যাসিটোন উৎপাদনের সক্ষমতা থাকবে। বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে। এই প্ল্যান্টের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো কাঁচামালের নিরাপত্তা। হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের নিজস্ব প্রোপিলিন এবং বেনজিন সরবরাহের উপর নির্ভর করে কাজ করবে অ্যাডপার্মা। তার ফলে পরিচালন ব্যয় কমবে, উৎপাদন প্রক্রিয়া আরও দক্ষ হবে এবং প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে পণ্য বাজারে আনা সম্ভব হবে। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রাজ্যে শিল্পের জোয়ার কেউ আটকাতে পারবে না। ডবল ইঞ্জিনের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ এবার সামনে এগিয়ে যাবে।’
তাছাড়া ভারত এখন ফেনলের প্রায় অর্ধেক এবং অ্যাসিটোনের উল্লেখযোগ্য অংশ আমদানি করে থাকে। এই নতুন প্ল্যান্ট চালু হলে আমদানি-নির্ভরতা কমে আসবে। দেশীয় সরবরাহ শৃঙ্খল মজবুত হবে এবং পূর্ব ভারতের শিল্পগুলি কাঁচামালের জন্য দূরের উৎসের উপর নির্ভরশীল থাকতে হবে না। ফেনল এবং অ্যাসিটোন দুটি গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক মধ্যবর্তী পণ্য। এগুলি ব্যবহার হয় অটোমোবাইল শিল্পে, ওষুধ প্রস্তুতিতে, নির্মাণ খাতে, রং, লেমিনেট তৈরি, ইলেকট্রনিক্স এবং নানা ধরনের বিশেষ রাসায়নিক উৎপাদনে। তাই এই প্ল্যান্ট শুধু নিজেই কর্মসংস্থান তৈরি করবে না, বরং ডাউনস্ট্রিম শিল্প এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগগুলির জন্যও নতুন সুযোগ খুলে দেবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, ‘রাজ্যে আরও শিল্পের বিনিয়োগ হবে আগামী দিনে। আরও ১০ হাজার কোটি টাকা পাইপলাইনে আছে। হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যাল পথ দেখাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে আত্মনির্ভর ভারত গড়ে উঠছে। পশ্চিমবঙ্গ ভাতা নির্ভর হয়ে গিয়েছে। তাই তাকে আত্মনির্ভর পশ্চিমবঙ্গ তৈরি করতে হবে। হলদিয়ায় পেপসির নতুন প্ল্যান্ট হবে। ৫০ একর জমিতে আইওসিএল-কে জমি দিচ্ছি। এক বছরের মধ্যেই হলদিয়াতে গ্রোথ বাড়বে। দুর্গাপুজো শেষ হলেই ক্যাম্পা কোলার অনুষ্ঠানে দেখা হবে।’




