• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 12 October, 2026

অনলাইনে ঢালাও ছাড়ের দাপটে ফাঁকা স্থানীয় দোকানপাট! ব্যবসা বাঁচাতে এবার সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি বণিকসভার

উৎসবের শুরুতে মাত্র দু'দিনে ২৪ হাজার কোটির অনলাইন বিক্রি। চরম ক্ষতির মুখে অফলাইন ব্যবসায়ীরা। সমমূল্য নিশ্চিত করার দাবিতে কেন্দ্র ও রাজ্যের হস্তক্ষেপ চাইল কনফেডারেশন অব ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনস।

অনলাইনে ঢালাও ছাড়ের দাপটে ফাঁকা স্থানীয় দোকানপাট! ব্যবসা বাঁচাতে এবার সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি বণিকসভার

Online Sales Dampens The Local Markets Of West Bengal (Image: Pexels/@Utatarayan Saha)

 উৎসবের মরশুমের শুরুতেই রেকর্ড ব্যবসা অনলাইন বিপণিতে। প্রথম মাত্র দু’দিনেই বিক্রি ছুঁয়েছে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকার ঘর। কিন্তু সেই চোখধাঁধানো ডিজিটালের রোশনাইয়ের আড়ালেই অন্ধকার নামছে শহরের বড় বাজার থেকে মফসসলের চেনা দোকানে। ই-কমার্স সংস্থাগুলির লাগামছাড়া ছাড় আর ভুলভাল দামের চক্করে নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় রাজ্যের খুচরো ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের। এই পরিস্থিতিতে অনলাইন ও অফলাইন বাজারের পণ্যের দামে কৃত্রিম ফারাক রুখতে এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার স্বার্থে অবিলম্বে অভিন্ন দামের জোরালো দাবি তুলল পশ্চিমবঙ্গের শীর্ষ বণিকসভা ‘কনফেডারেশন অব ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনস’।

 উৎসব মরশুমের শুরুতেই বড় বড় ই-কমার্স সংস্থাগুলির দেওয়া অবিশ্বাস্য ছাড় আর ক্যাশব্যাকের অফারে স্বাভাবিক ভাবেই ঝুঁকেছেন সাধারণ ক্রেতারা। তবে সিডব্লুবিটিএ-র পর্যবেক্ষণ, এই বিপুল বিক্রির পরিসংখ্যান নিছক ব্যবসার বাড়বাড়ন্ত নয়, বরং দেশের চিরাচরিত খুচরো ব্যবসার জন্য এক বিপজ্জনক সংকেত। দামের অস্বাভাবিক পার্থক্যের কারণে উৎসবের কেনাকাটার সিংহভাগ এক লহমায় চলে যাচ্ছে অনলাইনের ঝুলিতে। যার সরাসরি ধাক্কা এসে পড়ছে স্থানীয় ছোট বাজারের দোকানপাটের দৈনন্দিন বিক্রির উপর। লক্ষ লক্ষ ছোট ব্যবসায়ী যেখানে সারা বছর এই একটা মরশুমের দিকে তাকিয়ে থাকেন, সেখানে উৎসবের শুরুতেই তাঁদের প্রায় পথে বসার জোগাড় হচ্ছে।

 ব্যবসায়ীদের ক্ষোভের মূল কারণ এসম প্রতিযোগিতা। সিডব্লুবিটিএ সভাপতি সুশীল পোদ্দারের স্পষ্ট বক্তব্য, সুস্থ প্রতিযোগিতা ব্যবসার অন্যতম অঙ্গ হলেও এখন যা চলছে, তাকে সুস্থ বলা যায় না। একজন অফলাইন ব্যবসায়ীকে প্রতি মাসে দোকানের মোটা ভাড়া গুনতে হয়, কর্মীদের বেতন দিতে হয়, মেটাতে হয় বাণিজ্যিক বিদ্যুতের চড়া বিল ও কর। এর বাইরেও রয়েছে পণ্য পরিবহণ ও মজুত রাখার বিপুল পরিচালন ব্যয়। সেই সব খরচ সামলে সীমিত লাভের অঙ্কে জিনিস বিক্রি করতে হয় তাঁদের। সেখানে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলি কৃত্রিম ভাবে তৈরি করা অতিরিক্ত কম দামের মোহময়ী বিজ্ঞাপনী ফাঁদে একই পণ্য বিক্রি করলে লড়াইয়ের জমিটা আর সমান থাকে না। একই ব্র্যান্ডের একই জিনিস দুই বাজারে সম্পূর্ণ আলাদা দামে বিক্রি হওয়া কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না।

বণিকসভা স্পষ্ট করে দিয়েছে, তাদের এই অবস্থান কোনও ভাবেই ই-কমার্সের অগ্রগতির পরিপন্থী নয়। ডিজিটাল লেনদেন ও প্রযুক্তির প্রসারকে সংগঠন অবশ্যই স্বাগত জানায়। কিন্তু আধুনিকতার নামে লক্ষ লক্ষ ছোট ব্যবসায়ীর রুটিরুজি কেড়ে নিয়ে, তাঁদের অস্তিত্ব মুছে ফেলা যাবে না। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার এবং সংশ্লিষ্ট নীতি-নির্ধারকদের কাছে সিডব্লুবিটিএ-র দাবি, অবিলম্বে অনলাইন ও অফলাইন বাজারের এই এসম প্রতিযোগিতা খতিয়ে দেখে পর্যালোচনায় নামা হোক। একই ব্র্যান্ডের পণ্যের দামে যাতে যুক্তিসম্মত সমতা বজায় থাকে, তার জন্য কড়া আইনি নজরদারি দরকার। সংগঠনের দাবি, অফলাইন ও অনলাইন, উভয় পক্ষকেই সমান শর্তে ব্যবসা করার সুযোগ করে দিতে হবে।

উৎসবের বাড়তি চাহিদার কথা মাথায় রেখে ব্যবসায়ীরা আগে থেকেই ধারদেনা করে বিপুল পণ্য মজুত করেছেন। কিন্তু ক্রেতাদের ভিড় উধাও হওয়ায় গোডাউনেই পড়ে রয়েছে সেই স্টক। এই সংকটের মুখে সাধারণ ক্রেতাদের কাছেও স্থানীয় দোকান ও চেনা বাজারের পাশে দাঁড়ানোর আন্তরিক আবেদন জানিয়েছেন সুশীল পোদ্দার। তাঁর কথায়, পাড়ার মোড়ের দোকান বা ঐতিহ্যবাহী বাজারগুলি কেবল বেচাকেনার কেন্দ্র নয়, সেগুলি বাংলার সামাজিক সংস্কৃতি ও অর্থনীতির জীবন্ত স্তম্ভ। সেই আত্মিক সম্পর্ককে বাঁচিয়ে রেখেই প্রযুক্তি আর স্থানীয় বাণিজ্যের সুস্থ সহাবস্থান তৈরি করতে হবে। না হলে হাজার হাজার বাড়ি এই উৎসবের আবহেও থাকবে নিষ্প্রদীপ।