একটি তারিখ ১৮ এপ্রিল ২০১১। সেই দিন থেকেই নিখোঁজ দুই যুবক। দেখতে দেখতে কেটে গিয়েছে প্রায় ১৫ বছর। বেহালা থানায় অভিযোগ হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করেছে। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট আদালতে জমা পড়েছে ফাইনাল রিপোর্ট। কিন্তু দুই পরিবারের কাছে আজও একটাই প্রশ্ন, তাঁদের ছেলেরা কোথায়?
দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ দুই সন্তানের সন্ধানের দাবিতে আইনি লড়াই চালিয়ে আসছিলেন তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। সেই মামলাতেই এবার বড় পদক্ষেপ কলকাতা হাইকোর্টের। রাজ্য পুলিশের তদন্তে কোনও প্রমাণ না মেলা এবং এত বছরেও দুই যুবকের কোনও সন্ধান না পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে তদন্তভার সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি আর্য দত্তের ডিভিশন বেঞ্চের এই নির্দেশে দীর্ঘ ১৫ বছর পর নতুন করে আশার আলো দেখছেন দুই পরিবার। আদালতের নথি অনুযায়ী, দুই যুবকই ১৮ এপ্রিল ২০১১ থেকে নিখোঁজ। তাঁদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পৃথকভাবে পুলিশ মামলা দায়ের করে। শুরু হয় তদন্ত।
দীর্ঘ তদন্তের পর পুলিশ সংশ্লিষ্ট আদালতে ফাইনাল রিপোর্ট জমা দেয়। সেই রিপোর্টে বলা হয়, দুই যুবকের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কিন্তু পুলিশের তদন্ত শেষ হলেও পরিবারের অপেক্ষা শেষ হয়নি। কারণ, ‘প্রমাণ নেই’ এই রিপোর্টের পরও দুই যুবকের সন্ধান মেলেনি। তাঁরা কোথায় রয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে কী ঘটেছিল, কেন তাঁদের আর খুঁজে পাওয়া গেল না, এই প্রশ্নগুলির কোনও নিশ্চিত উত্তরও সামনে আসেনি।
এই প্রশ্নই দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ধরে তাড়া করে বেড়াচ্ছে দুই পরিবারকে। নিখোঁজ হওয়ার পর প্রথমে ছিল উৎকণ্ঠা। তারপর সেই উৎকণ্ঠাই বদলে যায় দীর্ঘ অপেক্ষায়। মাস পেরিয়েছে, বছর পেরিয়েছে। ২০১১ থেকে ২০২৬ সাল সময় এগিয়ে গেলেও দুই যুবকের হদিশ মেলেনি। আদালতের পর্যবেক্ষণেও উঠে এসেছে সেই বিষয়টি। আদালত জানিয়েছে, দুই নিখোঁজ যুবকের অবস্থান সম্পর্কে রাজ্য এখনও তাঁদের পরিবার কিংবা আদালতকে কোনও তথ্য দিতে পারেনি।
এই পরিস্থিতিতেই দীর্ঘদিনের তদন্তকে নতুনভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে। দুই মামলাই ২০১১ সাল থেকে কলকাতা হাইকোর্টে বিচারাধীন। মামলার শুনানির সময় নিখোঁজ দুই যুবকের পরিবারের পক্ষ থেকে সিবিআই-এর হাতে তদন্তভার তুলে দেওয়ার আবেদন জানানো হয়। পরিবারের হয়ে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী।
আরও পড়ুন: বর্ষা বিদায়ের মুখেও ভিজবে কলকাতা-সহ দক্ষিণ! পুজোর কেনাকেটায় বাধা হবে বৃষ্টি?
সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সিবিআই-কে নোটিশ দেয়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে দুই যুবকের কোনও সন্ধান না পাওয়া এবং রাজ্যের তদন্তে তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে কোনও নির্দিষ্ট তথ্য সামনে না আসার বিষয়টি বিবেচনা করে তদন্তভার সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় আদালত।




