• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 9 October, 2026

আমেরিকা ছেড়ে ভারতে ফিরুন, দেশ গড়ার ডাক জোহোর প্রতিষ্ঠাতা শ্রীধর ভেম্বুর

আমেরিকায় কর্মরত ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের দেশে ফেরার ডাক দিলেন জ়োহোর প্রতিষ্ঠাতা শ্রীধর ভেম্বু। আমেরিকার সরকারের এক সিদ্ধান্তে

আমেরিকা ছেড়ে ভারতে ফিরুন, দেশ গড়ার ডাক জোহোর প্রতিষ্ঠাতা শ্রীধর ভেম্বুর

আমেরিকায় কর্মরত ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের দেশে ফেরার ডাক দিলেন জোহোর প্রতিষ্ঠাতা শ্রীধর ভেম্বু। আমেরিকার সরকারের এক সিদ্ধান্তে টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস, ইনফোসিস, উইপ্রো-সহ একাধিক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার স্থায়ী বসবাসের অনুমতিপ্রাপ্তির প্রক্রিয়ায় ধাক্কা লেগেছে। এই পরিস্থিতিতে ভেম্বুর বার্তা, আমেরিকায় অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে থাকা ভারতীয়রা দেশে ফিরে আসুন, ভারতের প্রযুক্তি ও অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করে তুলুন।

সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে ভেম্বু লিখেছেন, গত কয়েক দশকে আমেরিকার প্রযুক্তিগত উন্নতিতে ভারতীয়দের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। কিন্তু সেই অবদান সত্ত্বেও আমেরিকার একটি বড় অংশ এখন আর ভারতীয়দের চায় না বলেই মন্তব্য করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “ভারতীয়রা আমেরিকার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় অবদান রেখেছেন। তবুও আমেরিকার একটা বড় অংশ এখন আর আমাদের চায় না।”

আমেরিকায় কর্মরত ভিসাধারী ভারতীয়দের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জ়োহোর প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর বক্তব্য, কঠোর পরিশ্রম করে যে জীবন তাঁরা গড়ে তুলেছেন, তা ছেড়ে নতুন করে সব শুরু করার আশঙ্কার মুখে পড়তে হচ্ছে অনেককে। এই পরিস্থিতিকে নতুন সম্ভাবনার সূচনা হিসাবেও দেখতে চান ভেম্বু। তাঁর আহ্বান, “এটাকেই এক সাহসী নতুন ভবিষ্যতের জন্মযন্ত্রণা হতে দিন। ফিরে আসুন, আসুন ভারত গড়ি।”

আমেরিকার শ্রম দফতর সম্প্রতি স্থায়ী শ্রম শংসাপত্র বা ‘পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন’ (পার্ম) কর্মসূচির আওতায় একাধিক সংস্থার আবেদন গ্রহণ ও প্রক্রিয়াকরণ স্থগিত করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে ইনফোসিস, টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস, উইপ্রো ও এইচসিএল-এর মতো ভারতীয় সংস্থার পাশাপাশি কগনিজ্যান্ট, ক্যাপজেমিনি, মাইক্রোসফ্‌ট এবং অ্যাডোবির মতো সংস্থাও।

 

 

আমেরিকায় নিয়োগকর্তার মাধ্যমে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ায় পার্ম একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই ব্যবস্থায় নিয়োগকর্তাকে প্রমাণ করতে হয়, নির্দিষ্ট পদের জন্য উপযুক্ত, ইচ্ছুক ও কর্মে যোগ দিতে প্রস্তুত কোনও মার্কিন কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি বিদেশি কর্মী নিয়োগের ফলে একই ধরনের কাজে নিযুক্ত মার্কিন কর্মীদের বেতন ও কাজের পরিবেশের ক্ষতি হবে না, সেটিও নিশ্চিত করতে হয়।

আমেরিকার শ্রম দফতরের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি বিদেশি কর্মীদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাইয়ে দেওয়ার এই ব্যবস্থার অপব্যবহার করেছে। মার্কিন শ্রমসচিব কিথ সন্ডারল্যান্ড জানিয়েছেন, এই সংস্থাগুলির সঙ্গে সম্পর্কিত নতুন কোনও স্থায়ী শ্রম শংসাপত্রের আবেদন গ্রহণ করা হবে না। আগে জমা পড়ে থাকা আবেদনগুলির প্রক্রিয়াও স্থগিত থাকবে।

তবে এই স্থগিতাদেশের অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির কর্মরত ভারতীয়দের এইচ-১বি ভিসা স্বয়ংক্রিয় ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। একই ভাবে, সংস্থাগুলি আর এইচ-১বি ভিসাধারী কর্মীদের নিয়োগ করতে পারবে না, এমন নির্দেশও দেওয়া হয়নি। মূলত পার্মের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়াই এই সিদ্ধান্তের ফলে বাধার মুখে পড়েছে।

এই প্রথম নয়, এর আগেও আমেরিকায় ভিসা নিয়ে কর্মরত ভারতীয়দের দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়েছিলেন ভেম্বু। চলতি বছরের মে মাসে গ্রিন কার্ডের আবেদনপ্রক্রিয়া সংক্রান্ত নতুন নিয়ম নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, আমেরিকায় ভিসা নিয়ে থাকা ভারতীয়দের দেশে ফিরে আসা উচিত। তাঁর বক্তব্য ছিল, পরিস্থিতি কঠিন হলেও আত্মমর্যাদাকে গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

আমেরিকার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পর ফের সেই একই বার্তা দিলেন জ়োহোর প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর মতে, বিদেশে কর্মরত ভারতীয়দের অনিশ্চয়তাকে দেশের প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুযোগে পরিণত করা যেতে পারে। তবে আমেরিকার এই স্থগিতাদেশের ফলে কত জন ভারতীয় কর্মী সরাসরি প্রভাবিত হবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।