• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 11 October, 2026

দিল্লিতে ‘ককরোচ’ আন্দোলনে বাংলাদেশের নাহিদের সমর্থন, বিদেশি যোগ নিয়ে নতুন বিতর্ক

ভারতের ছাত্র আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়ে বিতর্কে বাংলাদেশের ছাত্রনেতা নাহিদ ইসলাম। দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের

দিল্লিতে ‘ককরোচ’ আন্দোলনে বাংলাদেশের নাহিদের সমর্থন, বিদেশি যোগ নিয়ে নতুন বিতর্ক

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

ভারতের ছাত্র আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়ে বিতর্কে বাংলাদেশের ছাত্রনেতা নাহিদ ইসলাম। দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন তিনি। স্বচ্ছ নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলনকারীদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশের এই নেতা। তাঁর মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

শনিবার, ১০ অক্টোবর, ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ তুলে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনে নামে সিজেপি। কর্মসূচি ঘিরে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের উত্তেজনা তৈরি হয়। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে আটক করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তাঁদের মুক্তির দাবিতে সরব হন আন্দোলনকারীরা। ঘটনাটি দিনভর সংবাদমাধ্যমের আলোচনায় ছিল। এর মধ্যেই বাংলাদেশের ছাত্রনেতা নাহিদ ইসলামের সমর্থনবার্তা নতুন মাত্রা যোগ করে।

শনিবার নিজের এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে নাহিদ লেখেন, ভারতের যুবসমাজ ও গণতান্ত্রিক শক্তির আন্দোলনের প্রতি তাঁদের সমর্থন রয়েছে। স্বচ্ছ নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে প্রতিবাদকে তিনি প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, ব্যারিকেড বা নিষেধাজ্ঞা জারি করে এই আন্দোলন দমন করা যাবে না। নির্বাচন কমিশনকে স্বচ্ছতার সঙ্গে জবাবদিহি করতে হবে। সীমান্তের দুই পারের আন্দোলনকারীদের সংহতির বার্তা দিয়ে তিনি লেখেন, তাঁরা একা নন। পাশাপাশি, দিল্লিতে আটক ছাত্রনেতাদের মুক্তির দাবিও জানান নাহিদ।

 

 

 

 

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নাহিদ ইসলাম পরিচিত মুখ। শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়ার পর তিনি সে দেশের রাজনীতিতে উঠে আসেন। পরবর্তী সময়ে ভারত-বিরোধী মন্তব্যের অভিযোগেও তাঁকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস নেক’ নিয়ে তাঁর বক্তব্য নিয়েও আলোচনা হয়েছিল।

দিল্লির আন্দোলনের প্রতি নাহিদের সমর্থনকে কেন্দ্র করে এবার রাজনৈতিক মহলে পাল্টা বিতর্ক শুরু হয়েছে। একাংশের দাবি, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক আন্দোলন নিয়ে বাংলাদেশের নেতার মন্তব্য অনভিপ্রেত। অন্যদিকে, গণতান্ত্রিক অধিকার ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের পক্ষে সংহতি প্রকাশকে স্বাভাবিক বলেও মনে করছেন কেউ কেউ।

সিজেপির আন্দোলনের পিছনে বিদেশি মদত রয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, নাহিদের পোস্টের পর সেই বিতর্কও নতুন করে সামনে এসেছে। তবে তাঁর সমর্থনবার্তা থেকেই আন্দোলনের সঙ্গে কোনও বিদেশি শক্তির যোগ রয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো কোনও প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে নাহিদের মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর বাড়লেও বিদেশি যোগের অভিযোগের সত্যতা এখনও প্রমাণিত নয়।