• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 11 October, 2026

ইমরানের গড়ে গভর্নর শাসন! খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা জারি পাকিস্তান সরকারের

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করল শাহবাজ শরিফের সরকার। রবিবার এই সিদ্ধান্তে অনুমোদন দিয়েছেন

ইমরানের গড়ে গভর্নর শাসন! খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা জারি পাকিস্তান সরকারের

Photo: Statesman

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করল শাহবাজ শরিফের সরকার। রবিবার এই সিদ্ধান্তে অনুমোদন দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি। এর ফলে প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী-সহ গোটা মন্ত্রিসভা, উপদেষ্টামণ্ডলী এবং অ্যাডভোকেট জেনারেলকে পদ ছাড়তে হয়েছে। প্রদেশে কার্যকর হয়েছে গভর্নর শাসন। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ‘ডন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাইবার পাখতুনখোয়ার নতুন মুখ্যসচিব হিসেবে ডক্টর মুহাম্মদ ফখর আলম ইরফানকে নিয়োগ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এই প্রদেশ দীর্ঘদিন ধরেই জঙ্গি হামলায় বিপর্যস্ত। সেখানে সক্রিয় রয়েছে ‘তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান’ (টিটিপি)। এই গোষ্ঠীর সদস্যদের পাকিস্তানি তালিবানও বলা হয়। প্রায়শই পাকিস্তানের নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। টিটিপিকে আফগানিস্তান মদত দিচ্ছে বলেও অভিযোগ ইসলামাবাদের।

এত দিন খাইবার পাখতুনখোয়ার শাসনভার ছিল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) হাতে। শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার বার বার অভিযোগ করেছে, সন্ত্রাসবাদ দমনে ব্যর্থ হচ্ছে প্রাদেশিক সরকার। কেন্দ্রের দাবি, জঙ্গি দমনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার পরিবর্তে প্রাদেশিক সরকার কার্যত নিষ্ক্রিয় থেকেছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে প্রাদেশিক সরকারের অনীহাকেই জরুরি অবস্থা জারির অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেছে ইসলামাবাদ।

অন্যদিকে, ইমরান খানের মুক্তি এবং তাঁর যথাযথ চিকিৎসার দাবিতে কেন্দ্রীয় সরকারের উপর চাপ বাড়াচ্ছিলেন খাইবার পাখতুনখোয়ার সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি। গত ৪ অক্টোবর থেকে লাগাতার মিছিল করছেন তিনি। এর আগে ইসলামাবাদে গিয়ে অবস্থান বিক্ষোভের পরিকল্পনাও করেছিলেন পিটিআই নেতৃত্ব। কিন্তু শাহবাজ শরিফের সরকার বিক্ষোভকারীদের রাজধানীতে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি।

এই পরিস্থিতিতে খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা জারি করে গভর্নর শাসন প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় প্রাদেশিক সরকারের ব্যর্থতার কারণেই এই পদক্ষেপ করতে হয়েছে। অন্যদিকে, এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে ইমরান খানের দল পিটিআই। ফলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রাদেশিক নেতৃত্বের রাজনৈতিক সংঘাতও নতুন করে তীব্র হল।