আজ দ্বিতীয়া। কলকাতার পাশাপাশি বিভিন্ন জেলাও শারদোৎসবের আনন্দে মেতে উঠেছে। নদিয়ার কল্যাণীতেও উৎসবের ছোঁয়া লেগেছে। শহরের ঐতিহ্যবাহী ও জনপ্রিয় তিনটি দুর্গাপুজোর উদ্বোধন এবং প্রস্তুতি ঘিরে এখন চরম উৎসাহ ও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। একদিকে মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে এ নাইন স্কোয়ার পার্কে। অন্যদিকে প্রথমাতেই দর্শনার্থীদের জন্য খুলে গিয়েছে রথতলা সর্বজনীন দুর্গোৎসবের চোখধাঁধানো মণ্ডপ।
এ নাইন স্কোয়ার পার্কের এবারের থিম ‘পঞ্চকেদার’। মঙ্গলবার কল্যাণীর এ নাইন স্কোয়ার পার্কের দুর্গাপুজো উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তারা এবার ৫৫তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। এ বছরের পুজোয় তাঁদের মূল আকর্ষণ ‘পঞ্চকেদার’ থিম। এর মধ্যে দিয়ে সনাতনী সংস্কৃতিকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
পুজো কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সুদেব বিশ্বাস জানিয়েছেন, মঙ্গলবার এই পুজো মণ্ডপ উদ্বোধন করতে আসছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। কল্যাণী স্টেডিয়ামের হেলিপ্যাড গ্রাউন্ডে তাঁর কপ্টার অবতরণের পর সড়কপথে তিনি সোজা এ নাইন স্কোয়ার পার্কে পৌঁছে পুজো উদ্বোধন করবেন। এরপর তাঁর রানাঘাট যাওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর আসার সময়ে সাধারণ দর্শনার্থীদের ভিড় সামলাতে প্রশাসন ও পুজো কমিটির যৌথ উদ্যোগে চলছে শেষ মুহূর্তের জোরকদমে প্রস্তুতি। অন্যদিকে, রথতলা সার্বজনীন মথুরার মন্দিরের আদলে মণ্ডপ তৈরি করেছে। প্রথমার দিন শুভ উদ্বোধনের মাধ্যমেই দর্শনার্থীদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত হয়ে গেল কল্যাণী রথতলা সর্বজনীন দুর্গোৎসবের মণ্ডপ।
এ বছর উত্তর ভারতের বিখ্যাত মথুরার শ্রীকৃষ্ণ-বলরাম মন্দিরের আদলে একটি দৃষ্টিনন্দন ও বিশাল মণ্ডপ তৈরি করা হয়েছে। মণ্ডপের সুদৃশ্য স্থাপত্যশৈলীর পাশাপাশি মায়ের অপরূপ কারুকার্যখচিত মাতৃপ্রতিমাও সমানভাবে নজর কাড়ছে সকলের। প্রথমার এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কল্যাণীর মহকুমা শাসক নীলাঞ্জন তরফদার এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা সাংসদ শান্তনু ঠাকুর-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
অন্যদিকে, কল্যাণী আইটিআই মোড় ব্যবসায়ী সমিতির পুজোর থিম মায়ানমারের বৌদ্ধ মন্দির। ৩৪ তম বর্ষে পদার্পণ করল। সোমবার ওই মণ্ডপের উদ্বোধন হয়। উদ্বোধনের পর দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয় মণ্ডপের দ্বার।
আরও পড়ুন: পুজোর মুখে পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ, কার্শিয়াং থেকে মহানদী পর্যন্ত চালু টয়ট্রেন পরিষেবা
তিনটি পুজোকে কেন্দ্র করেই কল্যাণীর রাজপথ ও প্যান্ডেলগুলিতে এখন থেকেই উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পুজো কমিটির কর্তাদের আশা, এ বছর দর্শনার্থীদের জন্য সেরা অভিজ্ঞতা উপহার দিতে তাঁরা পুরোপুরি প্রস্তুত।




