• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 5 October, 2026

দশ বছর পর কলকাতায় ফিরে উরুগুয়েকে সতর্ক করলেন দিয়েগো ফোরলান, ‘সময়, জায়গা দিলে ভারত বিপদে ফেলতে পারে’

আর কলকাতার খাবার? রসগোল্লা, মাছ না কি বিরিয়ানি—কী খেয়েছেন উরুগুয়ের ফুটবলাররা? প্রশ্ন শুনে হেসে ফোরলানের উত্তর, ‘এখন তো ওসব কিছুই খেতে পারছি না। তবে ‘আসাদো’ (উরুগুয়ের বিখ্যাত খাবার) খুব মিস করছি। হয়তো ম্যাচের পরে কিছু ভারতীয় ডিশ চেখে দেখতে পারি’।

দশ বছর পর কলকাতায় ফিরে উরুগুয়েকে সতর্ক করলেন দিয়েগো ফোরলান, ‘সময়, জায়গা দিলে ভারত বিপদে ফেলতে পারে’

Photo: X

দশ বছর আগে এসেছিলেন ফুটবলার হিসাবে। এ বার ফিরেছেন উরুগুয়ের কোচ হয়ে। বদলেছে শুধু ভূমিকা, ভারতের প্রতি দিয়েগো ফোরলানের টানটা অবশ্য একই রকম আছে। দিয়েগো ফোরলানের উরুগুয়ে দলের সামনে মঙ্গলবার যুবভারতীতে ভারত। তার আগে নিজের পুরনো স্মৃতির শহর কলকাতা নিয়ে যেমন নস্টালজিক প্রাক্তন উরুগুয়ে তারকা, তেমনই প্রতিপক্ষ ভারতকেও যথেষ্ট সমীহ করছেন তিনি।

২০১৬-য় মুম্বই সিটি এফসি-র হয়ে আইএসএলে খেলেছিলেন ফোরলান। কলকাতা-সহ দেশের বিভিন্ন শহরে ঘুরে খেলার অভিজ্ঞতা এখনও তাঁর স্মৃতিতে টাটকা। ফোরলানের কথায়, ‘এখানে এসেছিলাম প্রায় ১০ বছর হয়ে গেল। মুম্বই সিটির হয়ে আইএসএলে খেলার সুযোগ পেয়েছিলাম। ছ’মাস এখানে ছিলাম। কলকাতা, মুম্বই-সহ বিভিন্ন শহরে খেলেছি। খুব সুন্দর একটা দেশকে কাছ থেকে দেখেছিলাম। অনেক মানুষ এবং অনেক ভাল ফুটবলার রয়েছে এখানে’।

কলকাতার ফুটবল উন্মাদনাও ভুলতে পারেননি ফোরলান। তাঁর স্মৃতিতে এখনও তাজা যুবভারতীর ভরা গ্যালারি। বললেন, ‘যখনই এখানে আমাদের দল খেলত, স্টেডিয়াম ভর্তি থাকত। কলকাতা, কেরল, গোয়া এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের মতো জায়গাগুলিতে ফুটবলের প্রতি মানুষের আবেগ খুব বেশি। এখানকার মানুষ ফুটবলকে খুব ভালবাসেন। ভাল ফুটবলারও রয়েছে’।

ভারত যে শুধু ফুটবলপ্রেমীদের দেশ নয়, ভবিষ্যতে এ দেশের জাতীয় দলও আরও উন্নতি করতে পারে—সেই আশাও দেখছেন উরুগুয়ের কোচ। ফোরলানের বক্তব্য, ‘ভারতীয় দল এই ধরনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলছে, এ তো খুবই ভালো। ভবিষ্যতে এমন আরও ম্যাচ খেলা উচিত। এই ধরনের ম্যাচ থেকে ওরা শিখতে পারবে এবং আরও ভাল দল হয়ে উঠতে পারবে’।

ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ভারতের ম্যাচ গ্যালারিতে বসে দেখেছেন ফোরলান। ভারত জিততে পারেনি ঠিকই, কিন্তু সেই ম্যাচে ভারতের কিছু ইতিবাচক দিক তাঁর নজর এড়ায়নি। ফলে মঙ্গলবারের ম্যাচকে কোনও ভাবেই হালকা ভাবে নেওয়ার পক্ষপাতী নন তিনি।

ফোরলান বলেন, ‘ভারতীয় দলে কয়েক জন খুব ভাল ফুটবলার রয়েছে। ওরা জানে কী করতে হবে। বেশ কিছু ভাল কম্বিনেশনও দেখেছি। আমরা যদি ওদের সময় এবং জায়গা দিই, তা হলে ওরা আমাদের বিপদে ফেলতে পারে। ওরা ভাল ফুটবল খেলছে। আনাদের প্রত্যেক প্রতিপক্ষকেই সম্মান করতে হবে’।

প্রায় এক সপ্তাহ ধরে কলকাতায় রয়েছে উরুগুয়ের কোচ-ফুটবলাররা। ফুটবলের বাইরেও শহরকে কিছুটা দেখার সুযোগ হয়েছে তাঁদের। কলকাতার আতিথেয়তায় মুগ্ধ ফোরলান। বললেন, ‘এখানকার মানুষ খুবই বিনয়ী এবং আতিথেয়তাও দারুণ। ভারতে যত বার এসেছি, সবার কাছ থেকে খুব ভাল ব্যবহার পেয়েছি’।

শহর ঘোরার অভিজ্ঞতাও হয়েছে উরুগুয়ের ফুটবলারদের। রবিবার তাঁরা ছুটির কলকাতায় ভিক্টোরিয়া, ইডেন ঘুরেছেন। এমনকী, ইডেনে গিয়ে ক্রিকেটও খেলেছেন। যদিও সময় এবং বৃষ্টির কারণে খুব বেশি কিছু দেখা সম্ভব হয়নি। ফোরলানের কথায়, ‘আমরা খুব সামান্যই দেখতে পেরেছি। ভারত খুব বড় দেশ। তবে এখানকার সংস্কৃতি খুবই ঐতিহাসিক। তাই এখানে সময় কাটাতে ভাল লাগে’।

আর কলকাতার খাবার? রসগোল্লা, মাছ না কি বিরিয়ানি—কী খেয়েছেন উরুগুয়ের ফুটবলাররা? প্রশ্ন শুনে হেসে ফোরলানের উত্তর, ‘এখন তো ওসব কিছুই খেতে পারছি না। তবে ‘আসাদো’ (উরুগুয়ের বিখ্যাত খাবার) খুব মিস করছি। হয়তো ম্যাচের পরে কিছু ভারতীয় ডিশ চেখে দেখতে পারি’।

দশ বছর আগে কলকাতায় এসেছিলেন মাঠে নেমে ফুটবল খেলতে। মঙ্গলবার সেই কলকাতাতেই ডাগআউটে দাঁড়িয়ে ভারতকে আটকানোর দায়িত্ব নেবেন উরুগুয়ের কোচ হিসেবে। তবে তাঁর কথাতেই স্পষ্ট—ব্রাজিলের কাছে ০-৪ হারলেও ভারতকে একেবারেই সহজ প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছে না উরুগুয়ে।