সদ্য নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিশাল জয় পেয়েছে বিজেপি। বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ শেষ হাসিটা হেসেছেন। এই জয়ের পর রবিবার সেখানে পৌঁছন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামের অন্তর্গত রেয়াপাড়ার একটি শারদ অনুষ্ঠানে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু সেখান থেকে তৃণমূল নেতার নাম না করে খোঁচা দেন তিনি। আর এভাবেই দলের নেতা-কর্মীদের সতর্ক করে দেন শুভেন্দু অধিকারী। যা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে নন্দীগ্রামে। পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে বরাবরই চর্চিত হয়েছে ‘জাহাজ বাড়ি’। এবার সেটা চর্চায় নিয়ে এসে এক ঢিলে দুই পাখি মারলেন মুখ্যমন্ত্রী।
নন্দীগ্রামের রাজনীতিতে বরাবরই প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছিল সুবিশাল ‘জাহাজ বাড়ি’। এটি তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী এজেন্ট শেখ সুফিয়ানের। শুধু তাই নয়, এই প্রাসাদসম বাড়ি দেখতে রীতিমতো পর্যটকরা এসে থাকেন। দিঘার জাহাজ বাড়ি যেমন জনপ্রিয় নন্দীগ্রামেও তেমন সর্বদা চর্চিত ‘জাহাজ বাড়ি’। এমনকী এখানকার বাসিন্দারাও অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন। অনেকে আবার নিজের অবস্থান জানাতে ‘জাহাজ বাড়ি’কেই ল্যান্ডমার্ক হিসাবে ব্যবহার করে থাকেন। শেখ সুফিয়ানের বাড়িটি একেবারে জাহাজের আদলেই গড়ে তোলা হয়েছে। তবে এই জাহাজ বাড়িকে ঘিরে নানা কথা শোনা যায়।
বিজেপি যখন বিরোধী আসনে ছিল তখন থেকেই এই জাহাজ বাড়ি নিয়ে নানা অভিযোগ তুলেছিল। বিজেপি-সহ বেশ কয়েকটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের অভিযোগ, বিপুল তোলাবাজি করে সেই টাকায় এমন প্রাসাদোপম বাড়ি তৈরি করা হয়েছে। শেখ সুফিয়ানের বিরুদ্ধে এমনই সব অভিযোগ শোনা যায়। এমনকী এই দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তদন্ত দাবি করা হয়েছিল। তাই তদন্ত করতে ওই জাহাজ বাড়িতে একাধিকবার গিয়েছিল সিআইডি। এখন রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরও প্রাসঙ্গিক সেই জাহাজ বাড়ি। তাই ওই জাহাজ বাড়ির উদাহরণ দিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের সতর্ক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যিনি কদিন আগেও এখানকার বিধায়ক ছিলেন। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ এমন কোনও কাজ করবেন না যাতে লোকে বলতে পারে, আরেকটা জাহাজ বাড়ি তৈরি হয়েছে।’
এভাবেই নন্দীগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে দলের নেতা-কর্মীদের তোলাবাজি করা থেকে বিরত থাকার বার্তা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। উপনির্বাচনের রেকর্ড ভোটে নন্দীগ্রাম কেন্দ্র জয়ের পর রবিবার প্রথম সেখানে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, ‘আমি আজীবন নন্দীগ্রামের ভোটার হয়ে থাকব। এখানকার মানুষের জন্য কাজ করে যাব। নতুন বিধায়ক হাসিরানি রথ আপনাদের সেবিকা হিসেবে সব কাজ করবেন। যা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম সেসব হবে। আর এখানকার পঞ্চায়েত সদস্যদের বলছি, সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে চলবেন। ঔদ্ধত্য, অহংকার দূর করতে হবে। কারও সঙ্গে এমন কোনও আচরণ করবেন না, কাজ করবেন না যাতে লোকে বলার সুযোগ পায়, আবার একটা জাহাজ বাড়ি হয়েছে।’




