সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৩০০-রও বেশি মানুষ। ইরানের মদতপুষ্ট ইয়েমেনের সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হুথিরা এই হামলা চালিয়েছে। শনিবার বিকেলে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের সাধারণ বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।
রবিবার ভোরে প্রকাশিত সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক ও আটজন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২ জন বাংলাদেশের নাগরিক। এছাড়া আমেরিকা, মিশর, জর্ডন, সিরিয়া, প্যালেস্টাইন ও সুদানের একজন করে নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
হামলার পর নিরাপত্তার কারণে রিয়াধ বিমানবন্দরের বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিমানবন্দরের ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখা হয়। সেই সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পর পরিষেবা চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
এই হামলার পর হুথি গোষ্ঠী জানিয়েছে, সৌদি আরবের সঙ্গে পাল্টা পদক্ষেপের বিষয়ে তারা প্রস্তুত। তবে বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও মানবিক কাজে ব্যবহৃত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোকে ক্রমবর্ধমান সামরিক সংঘাতের বাইরে রাখার পক্ষেও তারা সওয়াল করেছে। এর আগে শনিবার ইয়েমেনের হুথি-নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলিতে নতুন করে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় সৌদি আরব।
হুথি পরিচালিত সংবাদমাধ্যম আল-মাসিরার দাবি, হামলার লক্ষ্য ছিল রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বাব আল-মান্দেব প্রণালীর আশেপাশের এলাকা ও উত্তর ইয়েমেনের একাধিক প্রদেশ। অন্যদিকে, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৯০০ বারেরও বেশি হামলায় ১ হাজার ১৫০-এরও বেশি হুথি যোদ্ধাকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল আমদানির চুক্তি, ট্রাম্পকে কড়া বার্তা জেলেনস্কির
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের শেষ দিক থেকে ইয়েমেনে সংঘাত চলছে। ২০২২ সালে রাষ্ট্রসঙ্ঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির ফলে বড় ধরনের সংঘর্ষ অনেকটাই কমেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় নতুন করে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।




