• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 6 October, 2026

শরৎ এল রে: দুয়ারে দুর্গাপুজো, তার আগে পদ্ম ফুলের জোগানে ব্যস্ত মালদহের মুসলিম চাষিরা

মালদহের জলাশয় থেকে পুজো মণ্ডপে পদ্ম পৌঁছে যাওয়ার এই যাত্রা আসলে পারস্পরিক নির্ভরতার এক নীরব ছবি। মুসলিম চাষিরা ফুল চাষ ও সংগ্রহ করেন, ব্যবসায়ীরা তা সংরক্ষণ ও বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে দেন  আর হিন্দু ভক্তরা সেই ফুল দেবীর পুজোয় নিবেদন করেন

শরৎ এল রে: দুয়ারে দুর্গাপুজো, তার আগে পদ্ম ফুলের জোগানে ব্যস্ত মালদহের মুসলিম চাষিরা

Image: SNS

পদ্ম ফুল ছাড়া সন্ধিপুজো (Durga Puja) অসম্পূর্ণ। পুজো যত এগিয়ে আসছে তাই ব্যস্ততা বাড়ছে পদ্মচাষি ও ব্যবসায়ীদের। ফুলের জোগান যাতে কোনও ভাবেই ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন তাঁরা।

মালদহে পদ্ম চাষ ও সংগ্রহের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে মুসলিম সম্প্রদায়। তাঁদের কাছে জীবিকার অন্যতম অবলম্বন হল পদ্ম ফুল। অন্যদিকে, হিন্দুদের কাছে এই ফুলই হয়ে ওঠে ভক্তি ও পুজোর অর্ঘ্য। জীবিকা ও ধর্মীয় বিশ্বাসের এই চিত্রই মালদহের দুর্গাপুজোকে (Durga Puja) এক অনন্য মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে।

হিন্দু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে পদ্মের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। দুর্গাপুজোর (Durga Puja) সন্ধিতে ১০৮টি পদ্ম ফুল দেওয়ার বিশেষ রীতি রয়েছে। তবে মুসলিম পদ্মচাষিদের কাছে এই ফুলের অর্থ অন্যরকম। এটি তাঁদের কাছে কঠোর পরিশ্রম এবং জীবিকার প্রতীক।

আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: রাবণকে বধ করতে পদ্মফুল সাহায্য করেছিল, জানুন কীভাবে

পদ্মচাষি বরকত শেখ জানিয়েছেন,  ‘মালদহ এবং সংলগ্ন এলাকার বিভিন্ন পুকুর, জলাশয় ও জলাভূমি থেকে আমরা পদ্ম সংগ্রহ করি। সাধারণত ফুল সংগ্রহ করার পরই তা বাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়। কিন্তু দুর্গাপুজোর সময় চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। তাই পুজোর আগে থেকেই ফুল সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করি, যাতে উৎসবের সময় কোনও ঘাটতি না দেখা দেয়।‘

মুসলিম চাষিদের চাষ ও সংগ্রহ করা সেই পদ্মই শেষ পর্যন্ত মালদহের কয়েকশো হিন্দু পরিবার এবং পুজো মণ্ডপে (Durga Puja) পৌঁছে যায়। সেখানেই দেবী দুর্গার চরণে অর্পিত হয় সেই ফুল।

বরকত শেখের কথায়, ‘এটাই আমাদের জীবিকা। অনেক পরিশ্রম করে ফুল চাষ করি, সংগ্রহ করি এবং বাজারে বিক্রি করি। দুর্গাপুজোর (Durga Puja) সময় চাহিদা অনেক গুণ বেড়ে যায়। আমাদের চাষ করা ফুল পুজোর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে—এটা আমাদের কাছেও আনন্দের।‘

মালদহ কোল্ড স্টোরেজ ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি উজ্জ্বল সাহা জানান, দুর্গাপুজোর (Durga Puja) সময় পদ্মের জোগান ঠিক রাখতে সংরক্ষণ ব্যবস্থা কাজে লাগানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন: শরৎ এল রে (বিদেশের পুজো): হাজার মাইল দূরে আমস্টারডামে দুর্গাপুজোর প্রস্তুতিতে প্রবাসী বাঙালিরা

তিনি বলেন, ‘মালদহের ছোট-বড় বিভিন্ন দুর্গাপুজোয় (Durga Puja) এখান থেকে পদ্ম সরবরাহ করা হয়। জেলার বাইরের বিভিন্ন পুজো কমিটির কাছেও ফুল পাঠানো হয়। এ বছর পুজোর (Durga Puja) সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনই পদ্মের চাহিদাও বেড়েছে। তাই আগের বছরের তুলনায় বেশি পরিমাণ ফুল সংরক্ষণ করা হচ্ছে।‘

মালদহের জলাশয় থেকে পুজো মণ্ডপে পদ্ম পৌঁছে যাওয়ার এই যাত্রা আসলে পারস্পরিক নির্ভরতার এক নীরব ছবি। মুসলিম চাষিরা ফুল চাষ ও সংগ্রহ করেন, ব্যবসায়ীরা তা সংরক্ষণ ও বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে দেন  আর হিন্দু ভক্তরা সেই ফুল দেবীর পুজোয় (Durga Puja) নিবেদন করেন।

দুর্গাপুজোর (Durga Puja) আবহে তাই মালদহের পদ্মফুল একটি বার্তাই দেয়, বিশ্বাস আলাদা হতে পারে কিন্তু জীবিকা, বাজার এবং দৈনন্দিন মানবিক সম্পর্কের বন্ধন একই।

দেখুন: