আইএফএ শিল্ড সেমিফাইনালে দুরন্ত ফুটবল খেলল ইস্টবেঙ্গল। শেষ চারের ম্যাচে নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসিকে লন্ডভন্ড করে ৭-২ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে চলে গেল হলুদ ব্রিগেড। দলের হয়ে হ্যাটট্রিক করলেন ডেভিড লালনসাঙ্গা।
সোমবার কিশোরভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ম্যাচের শুরুতেই অবশ্য পিছিয়ে পড়েছিল ইস্টবেঙ্গল। খেলার ২ মিনিটে বক্সের মধ্যে ডিফেন্ডার জিভুলিচের মিস পাস ধরে গোল করে যান আলাদিন আজারাই। তবে পিছিয়ে পড়ে খেলায় ফেরে লাল হলুদ ব্রিগেড এবং মাঝমাঠের দখল নেয় আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের দল। খেলার ১২ মিনিটে ইকোনমিডিসের ক্রস থেকে সমতায় ফেরান ডেভিড। এরপরেই কার্যত আক্রমণের ঝড় তুলতে থাকে ইস্টবেঙ্গল। যেই ঝড়ে খড়কুটোর মতো উড়ে যায় নর্থইস্ট ইউনাইটেড। ২৩ মিনিটে দানি রামিরেজের ক্রস থেকে লাল হলুদ ব্রিগেডকে এগিয়ে দেন রোহিত কুমার। তারপরেই রামিরেজের শট গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন নর্থইস্ট রক্ষণভাগের খেলোয়াড়। পরের মিনিটেই ডেভিডকে বক্সের মধ্যে ফাউল করলে ন্যায্য পেনাল্টি থেকে বঞ্চিত হয় হাবাসের দল। প্রথমার্ধের ৪৩ মিনিটে বিষ্ণুর ক্রস থেকে দলের তৃতীয় গোলটি করেন ক্রিস ইকোনোমিডিস।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আবার গোল ইস্টবেঙ্গলের। বিষ্ণুর মাপা ক্রস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ডেভিড। ৪-১ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পরেও আক্রমণ থেকে সরে সরে থাকেনি লাল হলুদ ব্রিগেড। ইকোনোমিডিসের ক্রস থেকে হ্যাটট্রিক করেন ডেভিড। নর্থইস্ট গোলরক্ষক মোহনরাজকে কিছুটা এগিয়ে থাকতে দেখে দুই ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে গোল করেন মিজোরামের এই স্ট্রাইকার। এদিন ম্যাচের সেরাও নির্বাচিত হন তিনি।
৫-১ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর নবাগত দুই বিদেশি একে লোবা এবং লুকাস জেলোনোস্কিকে মাঠে নামান কোচ হাবাস। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের ভুলে ৮৪ মিনিটে নর্থইস্টের হয়ে একটি গোল পরিশোধ করেন আলাদিন। ৮৫ মিনিটেই লাল হলুদ জার্সিতে অভিষেক ম্যাচে গোল করে যান একে লোবা। ডান পায়ের ভলিতে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। এই ম্যাচে বেশ নজর কাড়লেন আইভরি কোস্টের এই ফুটবলার।
পাশাপাশি দুরন্ত ফুটবল উপহার দিলেন নবাগত লুকাস জেলোনোস্কিও। অভিষেক ম্যাচে গোল পেলেন তিনি। খেলার সংযুক্তি সময়ের শুরুতে (৯০+১) গোল করে যান জেলোনোস্কি। শেষদিকে, লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন নর্থইস্টের ফুটবলার সামতে। ইস্টবেঙ্গল ৭-২ গোলের ব্যবধানে জিতে শিল্ডের ফাইনালে উঠল ইস্টবেঙ্গল। ফাইনালে চির প্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের মুখোমুখি হবে লাল হলুদ ব্রিগেড।
ম্যাচ দেখতে মাঠে এসেছিলেন আই এম বিজয়ন, এম সুরেশ এবং যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়।




