এক দিকে বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলের অভিজ্ঞ ওপেনার সঞ্জু স্যামসনের ব্যাটে রান নেই। অন্য দিকে দরজায় কড়া নাড়ছেন ১৫ বছরের বৈভব সূর্যবংশী। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে শুক্রবার রাঁচিতে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির আগে তাই ভারতের টিম ম্যানেজমেন্টের সামনে নতুন করে তৈরি হয়েছে সমস্যা। সঞ্জুকে আরও একটি সুযোগ দেওয়া হবে, নাকি ফেরানো হবে বৈভবকে— এই প্রশ্নই এখন ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম চর্চার বিষয়।
সঞ্জুর শেষ চারটি টি-টোয়েন্টি ইনিংসের রান— ৯, ৭, ২ এবং ১১। ফলে তাঁর সঙ্গে ওপেনিংয়ে জুটি বাঁধা ব্যাটারদের সঙ্গেও বড় পার্টনারশিপ তৈরি হয়নি। শেষ চার ম্যাচে ওপেনিং জুটির রান ৭, ১২, ২ এবং ২৯। তবে দলের মিডল অর্ডার ব্যাটাররা সেই ঘাটতি ঢেকে দিয়েছেন। বিশেষ করে অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে নিজের কেরিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি করেছেন।
এই পরিস্থিতিতেই বৈভবকে ফেরানোর কথা ভাবছে ভারতীয় দল। বাঁ-হাতি এই তরুণ ব্যাটারের ব্যাটিংয়ে রয়েছে নানা ধরনের শট, আগ্রাসী মানসিকতা এবং ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা। এশিয়ান গেমসে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে ২১ বলে ৩৮ রান করেছিলেন তিনি। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ফাইনালে করেছিলেন ১৫ বলে ৯ রান।
এশিয়ান গেমসে বৈভবকে ওপেন করিয়ে সঞ্জুকে তিন নম্বরে খেলানো হয়েছিল। কিন্তু সঞ্জুর প্রতি দলের আস্থার প্রতিদান এখনও মেলেনি। সেই কারণেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের সিরিজটি সঞ্জুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশ্বকাপের সাফল্য দেখিয়ে অনন্তকাল দলে জায়গা ধরে রাখা সম্ভব নয়— বর্তমান ফর্মও যে বিবেচনায় থাকবে, তা পরিষ্কার।
তবে বৈভবের ক্ষেত্রেও ছবিটা একেবারে স্পষ্ট নয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখনও পর্যন্ত খুব বেশি সুযোগ পাননি তিনি। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে তাঁর রান ছিল ১৪, ১৩ এবং ১৫। এশিয়ান গেমসে ১৮ এবং ৩৫ রান। অর্থাৎ প্রতিভা নিয়ে কোনও প্রশ্ন না থাকলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সময় তাঁকে দিতেই হবে।
সিরিজের আগে বৈভবকে নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন ভারতীয় কোচ গৌতম গম্ভীর। তিনি বলেছিলেন, ‘বৈভব ভাল ফর্মে ছিল ঠিকই। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে যারা ভাল খেলেছে, তাদের জন্য কখনও কখনও ওকে নিজের সুযোগের অপেক্ষা করতে হবে।’
সমাজমাধ্যমে তৈরি হওয়া চাপও যে দল নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে না, তা বুঝিয়ে গম্ভীরের বক্তব্য, ‘সমাজ মাধ্যম বা বাইরের কোনও চাপ আমাদের একাদশ ঠিক করে না। ড্রেসিংরুমে কোচ ও অধিনায়ক মনে করবেন কারা দলকে জেতাতে পারে, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় ধরে যারা ভাল খেলেছে, তাদের পারফরম্যান্সও দেখতে হবে।’
গম্ভীর আরও মনে করেন, কয়েকটি ম্যাচে ব্যর্থতার জন্য অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সরিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। তাঁর কথায়, ‘বৈভব খেললে অভিষেক বা সঞ্জুর মধ্যে কাউকে নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দেড়-দু’বছর ধরে যে কম্বিনেশন এত ভাল ফল দিয়েছে, তিন-চারটে ব্যর্থতার পরেই সেটা ভেঙে দেওয়া যায় না। তাই কখনও কখনও সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হয়।’
শুধু ব্যাটিং নয়, ভারতের পেস আক্রমণ নিয়েও ভাবতে হচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্টকে। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে শুরুতেই ১৬ রান দিয়েছিলেন ময়ঙ্ক যাদব। পরে অবশ্য গুরুত্বপূর্ণ শেরফেন রাদারফোর্ডের উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। তাঁর জায়গায় নীতীশ কুমার রেড্ডিকে খেলিয়ে নতুন বলে তাঁকে ব্যবহার করার কথা ভাবা হতে পারে।
স্পিন বিভাগে অবশ্য কুলদীপ যাদব এবং অক্ষর পটেলের জায়গা আপাতত বেশ পাকা। প্রথম ম্যাচে দু’জনেই দু’টি করে উইকেট নিয়েছিলেন। নমন ধীরও অফস্পিনে ৩১ রানে তিন উইকেট নিয়ে নজর কেড়েছেন।
অন্যদিকে, প্রথম ম্যাচে ১৭১ রানে অলআউট হওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজও ব্যাটিংয়ে বড় রান করতে মরিয়া। শাই হোপ, শিমরন হেটমায়ার, রভম্যান পাওয়েল, রস্টন চেজ, রোমারিয়ো শেফার্ডদের নিয়ে তাদের ব্যাটিং যথেষ্ট শক্তিশালী। ভারতীয় দলে যশপ্রীত বুমরাহ না থাকায় সেই সুযোগ কাজে লাগাতে চাইবে ক্যারিবিয়ানরা।
শুক্রবার রাঁচিতে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি। ভারত জিতলে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-০ এগিয়ে যাবে। কিন্তু তার আগেই নজর থাকবে টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্তে— সঞ্জুর উপর আস্থা থাকবে, নাকি ফের জাতীয় দলের একাদশে দেখা যাবে আগ্রাসী বৈভবকে?




