• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 8 October, 2026

সুদীপের ডাকা বৈঠকে গরহাজির ১০ জন সাংসদ, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে লেফট কেন?

তাছাড়া একজনের সঙ্গে আর একজনের কথার কোনও মিল নেই। এনসিপিআই সাংসদদের মধ্যে যে তীব্র সমন্বয়ের অভাব তৈরি হয়েছে

সুদীপের ডাকা বৈঠকে গরহাজির ১০ জন সাংসদ, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে লেফট কেন?

MP Sudip Banerjee Photo-ANI

তৃণমূল ত্যাগ করে এনসিপিআই দলে যোগ দেন ২০ জন সাংসদ। কিন্তু তারপর থেকে নানা সমস্যা দেখা দেয়। এদের সাংসদ পদ খারিজের জন্য সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছে। আর তার জেরে চাপে আছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। বাধ্য হয়ে তাঁদের নোটিস ধরাতে হয়েছে। বারবার সময় চাইছেন তাঁরা নোটিস পাওয়ার পর থেকে। কিন্তু কোনও জবাব দিতে পারছেন না। এবার এই নিয়ে সাংসদদের কলকাতার হোটেলে বৈঠকে ডেকেছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার ওই বৈঠকে ছিল ভুরিভোজের আয়োজনও। কিন্তু এজেসি বোস রোডের হোটেলে সুদীপের ডাকা বৈঠকে ১০ জন সাংসদই গরহাজির থাকলেন।

এদিকে এনসিপিআই দলের সাংসদরা কোন পথে হাঁটবেন সেটা ঠিক করতে পারছেন না। বিস্তর ধোঁয়াশা রয়েছে সাংসদদের গতিবিধি নিয়ে। সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন মামলা। স্পিকারের কাছে বারবার সময় চাইছেন ২০ জন সাংসদ। তারই মধ্যে সেই এনসিপিআই সাংসদদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে লেফট হয়ে গেলেন বেশ কয়েকজন বলে সূত্রের খবর। ব্রাজিল ম্যাচের টিকিট নিয়ে ওই সাংসদদের অন্দরেই তৈরি হয়েছে তুমুল ঝগড়া। আর তার জেরে কয়েকজন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছেড়ে দিয়েছেন। যদিও বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সাংসদ শতাব্দী রায়ের সাফাই, ‘ছোট ছোট গল্পকে বড় করা হচ্ছে।’

অন্যদিকে সময় তো আবার হয়ে গিয়েছে জবাব দেওয়ার। এখন কোন কৌশল নিয়ে এগোনো হবে? সেটা ঠিক করতেই আলোচনা করার জন্য সুদীপ বৈঠকটি ডেকেছিলেন। কিন্তু দেখা গেল কাকলি ঘোষদস্তিদার, সায়নী ঘোষ, ইউসুফ পাঠান, মালা রায়, জুন মালিয়া, পার্থ ভৌমিক, মিতালি বাগ, কালীপদ সোরেন, দেব এবং অসিত মাল বৈঠকে আসেননি। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আবু তাহের, খলিলুর রহমান, শর্মিলা সরকার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, জগদীশ বসুনিয়া, শতাব্দী রায়, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, বাপি হালদার, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অরূপ চক্রবর্তী। তাহলে কি বিধায়কদের মতো সাংসদরাও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ফিরতে চলেছেন? গুঞ্জন শুরু হয়েছে রাজ্য-রাজনীতিতে।

তাছাড়া একজনের সঙ্গে আর একজনের কথার কোনও মিল নেই। এনসিপিআই সাংসদদের মধ্যে যে তীব্র সমন্বয়ের অভাব তৈরি হয়েছে সেটাও সামনে চলে এসেছে। শতাব্দী রায়ের কথার সঙ্গে মিল নেই রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এদিন রচনা সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেছেন, ‘না না এরকম কিছু হয়নি। গ্রুপের নাম কখনও কখনও বদল হচ্ছে, আমাদের সুবিধার জন্য।’ এই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ লেফট নিয়ে শতাব্দী রায় উল্টো কথা বলছেন। তাঁর কথায়, ‘ভুল কারণে ডিলিট হয়ে গিয়েছিল। আবার নতুন গ্রুপ তৈরি হয়েছে, সেখানে সবাই আছে।’ কিন্তু গরহাজির থাকলেন কেন ১০ জন সাংসদ? তা নিয়েও নানা মুনির নানা মত। বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তীর সাফাই, ‘কেউ আমেরিকা গিয়েছেন, কারও ছেলের শরীর খারাপ, কারও অন্য মিটিং রয়েছে।’ আর বর্ধমান পূর্বের সাংসদ শর্মিলা সরকারের যুক্তি, ‘যাঁরা আসেননি, তাঁদের সঙ্গে কোনও মনোমালিন্যের ব্যাপার নেই।’