ডুরান্ড কাপের ফাইনালে ১-৪-এ হারতে হয়েছিল তাঁর দলকে। ফুটবলের চাণক্য আন্তোনিও লোপেস হাবাসের কৌশলের কাছে হার মানতে হয়েছিল গ্রিক কোচ প্যানাগিওতিস দিমপেরিসকে। এ বার কি তাঁর বদলা নিতে পারবেন? একেই ডার্বি, যেখানে জয় ছাড়া আর কিছুই ভাবে না দুই প্রধান। তার ওপর শিল্ড ফাইনাল এবং বদলা নেওয়ার সুযোগ। চাপ যে সবুজ-মেরুন ব্রিগেডের ওপরই বেশি, এই নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
মোহনবাগান কোচও মেনে নিচ্ছেন চাপ আছে। তবে তাঁর ব্যাখ্যা একটু অন্যরকম। ডুরান্ড ফাইনালে হার ফের এক ডার্বিতে তাঁর দলকে কতটা প্রেরণা জোগাবে, তা জানতে চাইলে বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে প্যানোস বলেন, ‘প্রথম ডার্বির আগে আমি যে কথাটা বলেছিলাম, সেটাই আবার বলব— আমার ওপর চাপটা ফলাফল থেকে আসে না, নিজের তাগিদ থেকেই আসে। তাই আমি গোয়া এফসির বিরুদ্ধে খেললেও চাপ অনুভব করি, ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধেও চাপ অনুভব করি। বিশ্বাস করুন বা না করুন, আমার কাছে ব্যাপারটা একই রকম। তাই এই ম্যাচে কোনো বাড়তি চাপে ভুগছি, এ কথা বলতে পারব না’।
শিল্ড ফাইনালে ওঠার পথে একাধিকবার হোঁচট খেতে হয়েছে সবুজ-মেরুন বাহিনীকে। গ্রুপ পর্বে নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে তারা ১-১ ড্র করে। সেমিফাইনালে পাঞ্জাব এফসি-র বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য থাকার পর টাই ব্রেকারে ৪-৩-এ জেতে গোলকিপার বিশাল কয়েথের দক্ষতায়।
তাঁর দলে গোলের খরা নিয়ে গ্রিক কোচের মন্তব্য, ‘নর্থইস্টের বিরুদ্ধে ম্যাচে আমরা অনেকগুলো সুযোগ তৈরি করেছিলাম। কিন্তু পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে ব্যাপারটা একরকম ছিল না। সেখানে আমরা অনেক সুযোগ তৈরি করতে পারিনি। ফলে সমস্যাটা আরও বড় হয়েছিল।
আশা করি, আগামীকাল আমরা আবার আমাদের ভালো অভ্যাসে ফিরতে পারব— ভালো আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলব, বারবার বল প্রতিপক্ষের বক্সের মধ্যে নিয়ে যাব, দ্রুত খেলব এবং আরও ভাল মানের ও নিখুঁত ফুটবল খেলব। এই গুণগুলো আমার দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে অবশ্যই আছে। কারণ, তারা ভালো খেলোয়াড়। আর অবশ্যই আমাদের গোল করতে হবে’।
ডুরান্ড কাপ ফাইনালে তাদের হারের একটা বড় কারণ ছিল ক্লান্তি। কারণ, ম্যাচের আগেই শিলং থেকে ফিরতে হওয়ায় অনুশীলন ও রিকভারির পর্যাপ্ত সুযোগও পাননি মোহনবাগান খেলোয়াড়রা। এ বার জাতীয় দলে থাকা ফুটবলারদেরও ক্লান্তির সমস্যা হবে।
জাতীয় দলে থাকা প্রায় হাফ ডজন ফুটবলারের এই সমস্যা নিয়ে দিমপেরিস বলেন, ‘গত রাত থেকেই আমি এবং আমার সহকারীরা, বিশেষ করে সহকারী কোচ, খেলোয়াড়দের এই ওয়ার্কলোড মাপার কাজ করছি। শুধু এই খেলোয়াড়রাই নয়, আরও কিছু খেলোয়াড় রয়েছে। কলকাতা লিগ, আইএফএ শিল্ড এবং জাতীয় দলের হয়ে তারা অনেক সময় মাঠে থেকেছে। এই মুহূর্তে আমি আপনাদের বলতে পারব না কে কতক্ষণ খেলতে পারবে। তবে আমরা চেষ্টা করব, যাতে আগামীকাল সবাই সতেজ এবং ম্যাচ খেলার জন্য প্রস্তুত থাকে’।
আইএসএল শুরু হতে আর এক সপ্তাহও বাকি নেই। এখনই মোহনবাগান কোচকে ফুটবলারদের ওয়ার্কলোড নিয়ে ভাবতে হচ্ছে! তিনি একটু অভিমানের সুরেই জানিয়ে দিলেন, ‘শিল্ড ফাইনালের জন্য তাঁর দল প্রস্তুত। বলেন, আমাদের প্রস্তুত থাকা উচিত। আগামীকালের ম্যাচের জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতেই হবে। এটাই জীবন। প্রতি তিন দিন অন্তর আমাদের ম্যাচ খেলতে হচ্ছে। চার দিন পরেই আইএসএল। তাই আমাদের প্রস্তুত থাকতেই হবে। আমার খেলোয়াড়দের ওপর আমার আস্থা আছে। আমরা প্রস্তুত থাকব’। দলের কারও কোনো চোট-আঘাত নেই বলেও জানিয়ে দেন দিমপেরিস।
এই ডার্বি যে পুরোপুরি আলাদা বলেই মনে করেন তিনি, তা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়ে দিমপেরিস বলেন, ‘এটা একটা আলাদা ম্যাচ। এটা ডার্বি। আমাদের অহংকার, আমাদের সুনাম, আমাদের সমর্থক এবং পরবর্তী ম্যাচগুলোর কথা বিবেচনা করলে, আমাদের এই ম্যাচ জেতা উচিত।অন্তত আমাদের নিজেদের সেরাটা দিতে হবে। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর যেন নিজেদের কাছে এটা না বলতে হয় যে, আমরা ঠিকমতো পরিশ্রম করিনি বা নিজেদের সেরাটা দিইনি’।
দলে বিশাল কয়েথ থাকলেও ম্যাচটাকে যে টাইব্রেকার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যেতে চায় না মোহনবাগান, তা স্পষ্ট জানিয়ে গ্রিক কোচ বলেন, ‘আমার মনে হয়, কেউই টাইব্রেকারে যেতে এবং অতিরিক্ত সময় খেলতে চায় না।কারণ, তিন-চার দিন পরেই আমাদের আইএসএল অভিযান শুরু হয়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, আমাদের বেশ কিছু খেলোয়াড় ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত ম্যাচ খেলেছে এবং আমরা চোটের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন। আমার মনে হয়, ইস্টবেঙ্গলও নিশ্চয়ই এমন পরিস্থিতি চাইবে না’।




