• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 7 October, 2026

শরৎ এল রে: ট্র্যাডিশনাল শাড়ি থেকে রেজিনের চুড়ি, এবার দুর্গাপুজোর ফ্যাশনে থাকছে ঐতিহ্য, নতুনত্ব এবং স্বাচ্ছন্দ্যের মেলবন্ধন

নিউ মার্কেটের সালওয়ার বিক্রেতা তাপস সরকার জানান,'এ মরসুমে থ্রি-পিস সেট, সালওয়ার-কামিজ এবং স্ট্রেট-কাট পোশাকের চাহিদা বেশি। সালওয়ারের মধ্যে ফরাসি স্টাইলের নকশা এবং একই ধরনের ডিজাইনও ভালো বিক্রি হচ্ছে'

শরৎ এল রে: ট্র্যাডিশনাল শাড়ি থেকে রেজিনের চুড়ি, এবার দুর্গাপুজোর ফ্যাশনে থাকছে ঐতিহ্য, নতুনত্ব এবং স্বাচ্ছন্দ্যের মেলবন্ধন

Image: SNS

ট্র্যাডিশনাল শাড়ি থেকে রেজিনের চুড়ি, শিশুদের জন্য আরামদায়ক পোশাক থেকে নতুন ধরনের গয়না—এ বারের দুর্গাপুজোর (Durga Puja) ফ্যাশনে ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুনত্ব এবং স্বাচ্ছন্দ্যের মিশেলই সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে। সাবেকি পোশাকের পাশাপাশি পরীক্ষানিরীক্ষার প্রবণতাও ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে।

ঐতিহ্যবাহী পোশাকের তালিকায় এখনও শাড়িই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। তবে শাড়ি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বদল এসেছে। রায়গঞ্জে উৎসবের মরসুমে (Durga Puja) সুরাতের ‘ঘুঙরু’ শাড়ির চাহিদা বাজারে সবচেয়ে বেশি। নেটের কাপড়ে সূক্ষ্ম কাজ এবং ব্লাউজ-সহ এই শাড়ির চাহিদা ক্রেতাদের মধ্যেই খুবই রয়েছে। ফলে দোকানদারদের ঘন ঘন নতুন স্টক আনতে হচ্ছে। পাশাপাশি গাজি সিল্ক, চন্দেরি, টিস্যু, অর্গাঞ্জা, ব্রোকেড, মটকা, কোটকি, কাস্টমাইজড শিফন এবং বেনারসি মসলিনের শাড়িও ক্রেতাদের তালিকায় রয়েছে।

নিউ মার্কেটের সালওয়ার বিক্রেতা তাপস সরকার জানান,’এ মরসুমে থ্রি-পিস সেট, সালওয়ার-কামিজ এবং স্ট্রেট-কাট পোশাকের চাহিদা বেশি। সালওয়ারের মধ্যে ফরাসি স্টাইলের নকশা এবং একই ধরনের ডিজাইনও ভালো বিক্রি হচ্ছে।’

অন্য দিকে, ওয়েস্টার্ন পোশাকের বাজারে এ বার বডিকন সিলুয়েট এবং টু-পিস পোশাকের চাহিদা বেড়েছে। বিক্রেতা মহম্মদ তাহির হুসেন বলেন, ‘আমাদের কাছে বডিকন পোশাকই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে। মোট চাহিদার প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশই এই ধরনের পোশাক। টু-পিসও ভালো বিক্রি হচ্ছে।’

আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: পুজো এসে গিয়েছে, কেমন চলছে হাতিবাগান-নিউ মার্কেট-গড়িয়াহাটের কেনাকাটা

কলকাতার পোশাকের বাজারে বিভিন্ন ধরনের কাপড় নিয়েও ক্রেতাদের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। রোমান গ্লাস, মলমল এবং চন্দেরির মতো কাপড় নজর কাড়ছে। গত মরসুমে রোমান সিল্কের জনপ্রিয়তা থাকলেও এ বার রোমান গ্লাসের চাহিদা তুলনামূলকভাবে বেশি। তবে রোজকার পোশাক থেকে উৎসবের সাজ—দুই ক্ষেত্রেই সুতির কাপড়ের জনপ্রিয়তা এখনও অটুট।

ড্রেসের পাশাপাশি বদল এসেছে গয়নার দুনিয়াতেও। কাঠের গয়না, রেজিনের চুড়ি, অ্যান্টি-টার্নিশ চেন, অক্সিডাইজড জুয়েলারি এবং আংটির পাশাপাশি সাবেকি গয়নাও বিক্রি হচ্ছে। হাতিবাগানের গয়না বিক্রেতা আমির ওসমান বলেন, ‘এ বার কাঠের গয়নার বিক্রি বেড়েছে। রেজিনের গয়না আবার এই মরসুমের নতুন সংযোজন।’

কানের দুলের ক্ষেত্রে কাশ্মীরি ঝুমকা বিশেষ জনপ্রিয়তা রয়েছে। তার পাশাপাশি ছোট আকারের দুল, কোরিয়ান ধাঁচের ডিজাইন এবং ওয়েস্টার্ন স্টাইলের ইয়াররিংয়ের চাহিদাও রয়েছে।

গয়না ডিজাইনার সায়ক চক্রবর্তী মনে করেন, অষ্টমী বা দশমীর মতো বিশেষ দিনগুলিতে সাবেকি গয়নার গুরুত্ব তো থাকবেই। তবে সোনা ও রুপোর দাম উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়ে যাওয়ায় পিতলের গয়নার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। তাঁর কথায়, তরুণ প্রজন্ম এখন গয়নার ধাতুর চেয়ে তার নকশা ও কারুকার্যকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। একসময় পিতল জিনিস তৈরির উপকরণ হিসেবে দেখা হলেও এখন তার নান্দনিক দিকটি গুরুত্ব পাচ্ছে।

স্টাইলিস্ট অনুপম চট্টোপাধ্যায়ের মতে, এ বারের পুজোর ফ্যাশনে জাঁকজমকের বদলে প্রাধান্য পাবে পরিমিত সৌন্দর্য। সাদা, আইভরি, সোনালি, বেজ এবং প্যাস্টেল শেড জনপ্রিয় হবে বলে তাঁর ধারণা। পাশাপাশি লাল, কমলা, গোলাপি, নীল ও হলুদ রঙ উৎসবের সাজে উজ্জ্বলতা বাড়াবে।

আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: দুর্গাপুজোর মণ্ডপে একসঙ্গে আরতি ও আজান, তিনশো বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে বাংলার এক বনেদি পরিবার

তাঁর মতে, পুজোর (Durga Puja) পোশাকে স্বাচ্ছন্দ্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। কম এমব্রয়ডারি, ঢিলেঢালা কাট, স্টেটমেন্ট জুয়েলারি, টিপ, মোজরি এবং খোলা জুতোর মতো অনুষঙ্গ এ বার জনপ্রিয় হতে পারে। অনুপমের কথায়, ‘কোনও সেলিব্রিটির সাজ বা অনলাইনে ট্রেন্ডিং কোনও লুক দেখে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু সেটিকে নিজের মতো করে নেওয়ার প্রবণতাও বাড়ছে। নিজের পছন্দ ও সৃজনশীলতা দিয়ে সেই লুক বদলে নেওয়া যায়। প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব স্টাইল এবং ত্বকের রং আলাদা।’

পুজোর ফ্যাশনে (Durga Puja) শিশুদের পোশাকেও বদল দেখা যাচ্ছে। শিশুদের পোশাকের দোকানের মালিক স্বাগতা দাস জানান, অভিভাবকেরা এমন পোশাক চাইছেন যা দেখতে উৎসবের মতো, আবার শিশুরা যাতে স্বচ্ছন্দে তা পরে ঘোরাফেরা করতে পারে।

সুতির কাপড়, লিনেন, প্রকৃতিপ্রেরিত প্রিন্ট এবং হাতে তৈরি কাজের পোশাকের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। ছেলেদের ধুতি-পাঞ্জাবি এবং মেয়েদের এমব্রয়ডারি করা পোশাকের মতো সাবেকি পোশাকও থাকছে, তবে সেগুলিতেও যোগ হচ্ছে আধুনিক নকশা ও কাটছাঁট। অর্থাৎ এ বারের পুজোর ফ্যাশনে ঐতিহ্য থাকছে, তবে তার সঙ্গে জুড়ে যাচ্ছে ব্যক্তিগত স্টাইল, নতুনত্ব এবং সবচেয়ে বড় বিষয়—আরাম।

দেখুন: