টানা পতনের ধাক্কা সামলে মঙ্গলবার ঘুরে দাঁড়াল ভারতীয় শেয়ারবাজার। একদিনের বড় উত্থানে স্বস্তি ফিরল লগ্নিকারীদের মধ্যে। এ দিন ১১০০ পয়েন্টের বেশি বেড়ে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সেনসেক্স বন্ধ হয়েছে ৭৩,০৩৩.৭৮ পয়েন্টে। সূচকের বৃদ্ধি ১.৫৪ শতাংশ। অন্য দিকে, ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের নিফটি ৫০ বেড়েছে ৩৫৮.৬০ পয়েন্ট। দিনের শেষে সূচক থেমেছে ২২,৭০০ পয়েন্টের কাছাকাছি। গত সপ্তাহের ধারাবাহিক পতন এবং সোমবারের বড় ধাক্কার পর বাজারের এই প্রত্যাবর্তন স্বাভাবিকভাবেই স্বস্তি দিয়েছে বিনিয়োগকারীদের।
সোমবারের ধসের পর মঙ্গলবার দুপুর থেকেই বাজারে ঊর্ধ্বগতির প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সেনসেক্স ও নিফটি—দুই প্রধান সূচকই দেড় শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়। বাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, দীর্ঘমেয়াদি মূলধনী লাভ কর এবং সিকিউরিটিজ লেনদেন কর নিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের মন্তব্য বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সাহায্য করেছে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলির শেয়ারে জোরালো কেনাকাটাও বাজারের উত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।
বাজারের এই উত্থানের জেরে একদিনে ভারতীয় শেয়ারবাজারে প্রায় চার লক্ষ কোটি টাকার বাজার মূলধন যুক্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। দুই প্রধান সূচকের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলির সম্মিলিত বাজার মূলধন বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৬৯ লক্ষ কোটি টাকায়। সাম্প্রতিক পতনের জেরে যাঁরা উদ্বেগে ছিলেন, তাঁদের কাছে মঙ্গলবারের এই উত্থান কিছুটা স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে।
নিফটি ৫০-এর তালিকায় সবচেয়ে বেশি লাভ করেছে এইচসিএল টেকনোলজিস, টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস, শ্রীরাম ফিনান্স, টেক মাহিন্দ্রা এবং ইনফোসিসের শেয়ার। বিপরীতে ইটার্নাল, কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাঙ্ক, ম্যাক্স হেলথকেয়ার, পাওয়ার গ্রিড কর্পোরেশন এবং মারুতি সুজুকির শেয়ারে পতন দেখা গিয়েছে।
ক্ষেত্রভিত্তিক লেনদেনেও অধিকাংশ সূচক ছিল ঊর্ধ্বমুখী। তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের সূচক প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে দিনের সেরা ফল করেছে। ধাতু, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক এবং গাড়ি নির্মাণ ক্ষেত্রের সূচকগুলিতেও প্রায় ১ শতাংশ করে বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। তবে শক্তি উৎপাদন, ওষুধ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে সেই একই ছবি দেখা যায়নি। এ দিন নিফটি মিডক্যাপ সূচক বেড়েছে ০.৭ শতাংশ এবং স্মলক্যাপ সূচক বেড়েছে ০.২ শতাংশ।
বাজারের এই প্রত্যাবর্তনের পিছনে অর্থমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। দীর্ঘমেয়াদি মূলধনী লাভ কর তুলে দেওয়ার দাবি সরকার বিবেচনা করতে পারে বলে জানিয়েছেন নির্মলা সীতারমণ। পাশাপাশি, সিকিউরিটিজ লেনদেন কর নিয়ে চলা বিতর্কেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি। যদিও কর কাঠামোয় কোনও পরিবর্তনের ঘোষণা হয়নি, তবু তাঁর বক্তব্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ধারাবাহিক শেয়ার বিক্রির চাপের মধ্যেও মঙ্গলবার বাজারের এই উত্থান তাৎপর্যপূর্ণ। তবে একদিনের বৃদ্ধিতেই বাজারের পতনের প্রবণতা পুরোপুরি কাটল কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। আগামী দিনে বিনিয়োগকারীদের আস্থা এবং বিদেশি লগ্নির গতিপ্রকৃতির উপরেই বাজারের পরবর্তী দিশা অনেকটা নির্ভর করবে।
সেনসেক্স-নিফটির পরিসংখ্যান স্পষ্ট করুনপুনরাবৃত্তি কমিয়ে প্রতিবেদনটি ঝরঝরে করুন




