রাজধানীর রাজপথে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ চলাকালীন কর্তব্যরত মহিলা সাংবাদিকদের উপর পুলিশি নিগ্রহের অভিযোগে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করল দেশের শীর্ষ আদালত। এই ঘটনায় দিল্লি পুলিশের উচ্চপদস্থ এক আধিকারিককে সরাসরি প্রধান বিচারপতির এজলাসে সশরীরে হাজির হয়ে জবাবদিহি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত সাফ জানিয়েছেন, সংবেদনশীল এলাকায় খবর সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন আচরণের কারণ পুলিশ কর্তাকে আদালতে দাঁড়িয়েই ব্যাখ্যা করতে হবে।
The Supreme Court has sought the personal presence of a senior Delhi Police officer before the Court tomorrow (14th October) to explain the alleged harrasment, manhandling of women journalists during the ongoing Delhi protests. A bench led by CJI Surya Kant said the Court was aware of the allegations and had already asked certain Delhi Police officers present in Court to inquire into the matter.
— ANI (@ANI) October 13, 2026
বলপ্রয়োগের অভিযোগ
ঘটনার সূত্রপাত ‘নেটওয়ার্ক অফ উইমেন ইন মিডিয়া, ইন্ডিয়া’ (Network of Women in Media, India-NWMI) সংগঠনের পক্ষ থেকে দায়ের করা একটি জরুরি পিটিশনকে কেন্দ্র করে। বর্ষীয়ান আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিংহ প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে বিষয়টি উল্লেখ করেন। তাঁর সওয়াল, দিল্লিতে চলা একের পর এক রাজনৈতিক ও নাগরিক বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে মহিলা সাংবাদিকদের চূড়ান্ত হেনস্থা, বলপ্রয়োগ এবং বেআইনি আটকের মুখে পড়তে হচ্ছে। পুলিশি নিরাপত্তার নামে সাংবাদিকদের স্বাধীন কাজে বাধা দেওয়া আসলে মতপ্রকাশের মৌলিক অধিকারের উপরেই সরাসরি আঘাত।
The Supreme Court has taken a serious view of the alleged assault on women journalists and summoned a senior Delhi Police officer to appear before it. Chief Justice of India Surya Kant directed the officer to remain present in court and explain the allegations. The court will hear the matter on Thursday. The hearing was held on petitions filed by the Network of Women in Media, India (NWMI) and the Freedom of Speech Collective concerning the safety of journalists covering protests. The petitions also alleged a violation of the Supreme Court’s October 10 order.
— IANS (@ians_india) October 13, 2026
একই সঙ্গে ‘ফ্রিডম স্পিচ কালেক্টিভ’-এর পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন একটি আদালত অবমাননার (contempt petition) মামলা আদালতের নজরে আনেন। তিনি জানান, গত ১০ অক্টোবরই সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে বিক্ষোভের এলাকায় সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের কোনও অবস্থাতেই হেনস্থা করা যাবে না। আদালতের সেই রক্ষাকবচকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পুলিশ কর্মীরা সাংবাদিকদের শারীরিক ভাবে নিগ্রহ করেছে। এই প্রেক্ষিতেই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত নির্দেশ দেন, দিল্লি পুলিশের শীর্ষ আধিকারিককে এজলাসে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে হবে।
স্থায়ী আইনি রক্ষাকবচের দাবি
আবেদনকারী সংগঠনের বক্তব্য, বিক্ষোভ বা জমায়েত নিয়ন্ত্রণের অছিলায় সাংবাদিকদের পথ আটকানো, জোর করে সরিয়ে দেওয়া কিংবা ক্যামেরা ও মোবাইল কেড়ে নেওয়ার মতো ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে। বর্তমান তদন্ত কাঠামো এই ধরনের পুলিশি বাড়াবাড়ি রুখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ।
নারী সাংবাদিকদের সংগঠনটি কেন্দ্রের কাছে স্পষ্ট নির্দেশিকা জারির দাবি জানিয়েছে। খবর সংগ্রহের সময় কোনও মহিলা সাংবাদিককে যাতে গায়ের জোরে টানা-হেঁচড়া, ভয় দেখানো বা অনৈতিক ভাবে আটক না করা হয়, তার স্থায়ী ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। সলিসিটর জেনারেলের দপ্তরে ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত আগাম নোটিস পাঠানো হয়েছে। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানিয়েছে, পুলিশি পদক্ষেপ ও আদালত অবমাননার এই সব মামলারই পরবর্তী শুনানি হবে আগামী বৃহস্পতিবার।




