উপনির্বাচন মিটতেই কেঁদে ভাসিয়েছিলেন তিনি। সরতে চেয়েছিলেন রাজনীতি থেকেও। আসলে তখনই তিনি আঁচ করতে পেরেছিলেন রেজিনগর হাতছাড়া হচ্ছে তাঁর। এবার যথারীতি সেটাই হল। নিজের ছেলেকে প্রার্থী করেও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্র ধরে রাখতে পারলেন না আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান তথা নওদা কেন্দ্রের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। সেখানে বিপুল ভোটে জিতেছে বিজেপি। যদিও বিরোধীরা এই জয় নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছেন। এই আবহেই এবার দুবাই চলে যাওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর। উপনির্বাচনে ভোটগণনা শুক্রবার হয়ে গেল। তাতেই নিজের দলের ভরাডুবি চাক্ষুষ করার পর এমনই মন্তব্য করেছেন তিনি।
এদিকে হুমায়ুন কবীরের ছেলে গোলাম নবী আজাদ হেরে গিয়েছেন বিজেপি প্রার্থীর কাছে। সংখ্যালঘু ভোট ভাগ হয়েছে সেটাও স্পষ্ট। বিজেপির দিকে গিয়েছে অনেকটা সংখ্যালঘু ভোট। যদিও বিরোধীদের দাবি, দেদার ছাপ্পা ভোট পড়েছে। আর তাই এমন ফলাফল। এতে মানুষের রায় প্রতিফলিত হয়নি। যদিও রেজিনগরে বিজেপি প্রার্থী গণনার শুরু থেকে মার্জিন ক্রমশ বাড়াতে থাকে। এই কেন্দ্রেও এবার পদ্মফুল ফুটল। আর তারপরই হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, ২০২৯ সালের পর তিনি দুবাই চলে যাবেন। সেখানেই থাকবেন। হুমায়ুন বলেন, ‘২০২৯ পর্যন্ত ভারতে থাকব। ২০২৯ সালের পরে ভারতবর্ষ থেকে চলে গিয়ে দুবাইয়ে থাকব। ১০ বছরের ভিসা নিয়ে দুবাই চলে যাব।’
অন্যদিকে ২০২৯ সালে দেশে লোকসভা নির্বাচন। এখন হেরে গিয়ে সেটাকেই টার্গেট করছেন হুমায়ুন। কিন্তু তাতেও কি বিরাট সাফল্য তাঁর আসবে? বাবরি মসজিদ নির্মাণের কী হবে? উঠছে প্রশ্ন। এই বিষয়ে হুমায়ুন অবশ্য বলেন, ‘ভারত ছেড়ে দুবাই চলে যাব। এখন আমার কাজ বাবরি মসজিদটা করা আর অধীর চৌধুরীকে ভোটে হারানো। ২০২৯ সালের নির্বাচনে যদি অধীর চৌধুরী ভোটে দাঁড়ায় ওকে আর একবার হারানো আমার লক্ষ্য।’ রেজিনগর কেন্দ্র নিজেদের দখলে রাখবেন বলে জোর গলায় দাবি করেছিলেন হুমায়ুন। তবে ভোটের দিনই পুলিশ হুমায়ুনকে আটক করেছিল। যা নিয়ে হুমায়ুনের দাবি, ‘পুলিশ ভোট লুঠ করেছে। কোন ভরসায় গণনাকেন্দ্রে যাব? আমাকে ভয় পেয়ে খাঁচায় পুরে রেখেছিল।’
তাছাড়া রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে কংগ্রেস নেতা। তারপর তৃণমূল। মাঝে বিজেপি ঘুরে আবার তৃণমূল। তারপর তৃণমূল ছেড়ে নতুন দল গড়ে বিধায়ক হন হুমায়ুন কবীর। রাজনীতি থেকে বাবরি মসজিদ, সব মিলিয়ে হুমায়ুনের বর্ণময় রাজনৈতিক জীবন। এবার হেরে গিয়ে একটি কেন্দ্র হাতছাড়া হল। তারপরই হুমায়ুন কবীরের সাফাই, ‘আমাকে রেজিনগরের ওসি প্রায় ঘাড়ধাক্কা দিয়ে জোর খাটিয়ে পুলিশের ক্ষমতা দেখিয়ে ১২ ঘণ্টা বন্ধ করে রাখল। কারণ আমি বাইরে থাকলে পুলিশ যে ভোট লুট করার নেতৃত্ব দিচ্ছে সেটা প্রতিরোধ হবে। তাই এতটাই ভয় পেয়েছিল যে হুমায়ুন কবীরকে থানার খাঁচায় পুরে রাখল। তারপরে তাদের কর্মীদের মেরুদণ্ডটা সব ভেঙে দাও। মনোবল ভেঙে দাও। আমরা নির্বিচারে লুট করব। সেই লুট যারা করেছে, তাদের সঙ্গে কোথায় যাব কাউন্টিং করতে?’




