• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 13 October, 2026

উপনির্বাচনে জয়ের পর পুরসভা দখলের লক্ষ্যে বিজেপি, কলকাতা-হাওড়ায় ‘ট্রিপল ইঞ্জিন’ সরকারের ডাক শুভেন্দুর

উপনির্বাচনে দুই বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ের পর সোমবার মুরলীধর সেন লেন থেকে ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউস পর্যন্ত বিজয় মিছিল করে বিজেপি। মিছিলে নেতৃত্ব দেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

উপনির্বাচনে জয়ের পর পুরসভা দখলের লক্ষ্যে বিজেপি, কলকাতা-হাওড়ায় ‘ট্রিপল ইঞ্জিন’ সরকারের ডাক শুভেন্দুর

Image: IANS

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে জয়ের পর এবার কলকাতা ও হাওড়া-সহ রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভা দখলের লক্ষ্যে বার্তা দিল বিজেপি। উপনির্বাচনে দুই বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ের পর সোমবার মুরলীধর সেন লেন থেকে ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউস পর্যন্ত বিজয় মিছিল করে বিজেপি। মিছিলে নেতৃত্ব দেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে পা মেলান বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা ভূপেন্দ্র যাদব, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সহ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব এবং উপনির্বাচনে জয়ী দুই হেভিওয়েট প্রার্থী হাসিরানি রথ ও শাখারভ সরকার। এরপরে ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে আয়োজিত সভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুরসভাগুলিতে বিজেপির ক্ষমতায় আসার আহ্বান জানান। তাঁর দাবি, শহরের পরিকাঠামো ও নাগরিক পরিষেবার উন্নতির জন্য ‘ট্রিপল ইঞ্জিন’ সরকার প্রয়োজন।

গত মঙ্গলবার নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচন হয়। বিজেপির দাবি, নন্দীগ্রামে হাসিরানি রথ এক লক্ষ ২২ হাজারেরও বেশি ভোটে এবং রেজিনগরে শাখারভ সরকার ৭২ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হয়েছেন। এই ফলকে সামনে রেখেই পুরভোটের প্রস্তুতিতে জোর দিচ্ছে গেরুয়া শিবির। পুজোর মরসুমের পরে কলকাতা ও হাওড়া-সহ একাধিক পুরসভায় নির্বাচন হওয়ার কথা। ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগের পর কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক দায়িত্ব কমিশনারের হাতে রয়েছে। হাওড়াতেও একই পরিস্থিতি।

শুভেন্দু বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পুরসভাগুলিতেও বিজেপিকে ক্ষমতায় আনতে হবে। তাঁর দাবি, রাজ্যে উন্নয়নের গতি বাড়াতে কেন্দ্র, রাজ্য এবং পুরসভায় একই রাজনৈতিক দলের সরকার থাকা প্রয়োজন। সেই যুক্তিতেই ‘ডবল ইঞ্জিন’-এর পর এবার ‘ট্রিপল ইঞ্জিন’-এর ডাক দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘মোদীজির কথায় ডবল ইঞ্জিন দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায় ট্রিপল ইঞ্জিন দিতে হবে। হাওড়া, কলকাতা দিতে হবে, কথা দিন। তবেই শহরের পরিকাঠামো ও নাগরিক পরিষেবায় আমূল পরিবর্তন সম্ভব হবে।’

এর পাশাপাশি রেজিনগরের মতো এলাকায় প্রায় ৭০ শতাংশ সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কেন্দ্রে বিজেপির এই জয়কে ঐতিহাসিক জয় বলে ব্যাখ্যা দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, ‘আগে বিরোধীরা অপপ্রচার চালাত যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়কে নাগরিক অধিকার বা ধর্মীয় স্বাধীনতার থেকে বঞ্চিত করা হবে, বেছে বেছে বাংলাদেশে পাঠানো হবে। কিন্তু মানুষ দেখেছেন মোদীজির নেতৃত্বে জয় রথ থামানো যায়নি, বরং দেশের প্রতিটি নাগরিক সুরক্ষিত। বিজেপি সংখ্যালঘুদের সমর্থন পায় না– রেজিনগরের এই ফল এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে।’ এছাড়া বিরোধীদের বিরুদ্ধে ভয় দেখিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির অভিযোগও তোলেন তিনি।

আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরের ‘ভাগীরথী’ মন্তব্য নিয়েও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘৩০ ভাগকে ভাগীরথীর জলে ভাসাবে বলেছিল। এখন নিজেই নাকের জলে চোখের জলে ভাসছে।’ উপনির্বাচনের ফলের পর এবার পুরসভা দখলের লক্ষ্য ঘোষণা করে রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াইকে নতুন মাত্রা দিল বিজেপি।